জাতীয় নির্বাচনের আগে কোন নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে ১২ফেব্রুয়ারীর আগে কোন নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না। জাতীয় পত্রিকাগুলোতে এই নিউজ শোনার পর ক্যাম্পাসটি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। শিক্ষার্থীরা হল থেকে বেড়িয়ে জড়ো হয়ে শাকসু কার্যালয়ের সামনে চতুর্মুখী মিছিল নিয়ে যায় ।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্লোগান শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার, শাকসু দিতে হবে ২০ তারিখে, একশন টু একশন ডাইরেক্ট একশন, গোলামী না আযাদী, আযাদী আযাদী, উই ওয়ান্ট শাকসু, শাকসু নিয়ে টালবাহানা মানিনা মানব না, ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন।
এসময় ছাত্রদলের শাবিপ্রবির সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, সকল বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তার নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি ইসির সিদ্ধান্ত মেনে তাহলে আমরা ধরে নেবো তারা শিক্ষার্থী বান্ধব প্রশাসন নয়।
ছাত্রশিবিরের শাখা সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি শাবিপ্রবির ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়েছে। ভিসি স্যার প্রথমে বলেছেন নভেম্বরের ২য় সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন টালবাহানা করে ১৭ নভেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে আন্দোলন হলে ভিসি স্যার জানুয়ারির ২০ তারিখ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তখন একজন নির্বাচন কমিশন বলেছিলেন আমাকে মেরে ফেলা হলেও ২০ তারিখে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটা কেউ পেছাতে পারবে না। জাতীয় নির্বাচন কোনো সমস্যা তৈরি করবে কি না জানতে চাইলে সেদিন তারা বলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচন কোনো বাধা হবে না। কিন্তু আজ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করার জন্য। এটা প্রশাসনের হঠকারী সিদ্ধান্ত ছাড়া কিছু নয়। আমরা ২০ তারিখেই শাকসু নির্বাচন চাই এবং আদায় না করা পর্যন্ত আমরা থামবো না। এজন্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই শিক্ষার্থীদের পালস বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। না হয় শিক্ষার্থীরা এর জবাব দিবে।
উল্লেখ্য, শাকসু নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন।