পেটের গ্যাস, অম্লতা ও বদহজমের সমস্যাকে সাধারণভাবে আমরা ‘গ্যাস্ট্রিক’ বলে থাকি। অন্যদিকে পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের আবরণে ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি হলে তাকে ‘গ্যাস্ট্রিক আলসার’ বলা হয়। অনেকেই এ দুটি সমস্যাকে একই মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে রোগ দুটি ভিন্ন। গ্যাস্ট্রিক সাধারণত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা হলেও গ্যাস্ট্রিক আলসার অপেক্ষাকৃত গুরুতর রোগ।
গ্যাস্ট্রিকের কারণ
* অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস।
* দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা।
* অতিরিক্ত ঝাল, তেলযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার।
* অতিরিক্ত চা, কফি ও কোমল পানীয়।
* মানসিক চাপ ও উদ্বেগ।
* ধূমপান ও তামাক ব্যবহার।
* পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।
* বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য।
প্রকারভেদ
* অ্যাসিডিটি বা অম্লতা।
* গ্যাসজনিত পেট ফাঁপা।
* বদহজমজনিত গ্যাস্ট্রিক সমস্যা।
* গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স (GERD)।
লক্ষণ
* বুকজ্বালা
* টক ঢেকুর
* পেট ফাঁপা
* পেটে অস্বস্তি
* বমি বমি ভাব
* অতিরিক্ত ঢেকুর
* খাবার হজমে সমস্যা
* গলায় জ্বালাপোড়া
জটিলতা
* দীর্ঘস্থায়ী অম্লতা
* খাদ্যনালির প্রদাহ
* ঘুমের ব্যাঘাত
* ক্ষুধামান্দ্য
* জীবনযাত্রার মান হ্রাস
ঘরোয়া পরামর্শ
* সময়মতো খাবার খান।
* অতিভোজন এড়িয়ে চলুন।
* ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার কম খান।
* পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
* ধূমপান বর্জন করুন।
* নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করুন।
* রাতে দেরি করে ভারী খাবার খাবেন না।
* মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
গ্যাস্ট্রিক আলসারের কারণ
* হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (H. pylori) সংক্রমণ।
* দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন।
* ধূমপান।
* মদ্যপান।
* দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ।
* অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ।
* পারিবারিক ঝুঁকি।
* গুরুতর অসুস্থতা বা শারীরিক আঘাত।
গ্যাস্ট্রিক আলসারের প্রকারভেদ
১. গ্যাস্ট্রিক আলসার।
পাকস্থলীর ভেতরে ক্ষত সৃষ্টি হয়।
২. ডিওডেনাল আলসার
ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশে ঘা তৈরি হয়।
৩. ইসোফেজিয়াল আলসার
খাদ্যনালির নিচের অংশে ক্ষত হয়।
৪. স্ট্রেস আলসার
গুরুতর অসুস্থতা বা আঘাতের পর সৃষ্টি হয়।
লক্ষণ
* পেটের ওপরের অংশে জ্বালাপোড়া
* খালি পেটে ব্যথা
* বুকজ্বালা
* টক ঢেকুর
* বমি বমি ভাব
* ক্ষুধামান্দ্য ওজন কমে যাওয়া
* পেট ফাঁপা
* দুর্বলতা
জটিলতা
* রক্তবমি
* কালো পায়খানা
* পাকস্থলীতে ছিদ্র
* রক্তশূন্যতা
* খাদ্য চলাচলে বাধা
* কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি