হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের লঘু, হুকুম পালনকারীদের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে

শহীদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধাদের প্রতিক্রিয়া

মো. ইমন আলী, বেরোবি

জুলাই বিপ্লবী শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর তার সহযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত এ রায়কে তারা অসম্পূর্ণ আখ্যা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। রায় প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন স্থানে আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ও ঘনিষ্ঠরা জড়ো হয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারা রায়ের সমালোচনা করে পোস্ট দেন।

আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের লঘু শাস্তি এবং নির্দেশ পালনকারীদের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হত্যার নির্দেশদাতাদের যেন গুরুদণ্ড দেওয়া হয়—আদালতের কাছে এমন দাবি জানান তারা।

শহীদ আবু সাঈদের বোন মোছা. সুমি আক্তার অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমার ভাই জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, যার কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। আমরা এ রায়ের জন্য অনেক প্রত্যাশায় ছিলাম । রায়ে যতটুকু শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। এ রায়ে কাউকে পাঁচ বছর, কাউকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের আরো শাস্তির আশা করেছিলাম। রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ফারুক আহমেদ অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, পুরো রায় দেখে আমার মনে হয়েছে, প্রকৃত অর্থে যারা আসামি তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে রায়ের কিছু দিক আছে, যেগুলো দেখে কিছুটা হলেও সন্তুষ্ট হওয়া যায়। যেমন আসাদ মণ্ডল ও মশিউরের বিষয়গুলো, ভিসিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া এবং দুজনকে ফাঁসির আদেশ—এ অংশগুলো দেখে অন্তত মনে হয়েছে, কিছুটা হলেও বিচার হয়েছে।

আরেক সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর এ রায় প্রকাশ হয়েছে কিন্তু রায় আশানুরূপ হয়নি। কয়েকজন আসামিকে গুরু অপরাধে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুজন কনস্টেবলের সর্বোচ্চ শাস্তি হলেও নির্দেশদাতা পুলিশ সদস্য, সেই সঙ্গে যেসব পুলিশ সদস্য তার শরীরে আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হয়নি।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের উত্তাল মুহূর্তে যারা সম্মুখে থেকে ছাত্রদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জনসমক্ষে অস্ত্র দিয়ে হামলা করেছে, ছাত্রলীগের সেসব সন্ত্রাসীর ন্যূনতম শাস্তি দেওয়া হয়েছে; যা আমাদের জন্য কষ্টের ও হতাশার। আবু সাঈদ জুলাইয়ের প্রথম শহীদ। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশা, তার হত্যার বিচার বাকি সব শহীদের হত্যার বিচারের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। তাই আমি আদালতকে বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।

সহযোদ্ধা নয়ন বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাজা কম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তারা আবু সাঈদ হত্যায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। ছাত্রলীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটোয়া বাহিনী ও হত্যাকাণ্ড সংঘটনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত । তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া দরকার ছিল। যেসব আসামির সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে, তাদের রায় দ্রুত কার্যকর করা এবং যারা পলাতক তাদের দেশে এনে শাস্তি দিতে হবে।

সহযোদ্ধা ও আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী শাহরিয়ার সোহাগ জানান, হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের লঘুদণ্ড এবং নির্দেশ পালনকারীদের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সহযোদ্ধা আহমদুল হক আলভি বলেন, চব্বিশের বিপ্লবের আইকনের বিচারের রায় এতদিন হয়নি—এটা মোটেও প্রত্যাশিত নয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আমরা একটি রায় পেলাম, এটা কিছুটা প্রাপ্তি। কিন্তু এ প্রাপ্তির মধ্যেও গভীর হতাশা থেকে যায়। কারণ, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ছিল, সেসব আসামির অনেককে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন নির্দেশদাতাদের ক্ষেত্রে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত নগণ্য এবং ঘটনাটির গুরুত্বের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

চব্বিশের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুহাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সে ভিডিও দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং ছাত্র-জনতার ওই আন্দোলন একপর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

ইবিতে গুচ্ছ ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু

ঢাবিতে অনশনরতদের প্রতি সংহতি জানালেন মামুনুল হক

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জবিতে ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

বিএনপিকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান মামুনুল হকের

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রবিউল, সম্পাদক মাসুদ

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জাবিতে মানববন্ধন

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শাহবাগে মশাল মিছিল

জুলাই সনদ ও সংস্কারসমূহ বাস্তবায়নের দাবি ডাকসুর

নোবিপ্রবিতে ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, মনোবিজ্ঞানী দেখানোর নির্দেশ

জুলাই সনদের সমস্যা বাস্তবায়নে, বিষয়বস্তুতে নয়: শিশির মনির