হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তরবঙ্গের লাল ইটের গৌরব

কামরুল হাসান

কৃষিপ্রধান সবুজ প্রকৃতির বুকে, লাল ইটের সাম্রাজ্যে, সীমান্তঘেঁষা উত্তরবঙ্গের দিনাজপুরে গড়ে উঠেছে জ্ঞানের আলোকবর্তিকা— হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। দিনাজপুর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে বাঁশেরহাট নামক স্থানে ছায়াঘেরা, শান্ত পরিবেশে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়। দুই যুগেরও অধিককাল ধরে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা এ প্রতিষ্ঠান ক্রমেই জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং বিকশিত করছে শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা। বিস্তারিত লিখেছেন

দেশের খাদ্যভান্ডার হিসেবে পরিগণিত উত্তরাঞ্চলে উচ্চতর কৃষিশিক্ষার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে দেশের মানুষের শিক্ষা ও কৃষি উন্নয়নে সামগ্রিক ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (এইটিআই) মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গোড়াপত্তন হয়, যেখানে কৃষিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি দেওয়া হতো।

পরে ১৯৮৮ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ হিসেবে এটিকে রূপান্তরিত করা হয় এবং উত্তরবঙ্গের কৃষকনেতা ও তেভাগা আন্দোলনের পথিকৃৎ হাজী মোহাম্মদ দানেশের নামানুসারে নামকরণ করা হয়। একই সঙ্গে কৃষিতে স্নাতক ডিগ্রি প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়।

পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় : নতুন দিগন্তের উন্মোচন

উত্তর জনপদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের গুরুত্ব বিবেচনায়, উচ্চশিক্ষার বিস্তার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ২০০০ সালে কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার উদ্দেশ্যে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় এবং ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এটিই উত্তরবঙ্গের প্রথম এবং দেশের দ্বিতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। মৃত্তিকা বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো. মোশাররফ হোসাইন মিঞা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব

বর্তমানে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি অনুষদের অধীনে ৪৫টি বিষয়ে সনদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে স্নাতকপর্যায়ে আটটি অনুষদের অধীনে ২৩টি বিষয় এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে একটি অনুষদের অধীনে ২২টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট অনুষদগলোয় জ্ঞান অর্জন করছে। প্রায় ৪২১ জন দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের মেধা, প্রজ্ঞা ও পরিশ্রমে সমৃদ্ধ এই বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে এক বিশাল জ্ঞানচর্চার বাতিঘরে পরিণত হয়েছে।

ভৌত অবকাঠামো

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মূলত হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষি কলেজের অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে কার্যক্রম শুরু করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল ও ক্রমবর্ধমান কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু এবং পরিকল্পিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে আরো বিভিন্ন ভৌত সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে—পাঁচটি একাডেমিক ভবন; চারটি ছাত্রী হলসহ ৯টি আবাসিক হল; ১০০ আসনের একটি সেমিনার কক্ষ; অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসংবলিত একটি কেন্দ্রীয় গবেষণাগার এবং একটি প্রশাসনিক ভবন। ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে রয়েছে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), যেখানে ক্যাফেটেরিয়া, ছাত্র সংসদ ভবনসহ সাংস্কৃতিক চর্চার সুব্যবস্থা রয়েছে।

এছাড়া ২৫ হাজারেরও বেশি বই, গবেষণালব্ধ থিসিস, রিপোর্ট ও জার্নালসমৃদ্ধ একটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি; উন্নতমানের ক্রীড়া সরঞ্জামসমৃদ্ধ জিমনেসিয়াম; খেলার মাঠ; নিজস্ব ছয়জন চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্সসহ ১২ শয্যার আধুনিক মেডিকেল সেন্টার; ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ; ৬০০ ও ২৫০ আসনের দুটি সুসজ্জিত অডিটোরিয়াম; শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ক্লাব; একটি ভিআইপি গেস্ট হাউস; দুটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ; শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসনের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভবনে ১৩৬টি আবাসিক ইউনিট; একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার; একটি শিশু পার্ক; রূপালী ও মেঘনা ব্যাংকের শাখা; পোস্ট অফিস; শ্রমিক ব্যারাক; স্কুল প্রভৃতি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধা ও নিজস্ব বৈদ্যুতিক লাইন। যাতায়াতের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, জিপ ও পিকআপের ব্যবস্থাও রয়েছে।

