শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বেহাত হওয়া জমি ও গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে একাট্টা হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পুরাতন বাণিজ্য মেলার পরিত্যক্ত মাঠে ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ ব্যানারে এক ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এতে বেহাত হওয়া জমি ফেরত না দেয়া হলে প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও জানান আয়োজকরা। সভা শেষে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা মাঠের নিয়ন্ত্রণে থাকা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের লাগানো বিলবোর্ড ভেঙে ফেলেন।
সমাবেশে বক্তারা জানান, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি একসময় ২৯৮ একর জায়গার ওপর বিস্তৃত থাকলেও এরশাদ সরকারের আমলে তা সংকুচিত হয়ে বর্তমানে মাত্র ৮৭ একরে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, শেকৃবি এখন ছয় হাজার সদস্যের এক বিশাল পরিবার। আধুনিক কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের গবেষণার জায়গা অত্যন্ত অপ্রতুল। এই মাঠ পুনরুদ্ধার করতে হলে আমাদের প্রশাসনিক ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ—উভয় দিক থেকেই এগোতে হবে।
এতে জৈষ্ঠ্য শিক্ষকরা বলেন, জমিটি বর্তমানে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও এর প্রকৃত মালিক বিশ্ববিদ্যালয়। তারা জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে ইতোমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেখানে কোনো অট্টালিকা নয়, বরং কৃষি গবেষণা ও পরিবেশ রক্ষায় বনায়ন করা হবে। সভায় প্লানিং হেড সরোয়ার হোসেন মাঠের একটি খসড়া মাস্টারপ্ল্যান তুলে ধরেন, যেখানে ক্রপ মিউজিয়াম ও আধুনিক ফার্ম অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবুল হাসান বলেন, একজন ব্যক্তি যেমন তার পৈতৃক সম্পত্তি ছাড় দেয় না, তেমনি আমরা আমাদের এই মাঠ কোনোভাবেই ছাড় দেব না।
অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ বলেন, তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নানা কূটকৌশলে আমাদের নিকট থেকে এই জমি নিয়ে নেয়। বর্তমানে এই জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাই আমাদের জমি আমরা গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য ফেরত চাই।
এনসিপি নেতা তৌহিদ আহমেদ আশিক বলেন, সরকারের বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল চাপ তৈরি করবে, তবে আমাদের কাজ হবে শিক্ষার্থীদের এটা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা।
মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৮৬ সালেও এই মাঠ আমাদের ছিল। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর এই পরিবারের কাছ থেকে মাঠ ছিনিয়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। একজন মা যেমন তার সন্তানকে ধরে রাখে, শেকৃবি পরিবার এই মাঠ সেভাবেই আগলে রাখবে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতিসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।