আধুনিক রূপচর্চায় নতুন সংযোজন হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে টুথ জুয়েলারি বা ডেন্টাল জেম। বিশেষ করে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এটি একটি নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে। দাঁতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও হাসিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই কসমেটিক ডেন্টাল প্রক্রিয়ার ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
টুথ জুয়েলারি কী
টুথ জুয়েলারি হলো দাঁতের উপর বসানো ক্ষুদ্র অলংকার, যা কসমেটিক ডেন্টাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে সাধারণত ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই স্থাপন করা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সামনের দাঁতে বিশেষ ডেন্টাল সিমেন্টের সাহায্যে এগুলো বসানো হয়। ছোট ক্রিস্টাল বা ধাতব জুয়েলারি হাসিকে করে তোলে আরো উজ্জ্বল ও নজরকাড়া। এটি সম্পূর্ণ নন-ইনভেসিভ একটি প্রক্রিয়া—এতে দাঁত কাটার বা ছিদ্র করার প্রয়োজন হয় না।
কোন ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হয়
টুথ জুয়েলারিতে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ধরনের উপকরণ, যেমন— ক্রিস্টাল, ডায়মন্ড, সোনা, রুপা এবং নানা আকৃতির (হার্ট, স্টার, অক্ষর, প্রজাপতি ইত্যাদি) অলংকার। এগুলো দাঁতের উপর নিরাপদভাবে স্থাপন করা হয়।
কেন বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, টুথ জুয়েলারি মূলত সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি আধুনিক মাধ্যম। নিজের হাসিকে আরো স্টাইলিশ ও ইউনিক করে তুলতে অনেকেই এই কসমেটিক ট্রিটমেন্ট গ্রহণ করছেন। বিশেষ অনুষ্ঠান, ফ্যাশন ট্রেন্ড অনুসরণ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় উপস্থিতি তৈরির ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার বাড়ছে।
কারা এতে বেশি আগ্রহী
তরুণ-তরুণী, ফ্যাশনসচেতন ব্যক্তি, মডেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মধ্যে টুথ জুয়েলারির চাহিদা তুলনামূলক বেশি। যারা নিজেদের লুকে নতুনত্ব আনতে চান এবং হাসিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে আগ্রহী, তারাই এই ট্রেন্ডের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন।
এর ক্ষতিকর প্রভাব আছে কি
এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের মতামত হলো, ডেন্টাল সার্জনের মাধ্যমে সঠিকভাবে করানো হলে টুথ জুয়েলারি সাধারণত নিরাপদ। জুয়েলারি করার আগে অবশ্যই দাঁতের অবস্থা ভালো আছে কি না—তা পরীক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি এটি করার পর নিয়মিত ওরাল হাইজিন বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে যথাযথ যত্ন না নিলে দাঁতে প্লাক জমা, দাগ (stain) সৃষ্টি বা ক্যাভিটির ঝুঁকি থাকতে পারে। ভুলভাবে বসানো হলে এনামেলের ক্ষতিও হতে পারে। টুথ জুয়েলারি নিঃসন্দেহে আধুনিক সৌন্দর্যচর্চার একটি আকর্ষণীয় সংযোজন। তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি দাঁতের সুস্থতা রক্ষা করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা ও সঠিক যত্নের মাধ্যমে এটি হতে পারে নিরাপদ, নান্দনিক এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এক অভিনব উপায়।
লেখক : কনসালট্যান্ট, অ্যাস্থেটিক ডেন্টিস্ট্রি
অ্যাডভান্সড ডেন্টাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেশিয়াল হাসপাতাল, ঢাকা