সাপ এমন এক প্রাণী যাকে আমরা সবাই চিনি এবং ভয় করি। স্থলভাগের মতো জলভাগেও বিপুল সংখ্যায় সাপ রয়েছে। সেসব সাপ খাল, বিল, পুকুর, ঝিল, নদী আর সমুদ্রের পানিতে বাস করে। যেসব সাপ সমুদ্রে বাস করে, সেগুলোকে বলা হয় ‘সামুদ্রিক সাপ’ (sea snake)। সামুদ্রিক সাপ হচ্ছে একপ্রকার বিষধর এলাপিড সাপ, যারা তাদের জীবনের পুরোটা বা বেশিরভাগ সময় সমুদ্রে কাটায়। যদিও স্থলভাগের সাপ থেকে এদের উৎপত্তি ও বিকাশ, তবুও এদের সবাই তাদের সম্পূর্ণ জীবনটাই সমুদ্রের জলজ পরিবেশে কাটিয়ে দেয় এবং তারা কখনোই স্থলভাগে আসে না। এই আচরণের ব্যতিক্রম ঘটে শুধু লেটিকডা প্রজাতির (Laticauda) ক্ষেত্রে। এই প্রজাতির সাপের মধ্যে পূর্ববংশধরদের বৈশিষ্ট্য সমুন্নত রয়েছে এবং এরা জীবনের খুবই অল্প সময় স্থলভাগে কাটায়।
প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সমুদ্র স্রোতের অঞ্চলে সামুদ্রিক সাপের বিস্তৃতি লক্ষ করা যায়। এদের সবারই প্যাডেল বা পাদানির মতো লেজ রয়েছে এবং ভারসাম্য রক্ষার জন্য রয়েছে পার্শ্বীয় শরীর, যা অনেকটা সামুদ্রিক বাইন মাছের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সামুদ্রিক সাপের মাছের মতো ফুলকা নেই, তাই শ্বসনকার্য চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের নিয়মিত পানির উপরে উঠে আসতে হয়। জলজ পরিবেশের বাসিন্দা হয়েও বাতাসে শ্বাস গ্রহণকারী মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে এরা অন্যতম।
সামুদ্রিক সাপের মধ্যে কিছু সাপ ও তাদের প্রজাতিগুলো বিশ্বের সবচেয়ে বিষধর হিসেবে স্বীকৃত। এদের মধ্যে কিছু আছে যারা আচরণগতভাবে যথেষ্ট শান্তিপ্রিয়, নিরীহ এবং শুধু তখনই দংশন করে, যখন তারা নিজেদের হুমকির সম্মুখীন মনে করে। এছাড়া বাকি প্রজাতিগুলো অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। এখন পর্যন্ত সামুদ্রিক সাপের অন্তর্ভুক্ত ১৭টি গণ এবং ৬২টি প্রজাতি পাওয়া গেছে।