হোম > ফিচার > এক্কাদোক্কা

ফুটবল খেলার ইতিহাস

তানজিলা মেহের নন্দিতা

চার বছর পরপর ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় । তাই এ নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। পছন্দের দেশের পতাকা বানাও, সাপোর্ট করো, খেলা দেখো, আরো কত কী! বিশ্বজুড়েই চলে এই উন্মাদনা। কিন্তু আমরা যারা ফুটবলকে ভালোবাসি, তাদের অনেকেই ফুটবল খেলার উৎপত্তি কোথায় বা প্রাচীন যুগে ফুটবল কারা খেলত, সে কথা জানে না।

বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হয় ফুটবল খেলা প্রথম ৩৫০ খ্রিষ্টপূর্বের দিকে গ্রিস এবং ইতালিতে শুরু হয়েছিল । তারা পা ব্যবহার করে কোনো কোনো খেলা খেলত। তবে বিভিন্ন প্রাচীন বইয়ে উল্লেখ আছে যে, বল খেলা বিভিন্ন দেশে মানুষরা খেলত। যেমন ১৫৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ অনুসন্ধানকারী জন ডেভিস গ্রিনল্যান্ডের ইনুউইটদের সঙ্গে ফুটবল খেলেছিলেন। ১৬১০ সালে আমেরিকানদের খেলা লিপিবদ্ধ করেছিলেন উইলিয়াম স্ট্রেচি নামের একজন ঔপনিবেশিক। তবে অস্ট্রেলিয়ায় লাথি মেরে বল খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়ান উপজাতিরা, যা বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের গ্রন্থে লিখিত রয়েছে। নিউজিল্যান্ডে মাউরি জাতির মানুষ প্রথম বল খেলা শুরু করে, যার নাম ছিল ‘কি-ও-রাহি’ এবং এই খেলায় একটা বৃত্তাকার মাঠকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগে একটা করে দল থাকত এবং প্রত্যেক দলে সাতজন করে খেলোয়াড় থাকত। মাঠের মাঝখানে একটা বৃত্তাকার সীমানা থাকত। এক দল আরেক দলের সীমানা পার করে দিতে পারলে এবং বল দিয়ে মাঝের বৃত্তটা স্পর্শ করতে পারলে এই খেলার পয়েন্ট নির্ধারিত হতো । ইউরোপে তথা ইংল্যান্ডে বল খেলা শুরু হয়েছিল ৯ম শতাব্দীতে । ইংল্যান্ডে প্রথম দিকে যে বল খেলা হতো তার নাম ছিল ‘মব ফুটবল’ এবং যা খেলা হতো মূলত বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিনে । এই খেলায় দুই দলে অগণিত খেলোয়াড় থাকত এবং এরা বলকে গায়ের জোরে ধাক্কাধাক্কি করে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যেতে পারলে পয়েন্ট হতো।

১৩০৮ সালে আয়ারল্যান্ডে প্রথম ফুটবল খেলা হয়েছিল । ষোড়শ শতাব্দীতে ইতালির ফ্লারেন্স শহরে যে বল খেলা হতো তার নাম ছিল ‘ক্যালসিও স্ট্যারিকো’ এবং পরবর্তী সময়ে এই ‘ক্যালসিও স্ট্যারিকো’ই হলো আধুনিক ফুটবলের প্রাথমিক রূপ। এই খেলায় সর্বোচ্চ ২৭ জন খেলোয়াড় থাকত এবং প্রত্যেক দলে বিভিন্ন সংখ্যার খেলোয়াড় থাকত, যেমন কোনো দলে ১৫ জন আবার কোনো দলে ২০ জন এবং গোলরক্ষক থাকত পাঁচজন। কিন্তু এই নিয়ম বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে বলে পরবর্তী সময়ে ১৮৭০ সালে আইন করা হয়, প্রত্যেক দলে ১১ জন করে খেলোয়াড় থাকতে হবে এবং এর মধ্য থেকে একটি দলে একজন গোলরক্ষক থাকবে । তাই বলা যায়, ১৮৭০ সাল থেকেই আধুনিক ফুটবলের যাত্রা শুরু হয়। অনেক গবেষণা করে দেখা যায়, ১০+১০=২০ জন খেলোয়াড়ই যথেষ্ট পুরো মাঠটা কভার করতে। তাই এই ১১+১১=২২ জনের নিয়ম করা হয়।

এবার জানা যাক খেলোয়াড়দের জার্সিতে নাম্বার বসানোর কথা। ১৯২৮ সালে সর্বপ্রথম আর্সেনালের পরিচালক পর্ষদ সহজে চেনার জন্য খেলোয়াড়দের জার্সিতে নাম্বার বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। তখন স্বাগতিক দলের জার্সি নাম্বার থাকত ১ থেকে ১১ পর্যন্ত এবং সফরকারী দলের নাম্বার থাকত ১২ থেকে ২২ পর্যন্ত। কিন্তু ১৯৪০ সালে সিদ্ধান্ত হয়, একই নাম্বার বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রাও নিতে পারবে, কিন্তু নাম্বার ওই ১ থেকে ২২ পর্যন্ত থাকতে হবে। ১৯৯৩ সালে সর্বপ্রথম জার্সিতে খেলোয়াড়ের নাম লেখা হয় এবং যেকোনো নাম্বার খেলোয়াড় নিতে পারবে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার পর থেকেই মূলত ফুটবল বাধামুক্ত হয়।

শিশুমনের আপনজন মোহাম্মদ নাসির আলী

পিঁপড়ার ভাষা ও বুদ্ধিমত্তা

মা ছাড়া প্রথম ঈদ

আম্মার সঙ্গে শেষ রমাদান ও ঈদ

বেলালের আনন্দ

বসন্তের কিছু ফুল

জায়ান্ট স্কুইড : এক বিস্ময়কর সামুদ্রিক দৈত্য

বুনো ফুলের গন্ধে ঘোর লাগা সময়ে

ময়ূর যেন সৌন্দর্যের রানি

আমার শিক্ষক এবং জুলাই সারথি