শ্রবণজনিত সমস্যা একজন মানুষের শুধু শোনার ক্ষমতাকেই প্রভাবিত করে না, বরং কথা বলা, ভাষা বোঝা, শেখা এবং সামাজিক যোগাযোগের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে, শিশুদের ক্ষেত্রে এটি ভাষা বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে সময়মতো সঠিক মূল্যায়ন ও স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির চিকিৎসার মাধ্যমে যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করা সম্ভব।
শ্রবণ সমস্যা কী
শ্রবণ সমস্যা হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে শব্দ শুনতে বা বুঝতে অসুবিধা অনুভব করেন। এটি সাময়িক বা স্থায়ী হতে পারে। শ্রবণ সমস্যার প্রধান কারণ হলো, দীর্ঘদিন উচ্চ শব্দে থাকা, কানের ইনফেকশন, অতিরিক্ত ময়লা জমা, জন্মগত সমস্যা, বয়সজনিত পরিবর্তন এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শ্রবণ সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে, দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে থাকলে কানের ভেতরের সংবেদনশীল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন শ্রবণ সমস্যা হয়েছে
বারবার কথা রিপিট করতে বলা, টিভির শব্দ বেশি বাড়ানো, ফোনে কথা বুঝতে কষ্ট হওয়া, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া বা মানুষের কথা অস্পষ্ট শোনা, শ্রবণ সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ দেখা যায়, যেমন : ডাকে সাড়া না দেওয়া, কথা বলতে দেরি হওয়া, শব্দের উৎসের দিকে না তাকানো, ভাষা বিকাশে পিছিয়ে পড়া।
ভাষা ও কথায় কীভাবে প্রভাব ফেলে
আমরা ভাষা শিখি শুনে। তাই শুনতে সমস্যা হলে শব্দ শেখা, ভাষা বোঝা, সঠিক উচ্চারণ এবং কথা বলার দক্ষতা ব্যাহত হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি ভাষা বিকাশে বিলম্ব ঘটায়।
চিকিৎসা কী
সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হয়। কারো ওষুধ লাগে, কারো হিয়ারিং এইড প্রয়োজন হয়, আবার গুরুতর ক্ষেত্রে ককলিয়ার ইমপ্লান্টও প্রয়োজন হতে পারে।
স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির ভূমিকা কী
স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি ব্যক্তির যোগাযোগ দক্ষতা মূল্যায়ন করে এবং এর প্রয়োজন অনুযায়ী থেরাপি চিকিৎসা দেয়। এর মাধ্যমে ভাষা বোঝা, কথা বলা, শব্দ চেনা এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করা হয়।
শিশুদের জন্য স্পিচ থেরাপি কেন জরুরি
শ্রবণ সমস্যাযুক্ত শিশুরা অনেক সময় কথা বলতে দেরি করে, শব্দে সাড়া কম দেয় এবং ভাষা শেখায় পিছিয়ে পড়ে। স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি; তাদের ভাষা বিকাশ ও যোগাযোগ দক্ষতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লেখক : স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগ, সিআরপি, সাভার