ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ( ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস নয় দিন পার হয়েছে। খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফের মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে উপস্থিত হন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্যসচিব মাসুদ রুমি মিথুন ও শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ অন্যান্য নেতাকর্মী৷
মানববন্ধনে শিক্ষার্থী আহমদ উল্লাহ বলেন, বলতে লজ্জা লাগে, ছয় মাস পরেও আমাদের ভাই হত্যার বিচার চেয়ে কর্মসূচি দিতে হয়। আজ পর্যন্ত প্রশাসন খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি। এটা অথর্বতা, নাকি দায়? এই হত্যার সঙ্গে তাহলে কি তারাও জড়িত? যে কারণে তারা গড়িমসি করছে। সাজিদের মতো শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা চেয়ারে বসেছেন। আপনাদের চেয়ার থেকে নামাতে আমাদের সময় লাগবে না। যদি আপনারা বিচার করতে না পারেন, তাহলে কঠিন থেকে কঠিনতর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘প্রতিদিনই শুনে আসছি খুনিদের মুখোশ উন্মোচন হবে, কিন্তু কবে হবে, কীভাবে হবে তা আমরা জানি না। আমরা সোচ্চার হলে আমাদের বলা হয় রিপোর্ট আসতেছে, কিন্তু তা কীভাবে আসতেছে তা-ও আমরা জানি না। আমরা সাজিদ হত্যার বিচার চাই। এই রহস্য উন্মোচন না হলে আমরা কেউ নিরাপদ না। সাজিদের মতো পরিণতি ভোগের তাড়না যদি আমাদের মধ্যে থাকে, তাহলে প্রশাসনের কাছে আমরা আর কী দাবি জানাব? কোন অদৃশ্য শক্তির বলে এটা প্রকাশিত হচ্ছে না, তা আমাদের বলুন, আমরা এর জবাব দিতে পারি ‘
এদিকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মকাণ্ড ই চলছে, শুধু আমাদের ভাই সাজিদ নেই। সাজিদ হত্যার বিচার নেই। এই ছয় মাসে অনেক নয়ছয় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এটা আর চলতে দেওয়া হবে না। নসরুল্লাহ প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি করে বলতে চাই, আপনার ব্যর্থ প্রক্টরকে আগামীকাল বিকেল ৪টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে, অন্যথায় আপনি তাকে অপসারণ করবেন।’
এছাড়া, আগামীকাল বিকেল ৪টার মধ্যে যদি প্রক্টর পদত্যাগ না করেন, কিংবা তাকে অপসারণ না করা হয়, সে ক্ষেত্রে আগামী বুধবার বেলা ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।