ডিম পাড়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত পিঁপড়াদের জীবন শূককীট, মূককীট ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার মধ্যে বিভক্ত। পিঁপড়াদের বসতিতে রানি, পুরুষ ও কর্মী পিঁপড়া বসবাস করে কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে বেঁচে থাকে। রানি পিঁপড়া ডিম পাড়ে, পুরুষ পিঁপড়ারা শুধু প্রজনন করে এবং কর্মীরা খাদ্য সংগ্রহ ও বসতি রক্ষা করে, যা দলবদ্ধ কাজের চমৎকার উদাহরণ।
পিঁপড়া আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি। খুব নিরীহ প্রাণী মনে হলেও পিঁপড়া আসলে আল্লাহর এক রহস্যঘেরা সৃষ্টি। এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ‘নামল’ বা পিঁপড়া নামে স্বতন্ত্র সুরা নাজিল করেছেন এবং এদের জীবনের শিক্ষণীয় দিক মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। আল্লাহর অসীম কুদরত সম্পর্কে জানতে পিঁপড়ার জীবনের এই দিকগুলো জানা প্রয়োজন।
আল্লাহ তায়ালা হজরত সোলায়মান (আ.)-এর যুগের একদল পিঁপড়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘জিন, মানুষ ও পাখিদের নিয়ে গঠিত সেনাবাহিনী সোলায়মান (আ.)-এর সামনে সমবেত করা হলো। এরপর তাদের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হলো। যখন তারা পিঁপড়াদের উপত্যকায় পৌঁছাল তখন একটি পিঁপড়া বলল, হে পিঁপড়ার দল! তোমরা নিজেদের বাসায় ঢুকে পড়ো। তা না হলে সোলায়মান (আ.) ও তার সেনাবাহিনী অজান্তেই তোমাদের পিষে ফেলবে। পিঁপড়ার কথা শুনে সোলায়মান (আ.) অবাক হয়ে মুচকি হেসে বললেন, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে ও আমার মা-বাবাকে দেওয়া আপনার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় এবং আপনার পছন্দের ভালো কাজ করার সামর্থ্য দিন এবং আপনার অনুগ্রহে আপনার নেক বান্দাদের মধ্যে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করে নিন।’ (সুরা-নামাল : ১৭-১৯)
এই আয়াতগুলো থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। যেমনÑ
খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি : সংগৃহীত খাদ্য যদি পিঁপড়ার চেয়ে বড় হয় এবং সেগুলো ওরা বহন করতে না পারে, তাহলে পেছনের পা দিয়ে তা নাড়াচাড়া করে এবং হাত দিয়ে ওপরে তোলে। বীজ সংরক্ষণের আগে তা ভেঙে নেয়, যাতে সহজে গুদামজাত করা যায়।
পিঁপড়াদের উপত্যকা : পিঁপড়া যে সামাজিক জীব, তা কোরআনের আয়াত থেকেই বোঝা যায়। তারা একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়। আয়াতে পিঁপড়ার উচ্চারিত সতর্কবাণী থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়। পিঁপড়ারা নিজেদের তৈরি বাসাতেই বসবাস করে। কখনো বাসার সংখ্যা বাড়তে বাড়তে পিঁপড়ার শহর বা উপত্যকায় পরিণত হয়। এটা কোরআনের আয়াত থেকে স্পষ্ট। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, পিঁপড়াদের প্রতিটি বাসা একাধিক স্তরে গঠিত। স্তরগুলো হলোÑতাপঘর, অপরিচিত পিঁপড়ার প্রবেশ রোধে পাহারার স্থান, গ্রীষ্মে কর্মীদের বিশ্রামস্থল, খাদ্যগুদাম, খাবারঘর, সৈন্যদের ব্যারাক, রানি পিঁপড়াদের ডিম পাড়ার ঘর, বাচ্চা ফোটানোর স্থান, শিশু পিঁপড়াদের বেড়ে ওঠার স্থান, শীতকালে বসবাসের ঘর, এর ডানপাশে মৃত পিঁপড়াদের কবরস্থান এবং রানির শীতযাপন ঘর। আমাজন বনে বসবাস করা কিছু পিঁপড়ার বাসার দৈর্ঘ্য পাঁচ মিটার এবং প্রস্থ সাত মিটার পর্যন্ত হয়। ওরা শত শত ঘর বানায় এবং সুড়ঙ্গ খোঁড়ে। সুড়ঙ্গ থেকে ৪০ টন পর্যন্ত মাটি বের করে দেয়।