খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হলরোড সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় চুরির অভিযোগে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে পিটিয়ে ও ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মো. আজমুল হোসেন (২২)। তিনি নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং চুয়াডাঙ্গার দর্শনার কুতুবউদ্দিনের ছেলে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা মেস ভবনের ছাদে।
মেসের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে ওই চারতলা ভবনের ছাদে খাবারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির অভিযোগে আজমুলকে আটক করা হয়। এরপর তাকে সেখানে ব্যাপক চড়-থাপ্পড়, মারধর ও মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মেসের শিক্ষার্থীরা তাকে বাবা কুতুবউদ্দিনের সঙ্গে লাউডস্পিকারে ফোনে কথা বলিয়ে দেয় এবং পরদিন খুলনায় আসার জন্য বলে।
তবে নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিনের অভিযোগ, গভীর রাতে কল দিয়ে তার ছেলেকে আটকে রাখার কথা জানানো হয় এবং চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, টাকা দাবি করার পর আমি সকালে ট্রেনে করে খুলনায় আসি। এসে শুনি ছেলে নাকি ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত পিটিয়ে আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্ত এড়াতে ও হয়রানি বন্ধে আমি কোনো অভিযোগ না করে বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।
অবশ্য ১ লাখ টাকা দাবি করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা খুবির এক সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি দাবি করেন, আজমুলকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে পুলিশে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। চুরির শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পেতে বা জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন ছাদের পিচ্ছিল কার্নিশ থেকে আজমুল নিজেই লাফিয়ে পড়ে আহত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাশের ভবনের চারতলা ছাদে এক যুবককে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর তাকে ভবনের নিচে মারাত্মক আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী।
পরে গুরুতর আহত আজমুলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয়ে কয়েকজন যুবক আজমুলকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে নেওয়ার ১০-১৫ মিনিট পরই তার মৃত্যু হয়। যুবকেরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানায়, চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আজমুল আহত হয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের সুনির্দিষ্ট চিহ্ন ছিল এবং মাথার চুল এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। আজমুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে কেটে পড়েন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন জানান, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটেছে, তাই সেখানে সরাসরি আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে আমরা ঘটনাটি জানার পর থেকে পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছি।
হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেডএম