একমাত্র সন্তান রিফাতকে নিয়ে মায়ের ছিল বেশ ঈদ জল্পনা-কল্পনা। ঈদ শুরুর আগে মা-ছেলে মিলে মনের আনন্দে ঈদের শপিং করতে যেতেন। কেনাকাটার পাশাপাশি মা-ছেলে রেস্টুরেন্টে বসে ছেলের পছন্দসই সব খাবার অর্ডার করে খেতেন। ছেলেকে খুশি করতে এবং সুন্দর ব্যবহার শেখানোর জন্য মা ‘রাহেলা শবনম’ মাঝেমধ্যে পথশিশুদের সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে খাবার খেতেন। রিফাতের বাবাকে ব্যবসার কাজে বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে যেতে হতো আর তাই রিফাতের সবকিছুর একমাত্র ভরসা মা। মা ছাড়া রিফাত এক মুহূর্তও থাকতে পারত না। সাত বছরের রিফাত স্কুলে আসা-যাওয়া করে মায়ের সঙ্গে। বাসায় এবং ঘুরতে যাওয়ার একমাত্র সঙ্গী মা।
রোজা শুরুর আগে থেকেই মায়ের অনেক পরিকল্পনা একমাত্র ছেলের ঈদবাজার এবং ঈদের সময় ঘোরাঘুরি নিয়ে। ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠেই রিফাত খেয়ে নিত মায়ের হাতের বানানো মজাদার পায়েস!
হঠাৎ করেই একটা অ্যাক্সিডেন্টে মা চলে যায় না ফেরার দেশে। পরিবারের সবাই রিফাতকে বুঝতে দেয়নি মায়ের এমনভাবে চলে যাওয়ার কথাগুলো। রিফাত অস্থির হয়ে ছটফট করতে থাকে মায়ের অপেক্ষায়।
একদিন, দুদিন তিনদিন, এভাবে সপ্তাহ পার হলেও মায়ের আসার অপেক্ষায় থাকে রিফাত! রাতের বেলা রিফাত অনেক কান্নাকাটি করে ঘুমাতে যায়। মা ছাড়া রিফাতের ঘুম আসে না। বারবার চিৎকার করে বলতে থাকে। স্বজনরা রিফাতের কান্নায় ভেঙে পড়ে। রিফাত জানে ঈদ এসে গেছে। ঈদে রিফাত মায়ের হাতের পায়েস খাবে, মায়ের সঙ্গে ঘুরতে যাবেÑএসব ভেবে চলে রিফাত।
আগামীকাল ঈদ! দাদুর কাছে রিফাতের বায়না মাকে আনতে যাব, মাকে আনতে যাব। মায়ের মোবাইলে সারাদিন দাদুর মোবাইল থেকে কল দিয়ে যাচ্ছে রিফাত। মায়ের কথা রিফাত যতবারই বলে ততবারই দাদুর চোখে পানি দেখতে পায় সে। রিফাত ওর দাদুকে বলতে থাকে, আচ্ছা দাদু, আমার মা কী তাহলে তারা হয়ে গেছেন? মা তো আমাকে মাঝেমধ্যে তারা হওয়ার গল্প করতেন। বলো না দাদু মা কোথায়?
সাত বছরের রিফাত ঈদের দিন সকালবেলা কিছুই খায়নি। খুব বেশি বায়না করে যাচ্ছে আর বলছে, মা ছাড়া আজ কিছুই খাব না। মা ছাড়া প্রথম ঈদে আজ বাসায় রান্না করা হয়নি পায়েস! কেনা হয়নি মায়ের হাতে নতুন জামা। দাদু, নতুন জামা কিনে দিলেও রিফাত আছে মায়ের জামার অপেক্ষায়। আজ ঈদ, এখনো মা ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছে না। রিফাতের চোখে-মুখে মায়ের জন্য এক অসহনীয় কষ্টের ছাপ। হঠাৎ মায়ের এভাবে চলে যাওয়াটা রিফাত কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। এক না বলা যন্ত্রণায় মা ছাড়া রিফাতের প্রথম ঈদ…