হোম > ফিচার > এক্কাদোক্কা

রাফি হলো সমাজসেবী

আবদুল লতিফ

সদ্য এসএসসি পাস করা দুরন্ত, প্রাণচঞ্চল এক তরুণ রাফি। গ্রামের ছেলে, গ্রামের স্কুলেই তার বেড়ে ওঠা। কাদাজলে ফুটবল খেলা, গোল্লাছুট, নদী-নালা, খাল-বিলে সাঁতার কাটা, লাফালাফি, মাছ ধরা—শৈশবের কোনো দুরন্তপনাই তার বাদ যায়নি। দস্যিপনা তার রক্তের সঙ্গেই মিশে ছিল। সেই দুরন্ত স্বভাবের সাথে ছিল তার মেধা, দায়িত্বশীলতা এবং মানবিক হৃদয়।

পড়াশোনায়ও রাফি বেশ এগিয়ে। স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে সে শিখেছিল, ‘মানুষ প্রধানত নিজের সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার যোগ্যতা অর্জন করতে এবং সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পড়ালেখা করে।’ এই শিক্ষাটি সে শুধু মুখস্থ করেনি; বরং মনেপ্রাণে বিশ্বাস করত এবং নিজের জীবনে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করত।

এসএসসি পাসের পর রাফি শহরে চলে আসে। একটি ভালো মানের কলেজে ভর্তি হয়ে হোস্টেলে থাকতে শুরু করে। শহরে সবকিছুই তার কাছে নতুন ছিল। কিন্তু বদলায়নি—সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা। সুযোগ পেলেই সে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যেত।

এক বর্ষার দিনে টানা বৃষ্টিতে শহরের অধিকাংশ রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। রাফির হোস্টেলের সামনের রাস্তাও হাঁটুপানিতে ডুবে যায়। চারদিকে মানুষের দুর্ভোগ। রাফি লক্ষ করল, বেশিরভাগ ম্যানহোলের মুখ পলিথিন, প্লাস্টিক ও নানা আবর্জনায় আটকে রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

কারো নির্দেশ বা সাহায্যের অপেক্ষা না করে ট্রাউজার আর টি-শার্ট পরে বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তায় নেমে পড়ল। একে একে ম্যানহোলের মুখ থেকে জমে থাকা আবর্জনা সরাতে লাগল। দূর থেকে অনেকে বিস্ময়ের সঙ্গে তাকিয়ে রইল। কেউ মনে করল, ছেলেটি অকারণে কষ্ট করছে; কেউ আবার বলল, ‘এটা তো সিটি করপোরেশনের কাজ!’

কিন্তু রাফির বিশ্বাস ছিল ভিন্ন। সে মনে করত, নিজের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়, প্রতিটি নাগরিকেরই নৈতিক দায়িত্ব। তাই মানুষের মন্তব্যে তার বিন্দুমাত্র সংকোচবোধ ছিল না।

বৃষ্টি থামার পর দেখা গেল, আশপাশের এলাকার তুলনায় রাফির হোস্টেলের সামনের রাস্তার পানি অনেক দ্রুত নেমে গেছে। হোস্টেলের বন্ধুরা তার কাজের আন্তরিক প্রশংসা করল। রাফি হাসিমুখে বলল, ‘একজন শুরু করলে আরেকজন এগিয়ে আসে। আমরা সবাই যদি নিজের দায়িত্ব পালন করি, তাহলে আমাদের শহর অবশ্যই আরো সুন্দর হবে।’

রাফি জানত, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—বিশেষ করে প্লাস্টিক ও পলিথিন যত্রতত্র ফেলে রাখার কারণেই বর্ষাকালে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সেই উপলব্ধি থেকেই সে রাস্তায় পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন কিংবা অন্য যেকোনো আবর্জনা দেখলে নিজেই তুলে নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলত। তার এই ছোট ছোট উদ্যোগের ফলে অল্পদিনের মধ্যেই হোস্টেল এলাকা ও কলেজ ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত হলো।

পরিবেশ রক্ষার প্রতিও ছিল তার গভীর অনুরাগ। সুযোগ পেলেই রাস্তার পাশে গাছের চারা রোপণ করত এবং নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যা করত। প্রথমদিকে অনেকে অবাক হয়ে তাকাত, কেউ কেউ হাসাহাসিও করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাই বুঝতে পারল, একজন মানুষের আন্তরিক উদ্যোগও সমাজে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। ধীরে ধীরে এলাকাটি শহরের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশে রূপ নিল।

রাফির কাজ দেখে তার অনেক বন্ধু এগিয়ে এলো। তারা পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে শুরু করল। ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ল। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষও রাফির পথ অনুসরণ করতে শুরু করল।

কয়েক বছরের মধ্যেই একসময় জলাবদ্ধতা, ময়লা আর অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত শহরটি ফিরে পেল তার প্রাণ। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সবুজ বৃক্ষ আর সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহরটি হয়ে উঠল দেশের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ।

রাফির উদ্যোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এই অসাধারণ উদ্যোগ ও নেতৃত্বের খবর পৌঁছে যায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সচেতনতা গড়ে তোলায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে রাফির হাতে সেই সম্মাননা তুলে দেন।

রঙিন পাখি ম্যাকাও

‘ছোটদের আনন্দবার্ষিকী রংপেনসিল’ শিশুসাহিত্যে নতুন সংযোজন

মেরু ভালুক সাদা নয়!

কাশফুল তুলতুল

শিশুদের সুরক্ষায় স্মার্টফোন নয়, প্রয়োজন স্মার্ট অভ্যাস

আফ্রিকার হাতি বৃহত্তম স্থলজ প্রাণী

পিঁপড়াদের কাছে শেখার আছে

কাদামাখা টিকলু

বই কেন পড়বে

মহীশূরের বাঘ টিপু সুলতান