হোম > প্রবাস

ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তরুণদের দেশে বেঁচে ফেরার লোমহর্ষক গল্প

বিবিসি বাংলা

রাজন হোসেনকে (মাঝে) উদ্ধার করে দেশে ফেরত পাঠায় মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। ছবি- বিবিসি বাংলা

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে তরুণদের রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করতে এসব বাংলাদেশিকে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশের পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট। এভাবে রাশিয়ায় পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেশে ফিরেছেন ঝিনাইদহের তরুণ রাজন হোসেন।

রাজনের অভিযোগ, নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গত মে মাসে বাংলাদেশের একটি ট্রাভেল এজেন্সি তাকে রাশিয়ায় পাঠায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তার পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।

রাশিয়ার একটি প্রশিক্ষণশিবিরে তিন সপ্তাহ অস্ত্র চালানোসহ যুদ্ধের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর তাকে ইউক্রেনের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। তার সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া আরও ২৯ জনকেও যুদ্ধে মোতায়েন করা হয়েছিল।

রাজন জানান, যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় তাদের দলের ১৭ জন নিহত হন। পরে বিভিন্ন সময়ে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে তাদের দলের ৩০ জনের মধ্যে ২০ জন মারা গেছেন বলে পুলিশও তথ্য পেয়েছে।

ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থের বিনিময়ে বিদেশি যোদ্ধা নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব যোদ্ধার ক্ষেত্রে সাধারণত সামরিক প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে চাকরির প্রলোভনে নিয়ে যাওয়া তরুণদের অনেকেরই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ছিল না বলে জানা গেছে।

তাহলে তাদের কেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল? পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য তাদের একধরনের ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০-এর (এসআরবি-১০) অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা বুঝতে পেরেছেন, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য বাংলাদেশিদের টোপ হিসেবে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

চার দিনে হামাগুড়ি দিয়ে চার কিলোমিটার

ইউক্রেনে সম্মুখসারিতে পাঠানোর দুই দিনের মাথায় ড্রোন হামলার শিকার হন রাজন হোসেন। এতে তার কোমর ও পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোমরের নিচের অংশ ও দুই পা অবশ হয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে থাকা ওয়াকিটকির মাধ্যমে রুশ সেনাদের কাছে সাহায্য চাইলেও কেউ তাঁকে উদ্ধার করতে আসেনি।

কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর জীবন বাঁচাতে হাত ও বুকের ওপর ভর দিয়ে অবশ দুই পা টেনে সামনে এগোতে শুরু করেন ২১ বছর বয়সী এই তরুণ। এভাবে প্রায় চার দিনে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রুশ সেনাশিবিরে পৌঁছান তিনি।

রাজন বলেন, ওই চার দিন তাকে না খেয়ে থাকতে হয়েছে। খাবার তো দূরের কথা, এক ফোঁটা পানিও পাননি।

কিন্তু এত কষ্টে শিবিরে পৌঁছেও স্বস্তি পাননি তিনি। তার ধারণা ছিল, আহত অবস্থায় ফিরে আসায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হবে। কিন্তু শিবিরে পৌঁছানোর পর কমান্ডার প্রথমেই তার অস্ত্র কোথায়, তা জানতে চান। হামলার স্থানে অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ফেলে আসার কথা জানালে তাঁকে মারধর করা হয়।

পরে একজন সেনা তাকে কমান্ডারের কাছ থেকে সরিয়ে শিবিরের অস্থায়ী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরের কোনো হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করছিলেন রাজন।

তখন এক ব্যক্তি তাকে জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের দলের আরো একজন বাংলাদেশি রয়েছেন, যিনি শিগগিরই মারা যাবেন। ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর রাজনকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়।

রাজন বলেন, ওই ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি কীভাবে আগে থেকেই জানা গেল, তা জানতে চাইলে তাঁকে বলা হয়, তারা বিষয়টি জানেন। তখনই তাঁর মনে হয়, যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

রাজনের অভিযোগ, ইউক্রেনীয় সেনারা কোন কোন স্থান থেকে তাদের ওপর হামলা করছেন, তা শনাক্ত করাই ছিল রুশ সেনাদের উদ্দেশ্য। হামলার স্থানগুলো শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে রুশ বাহিনী। এরপর সেনাদের পাঠানো হতো। আগে সেনা পাঠালে তাঁরা নিহত হতে পারেন, এমনটা রুশ বাহিনী জানত বলেও তার দাবি।

পরে রাজনকে চিকিৎসার জন্য ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানকার একটি হাসপাতালে কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হাসপাতালের একজন চিকিৎসক তাকে সহযোগিতা করেন। পরে দূতাবাসের সহায়তায় আগস্টের শেষ দিকে দেশে ফেরেন তিনি।

