সমসাময়িক বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্ধকার বাস্তবতা ও ক্ষমতার অপ্রকাশ্য রাজনীতিকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ নাটক এরই মধ্যে দর্শকমহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাটকটির রচয়িতা মোসাব্বের হোসেন মুয়ীদ এবং এটি পরিচালনা করেছেন মাবরুর রশীদ বান্নাহ, যিনি বরাবরই ভিন্নধর্মী ও বাস্তবধর্মী গল্প নির্মাণের জন্য প্রশংসিত।
অভিনয়ে রয়েছেন প্রত্যয় হিরণ, আজাদ আবুল কালাম, মাখনুন সুলতানা মাহিমা, তানজিম হাসান অনিক, বাপ্পী আশরাফ, সারজিন ইসলাম জিম, রাশেদ ইমরান, শামীম আহমেদ, শাওন মজুমদার ও শারমিন সুলতানা শর্মীসহ একদল শক্তিশালী শিল্পী।
নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ছাত্রাবাসকে ঘিরে, যেখানে বাইরে বড় অক্ষরে লেখা ‘ধূমপানমুক্ত, রাজনীতিমুক্ত ও র্যাগমুক্ত পরিবেশ’। কিন্তু বাস্তবে এ ঘোষণা কেবলই একটি ভ্রান্ত ধারণা। এখানে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাখা হয় একজন করে তৃতীয় বর্ষের সিনিয়র, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানসিক নির্যাতনের এক অদৃশ্য কাঠামোয়। প্রত্যয় নামের এক নতুন শিক্ষার্থী তার বাবার সঙ্গে এসে ওঠে এ ছাত্রাবাসে। তার রুম নম্বর ৩০৫, যেখানে তার সঙ্গে থাকে ব্যাচমেট রাশেদ ও সিনিয়র রায়হান। সহপাঠীর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলেও রায়হানের আচরণ হয়ে ওঠে ক্রমেই বিরক্তিকর। সে জুনিয়রদের দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজ করাতে অভ্যস্ত।
অন্যদিকে পাশের কক্ষ ৩০৪-এ আহসান ও নিলয়ের সঙ্গে থাকা সিনিয়র সামিউল একেবারেই ভিন্ন চরিত্র, সহৃদয় ও মানবিক। এ দুই বিপরীত চরিত্রের মধ্য দিয়ে ছাত্রাবাসের দ্বৈত বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে আছে র্যাগিং, জোরপূর্বক রাজনৈতিক মিছিলে নিয়ে যাওয়া এবং ক্ষমতার দাপট; অন্যদিকে কিছু মানবিক সম্পর্কের ক্ষীণ আলো। আদু নাসির নামের এক প্রভাবশালী সিনিয়র ফ্রেশারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক স্তরে মান্নু স্যার অর্থলোভী ও উদাসীন এক চরিত্র হিসেবে উঠে আসে, যার কাছে শৃঙ্খলা নয়, টাকাই প্রধান। নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ বলেন, ‘ছাত্রাবাঁশ’ কেবল একটি গল্প নয়। এটি আমাদের চারপাশের অদেখা বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।’ নাটকটি প্রতি সপ্তাহের রবি, সোম ও মঙ্গলবার নিয়মিত প্রচার হচ্ছে এনটিভির পর্দায়।