সুশোভিত বোটানিক্যাল গার্ডেন

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুষ্প্রাপ্য গাছগাছালির আকর্ষণীয় সংগ্রহ নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সমৃদ্ধ বোটানিক্যাল গার্ডেন, যা ক্যাম্পাসের শোভা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে। এই বোটানিক্যাল গার্ডেনে রয়েছে ২৫০ প্রজাতির ফুল, ১০৫ প্রজাতির ফল, ৩০০-এর অধিক শোভাবর্ধক বৃক্ষ, ৩০ প্রজাতির মসলা এবং ৩০ প্রজাতির ঔষধিগাছ। প্রজাতির এ বৈচিত্র্য ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

গবেষণায় উৎকর্ষতা

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম মূলত দুটি প্রধান ধারায় পরিচালিত হয়—ডিগ্রি গবেষণা এবং প্রকল্প গবেষণা।

এমএস, এমবিএ ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ডিগ্রির অংশ হিসেবে ডিগ্রি গবেষণা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। পক্ষান্তরে, বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো বহিঃস্থ সংস্থার অর্থায়নে প্রকল্পভিত্তিক গবেষণা পরিচালিত হয়ে থাকে। গবেষণা প্রকল্পগুলো সুষ্ঠুভাবে সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ২০০৪ সালে আইআরটি (ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং) প্রতিষ্ঠা করা হয়।

শতাধিক অধ্যাপক ও একদল তরুণ, উদ্যমী শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। উল্লেখযোগ্য গবেষণার মধ্যে রয়েছে—রাসায়নিক ও কীটনাশকমুক্ত ধান উৎপাদন, ‘হাজী’ ও ‘দানেশ’ নামে দুটি কুমড়ার জাত উদ্ভাবন, করলার উচ্চ ফলনশীল জাত, ব্যাকটেরিয়ার জীবনরহস্য উদ্ঘাটন, অ্যান্টি-ডায়াবেটিক বিস্কুট উদ্ভাবন, চেরি টমেটোর উচ্চ ফলনশীল জাত এবং টু-স্টেজ গ্রেইন ড্রায়ারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন। এসব গবেষণাসমৃদ্ধ কৃষি ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা প্রায় সাত হাজারের অধিক। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা ৪০-৫০ হাজারবার উদ্ধৃত (সাইটেড) হয়েছে। ‘জার্নাল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ নামে একটি গবেষণা জার্নাল প্রতিবছর দুবার প্রকাশিত হয়।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম

প্রযুক্তি উন্নয়নে ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল থেকে কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি বিষয়ের বিভিন্ন পোস্টগ্র্যাজুয়েট লেভেলে ট্রেনিং কোর্স আছে। এছাড়া ২০১৭ সালে আইকিউএসি (IQAC-Institutional Quality Assurance Cell) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

সহশিক্ষা কার্যক্রম

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মননশীলতার বিকাশে নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তঃসেমিস্টার হল টুর্নামেন্ট, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ধারা বজায় রয়েছে।

আবহমান বাংলার সংস্কৃতি চর্চায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বিশেষ দিবসসহ বছরের নানা সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এছাড়া প্রতিবছর বিভিন্ন হলে (স্টুডেন্টস ডরমিটরি) অন্তঃহল বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুশীলনের সুযোগ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ক সাংস্কৃতিক জোট, সেঁজুতি নাট্যচক্র, রোটার‍্যাক্ট ক্লাব, ডিবেটিং সোসাইটি, সাংবাদিক সমিতি, মজার স্কুল এবং ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজরি সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষামূলক সংগঠন সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ক্যাম্পাসের বিশেষ স্থান

বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে রয়েছে ফোয়ারা চত্বর, ডি বক্স, আই বক্স, ফাঁকিবাজ চত্বর, চিড়িয়াখানা, রিমা চত্বর, এলিয়েন রোড, লিচুবাগান, হতাশার মোড়, ময়না দ্বীপসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বিচিত্র সব নাম। তবে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ক্যাম্পাসের বিশেষ স্থানের নামগুলো।