তিন এজেন্সির বিরুদ্ধে তদন্ত

নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রাজনকে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়েছিল জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সি। দেশে ফেরার পর রাজন ও তার পরিবার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর অভিযোগের তদন্ত শুরু করে পুলিশের বিশেষ ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

তদন্তে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের পাশাপাশি আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের আরও দুটি এজেন্সির সন্ধান পান কর্মকর্তারা।

এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, এই তিন এজেন্সি বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৩০ জনকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে।

এই চক্রের সঙ্গে দুজন বিদেশি নাগরিক জড়িত থাকার তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের একজন রাশিয়ার নাগরিক ইগর এবং অন্যজন কিরগিজস্তানের নাগরিক জুলিয়া বলে জানা গেছে। ইগরের প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা বলেই ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান।

বিদেশি ওই দুই নাগরিককে আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হলেও বাংলাদেশি এজেন্সিগুলোর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে চিহ্নিত জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান ও আবু তাহের লেন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে ৩০ বাংলাদেশিকে তিনটি দলে ভাগ করে মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রথম দিন ড্রোন হামলায় ১৭ জন নিহত হন। পরে বিভিন্ন সময়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে।

এসআরবি জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলার মাধ্যমে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা হতো। এরপর রুশ বাহিনী ওই স্থানগুলোতে হামলা চালাত।

স্বজনদের শেষ চাওয়া, মরদেহ ফিরে পাওয়া

ইউক্রেনের সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করতে গিয়ে চলতি বছর নিহত ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে—এমন অভিযোগ ও তথ্যের মধ্যে স্বজনদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। নিহতদের অনেকেই নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে কেউ জমি বিক্রি করেছেন, কেউ গরু-ছাগল বিক্রি করেছেন, আবার কেউ ঋণ নিয়েছেন।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিবারও তেমনই একটি পরিবার। ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠাতে গরু-ছাগল বিক্রি, জমি বন্ধক ও ঋণ নিতে হয়েছিল বলে জানান তার বাবা আব্দুল মাজিদ। তার আশা ছিল, ছেলে বিদেশে কাজ করে টাকা পাঠাবেন। সেই টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করবেন, জমি বন্ধকমুক্ত করবেন এবং আবার গবাদিপশু কিনবেন। কিন্তু ছেলেকে যুদ্ধে পাঠিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ছেলেকে আর ফিরে পাওয়ার আশা নেই জানিয়ে আব্দুল মাজিদের এখন একটাই চাওয়া—ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে দাফন করতে চান তিনি।

মামুনসহ লালমনিরহাট থেকে একই সময়ে চারজন রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরেছেন। বেঁচে থাকা আল আমিন ইসলাম দেশে ফিরতে আকুতি জানাচ্ছেন বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে।

আল আমিনের বাবা আফজাল হোসাইন বলেন, ছেলে আগের দিনও ফোন করে কান্নাকাটি করেছেন। পরিবারের সবাই তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রবাসীকল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান পাননি।

প্রবাসীকল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, বাংলাদেশিদের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার এই চক্র সম্পর্কে রুশ সরকার অবগত কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের টোপ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রুশ সরকারকে জানানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য নেই।

ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত, লাশ ফেরেনি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়া এবং পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে গত এক বছরে তিন ডজনের বেশি আবেদন পেয়েছে সরকার।

এসব আবেদনের ভিত্তিতে রুশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা গেছে। বাকিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও চলছে বলে জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা।

তবে এখন পর্যন্ত ওই ছয়জনের লাশও দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত বলে জানা যাওয়া ২০ বাংলাদেশির লাশ আদৌ দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে কি না, তা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

চীনের বৃত্তিতে বদলে গেছে ছাইয়েদুলের শিক্ষাজীবন

নেপালে আকস্মিক বন্যায় আটকে পড়া ৯ বাংলাদেশিকে উদ্ধার

সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে অতি জরুরি বিজ্ঞপ্তি

রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনে বাংলাদেশকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে দেখছে ইইউ

সুইডেনে বিপিসিএন অ্যাওয়ার্ড পেলেন আইনজীবী শিশির মনির

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কারদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ

কায়রোতে সম্মাননা পেলেন আমার দেশ সহসম্পাদক আলী হাসান তৈয়বসহ ৬ ইসলামী ব্যক্তিত্ব

কায়রোতে অনুষ্ঠিত হলো আওসবি কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

সমকামী সেজে বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের আবেদন, যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার ৩

লন্ডনের সমাবেশ থেকে অবিলম্বে মেজর আখতারুজ্জামানের মুক্তি দাবি