রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, ছাত্রশিবির এতদিন ছাত্রলীগের আড়ালে লুকিয়ে ছিল, এখন তারা গোপনে বাংলাদেশে রাজনীতি করছে। বাংলাদেশে আবারও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সময়ের দাবি। আবাসিক হল, লাইব্রেরি ও চায়ের স্টলে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধ করতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে রাবি শাখা ছাত্রদল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
এ সময় সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, জামায়াত-শিবির জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর নিজেদের খুনে চরিত্রে প্রকাশ করেছে। সুষ্ঠুভাবে রাজনীতির ধারায় ব্যত্যয় ঘটলে, গত ১৭ বছর যেভাবে তারা গোপন রাজনীতি করেছে, ছাত্রদল তাদের আবারও সেই অবস্থায় ফিরতে বাধ্য করবে। যদি বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থী বা বাংলাদেশপন্থী কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর হামলা করা হয়, তাহলে ছাত্রশিবিরের সেই বিষদাঁত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল উপড়ে পাকিস্তানে ফেলে দেবে।
এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই; জামায়াত-শিবির যেখানে, লড়াই হবে সেখানে; জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে ক্যাম্পাস ছাড়; শিবিরের সন্ত্রাস রুখে দাও, রুখে দাও; জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই করসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল হকের সঞ্চালনায় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও প্রমাণ হয়েছিল, কোনো স্বৈরাচারী সরকার এখানে টিকে থাকতে পারেনি। আমাদের বড় ভুল ছিল একাত্তরের যুদ্ধে অপরাধীদের বিচার করা হলেও তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল। তাদের ছাত্র সংগঠন শিবিরকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করতে হবে।
ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, জামায়াত-শিবির কখনোই ১৯৭১ সালের বিষয়ে কথা বলার অধিকার রাখে না। আজ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্য হত্যার বিচার হতো, তাহলে জামায়াত-শিবির কখনোই রাজনীতি করতে পারত না। রাবির এই মাটি থেকে তাদের দ্রুতই উচ্ছেদ করা হবে। আপনারা যদি ধর্ম প্রচার করতে চান, তাহলে কেন্দ্রীয় মসজিদ রয়েছে, ক্লাসরুমে ধর্ম প্রচার করবেন না, ফেসবুকে ধর্মের দোহাই দেবেন না।
এসময় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জামায়াত-শিবির যেভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে, তার ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কলেজে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার দেখিয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার আমরা প্রতিবাদ জানাই। গুপ্ত লেখাকে কেন্দ্র করে শিবিরের কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়েছে বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানে কারা গোপন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমরা বলতে চাই, আপনারা যদি দ্রুত সুশৃঙ্খলভাবে রাজনীতিতে না ফেরেন, তাহলে গুপ্ত রাজনীতি ও মববাজির রাজনীতি ছাত্রদল আর সহ্য করবে না।
এ সময় বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি শেখ নূর উদ্দীন আবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এশাসহ বিভিন্ন হল ও অনুষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এআরবি