গল্প, আড্ডা ও উৎসবে ক্যাম্পাসজীবন : প্রাণের উচ্ছ্বাস

এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চা ও গতানুগতিক পড়াশোনার জায়গা নয়; এটি জীবনের স্বাদ আস্বাদনের, আনন্দ-দুঃখ ভাগাভাগি, গল্প ও চায়ের আড্ডায় বন্ধুত্ব তৈরি এবং সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এক বিস্মৃত প্রাঙ্গণ। হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস সর্বদাই থাকে শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর। এর প্রতিটি অধ্যায়ে তৈরি হয় অমোচনীয় ও সুমধুর স্মৃতি। ক্রিয়াশীল সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো তাদের অনবদ্য কার্যক্রমের মাধ্যমে জিইয়ে রাখে ক্যাম্পাসের প্রাণোচ্ছ্বাস। নিয়মিত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, পাঠচক্র আয়োজিত হয়, যা শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া সারা বছর নানা উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনে ছড়িয়ে দেয় আনন্দ, উদ্দীপনা ও সৃজনশীলতার রঙ। গণতন্ত্রচর্চার অংশ হিসেবে এখানে ক্রিয়াশীল রয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে, শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং জাতীয় ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে থাকে এসব সংগঠন।

সর্বাধিক বিদেশি শিক্ষার্থী

ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষস্থানে রয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১২ জন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নেপাল, ভারত, ভুটান, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া এবং নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসছেন। বাংলাদেশে শিক্ষাগ্রহণ শেষে এসব শিক্ষার্থী নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে।

দ্বিতীয় সমাবর্তন : শেকড়ের সন্ধানে

সমাবর্তন হলো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি রোমাঞ্চকর অধ্যায়—একটি মুহূর্তের জন্যই নয়, বরং স্মৃতিতে চিরস্থায়ী হয়ে যাওয়া অধ্যায়, যার সাক্ষী হতে সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। এদিন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা পরিধান করে কালো গাউন এবং মাথায় কালো ক্যাপ, আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। সমাবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী হয়, তাই এই দিনে সবার মধ্যে বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাস বিরাজ করে।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ নভেম্বর ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সমাবর্তনে ৮ হাজার ৩৩ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সমাবর্তন উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সবাই ফিরে গিয়েছিলেন সেই রঙিন দিনগুলোতে, যেখান থেকে তৈরি হতো জীবনবোধ, গল্প এবং সামনে এগিয়ে চলার ইস্পাতদৃঢ় মনোবল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাবিপ্রবি

২০২৪ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৪ জুলাই প্রথম আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা কর্মসূচি সফলভাবে পালন করে। আন্দোলনের সময় যখন ছাত্রলীগ হামলা চালায়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করে। এরপর শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। পরে, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের স্মৃতি রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই সড়ক, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এবং জুলাই চত্বর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অবকাঠামো ও একাডেমিক উন্নয়নে অগ্রযাত্রা

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) থেকে ৫৭৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হওয়ায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও একাডেমিক উন্নয়নের পথে অগ্রযাত্রার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে—

  • ১২-তলা ছাত্র হল
  • ১২-তলা ছাত্রী হল
  • ১২-তলা শিক্ষক-কর্মকর্তা আবাসিক ভবন
  • ১২-তলা একাডেমিক ভবন

এর পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রশাসনিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (চতুর্থ ও পঞ্চমতলা), দোতলা নিরাপত্তা অফিস ও আনসার ব্যারাক, কনফারেন্স সুবিধাসহ জিমনেটরিয়াম এবং মেডিকেল সেন্টারের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (প্রথম ও দোতলা)।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি, ল্যাবরেটরি সুবিধা আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা-গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পিডিএফ-এর ১৫ সদস্য পাচ্ছেন শিক্ষা বৃত্তি

কুবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১৬ হাজার পজিশনেও সাবজেক্ট

ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ

সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, ডাকসুর নিন্দা

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী–সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ডাকসুর নিন্দা

চবিতে দুইদিনে ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন

জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আমার দেশের তাওহীদ, সম্পাদক ওসমান

আবারো ঢাকা কলেজের ফুটপাত দখলের চেষ্টা, রশি টানালেন শিক্ষার্থীরা

মোনাজাতে শহীদ জিয়ার নাম না নেওয়ায় ছাত্রদলের প্রতিবাদ, হট্টগোল

শহীদ মিনারে শিক্ষক সমিতির ‘বিতর্কিত’ শ্রদ্ধা, সাদা দ‌লের প্রতিবাদ