হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

গাড়ির ধোঁয়া ও মশার কয়েল অ্যাজমা বাড়ায়

সাক্ষাৎকার

এন আই মানিক

বায়ুদূষণ ও ধূমপানের দরুন বিভিন্ন ধরনের বক্ষব্যাধির প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা আজ হ্যালো ডাক্তার বিভাগে কথা বলব জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁঞার সঙ্গে।

প্রশ্ন : সাধারণ মানুষ কীভাবে প্রাথমিকভাবে বক্ষব্যাধির লক্ষণ চিনতে পারে এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত?

উত্তর : বক্ষব্যাধির প্রধান লক্ষণগুলো হলো কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত যাওয়া, বুকে ব্যথা, কফ বের হওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে আওয়াজ হওয়া। এগুলোই প্রাথমিক লক্ষণ। এই লক্ষণগুলো যদি কারো থাকে, তবে আমরা মনে করি, সে বক্ষব্যাধি রিলেটেড কোনো ডিজিজে আক্রান্ত হয়েছে। ১৫ দিনের বেশি কাশি থাকলে কফ পরীক্ষা করতে হবে। এর পাশাপাশি কাশির সঙ্গে রক্ত গেলে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

প্রশ্ন : অ্যাজমা এবং সিওপিডি রোগীদের সংখ্যা কি বাড়ছে? এর পেছনে প্রধান কারণগুলো কী?

উত্তর : এই দুটোই শ্বাসকষ্টজনিত ও শ্বাসনালির সমস্যা। অ্যাজমার অ্যাটাক হলে শ্বাসনালি চিকন বা ন্যারো হয়ে যায়। এটা হলো টেম্পোরারি চেঞ্জ; চিকিৎসা করলে ভালো হয়, কিংবা কেউ কেউ আপনা-আপনিই আগের অবস্থায় ফিরে যায়। আর সিওপিডি হলো পার্মানেন্ট চেঞ্জ, এতে শ্বাসনারি সরু হলে আর আগের অবস্থায় ফেরে না। আমাদের যেভাবে বায়ুদূষণ হচ্ছে, পাশাপাশি গাড়ির ধোঁয়া, ইটের ভাটা, শিল্পকারখানা, মশার কয়েল, স্প্রে—এগুলো অ্যাজমার ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। আর সিওপিডি অধিকাংশই স্মোক রিলেটেড ডিজঅর্ডার। যারা অতিরিক্ত ধূমপান করে, তাদের অল্প কিছুতেই শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, ক্লান্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে ধূমপানের কারণে সিওপিডি দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। তাই স্মোকিং অবশ্যই কন্ট্রোল করতে হবে।

প্রশ্ন : গ্রামাঞ্চলে বক্ষব্যাধি নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে?

উত্তর : উপজেলা লেভেলে আমরা কিন্তু এখনো শহরাঞ্চলের ওপর নির্ভর করি। বক্ষব্যাধি রোগের টিবির যে কফ পরীক্ষা হয়, এটার অপ্রতুলতা আছে গ্রামাঞ্চলে। এক্সরে মেশিনেরও অপ্রতুলতা আছে। এই দুটি কিন্তু বক্ষব্যাধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট। এছাড়া বক্ষব্যাধির লক্ষণগুলো শুনে চিকিৎসক যদি মনে করেন, তার বক্ষব্যাধির ডিজিজ রয়েছে, সেক্ষেত্রে তাকে রেফার করার সিস্টেমটা অপ্রতুল। আমার মনে হয়, ইনভেস্টিগেশন ও রেফারের সিস্টেম গ্রামাঞ্চলে এখনো অপ্রতুল। এটার যদি উন্নতি হয়, তবে সমস্যাগুলো দূর হয়ে যাবে।

প্রশ্ন : বায়ুদূষণ কি শ্বাসতন্ত্রের রোগ বাড়াচ্ছে? বাংলাদেশের শহরগুলোর পরিস্থিতি আপনি কীভাবে দেখছেন?

উত্তর : ঢাকা শহর বায়ুদূষণের দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ নগরীর তালিকায় আছে। এর কারণ হলো, গাড়ির ধোঁয়া, কনস্ট্রাকশনের কাজ, যেমন রাস্তার উপর ইট ভাঙচুর করা হচ্ছে; আরেকটি কারণ হলো, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন। এছাড়া আমাদের দেশে ইটের ভাটাগুলো থেকে প্রতিনিয়ত যে ধোঁয়া বের হচ্ছে, সেগুলো থেকে বায়ুদূষণ হচ্ছে। পাশাপাশি পাথর ভাঙাসহ আরো অনেক কারণ আছে।

প্রশ্ন : বক্ষব্যাধি প্রতিরোধে সরকার ও সাধারণ মানুষের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

উত্তর : বক্ষব্যাধি কিছু আছে প্রতিরোধযোগ্য ডিজিজ। এর মানে কিছু সমস্যার যদি আমরা শুরুর দিকে প্রতিরোধ করতে পারি, তাহলে ডিজিজগুলো হবে না। যেমন সিওপিডি কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য। যারা স্মোকার থাকে তাদের সিওপিডি হয়। আমরা যদি সিওপিডির ক্যাম্পেইন করতে পারি—জাতীয় পর্যায়ে ও মিডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সেমিনারে কথা বলে মানুষকে যদি ধূমপানবিমুখ করতে পারি, তাহলে সিওপিডি প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্মোকিং রিলেটেড বক্ষব্যাধির তিনটি রোগ—সিওপিডি, লাং ক্যানসার এবং ডিপিএলডি। ডিপিএলডি মানে ফুসফুস শুকিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাসকষ্টে ভোগেন। টিবি রোগের ক্ষেত্রে ডায়াগনস্টিক সেবা আরো উন্নত করে দ্রুত রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসার আওতায় আনা হলে অন্যদের মাঝে এটি ছড়াবে না। পাশাপাশি যাদের বয়স বেশি তাদের যদি আমরা নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে পারি, তাহলে নিউমোনিয়া হলেও রোগীর বেশি ক্ষতি করতে পারবে না।

করোনারি ধমনি রোগের চিকিৎসা

হামের ভাইরাস কেন দ্রুত ছড়াচ্ছে

দাঁতের সৌন্দর্যে টুথ জুয়েলারি

হিট স্ট্রোক নাকি ডিহাইড্রেশন, বুঝবেন যেভাবে

শুধু ওষুধ নয়, সচেতনতা জরুরি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চা শ্রমিকদের চক্ষুসেবা বাড়াবে অরবিস ইন্টান্যাশনাল

সোমবার থেকে সারাদেশে শুরু হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান

আক্কেল দাঁত কী কখনও তুলে ফেলা উচিত

হাম থেকে কী কী জটিলতা হতে পারে

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭৮