ব্রেইন টিউমার এমন একটি জটিল রোগ, যা মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। বিশ্ব ব্রেইন টিউমার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসার সফলতা বাড়ানো সম্ভব।
ব্রেইন টিউমার যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। এটি ক্যানসারজনিত (ম্যালিগন্যান্ট) অথবা অ-ক্যানসারজনিত (বিনাইন) হতে পারে। তবে উভয় ক্ষেত্রেই রোগীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশে অনেক রোগী দেরিতে চিকিৎসকের কাছে আসেন, ফলে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন মাথাব্যথা, বমি-বমি ভাব বা বমি, চোখে ঝাপসা দেখা, খিঁচুনি, শরীরের কোনো অংশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা বলতে সমস্যা হওয়া, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া কিংবা আচরণগত পরিবর্তন ঘটা। এসব উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই সাধারণ মাথাব্যথা বা দুর্বলতাকে গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ শনাক্তে দেরি হয়। অথচ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বর্তমানে ব্রেইন টিউমারের অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে অনেক রোগী সুস্থ জীবনযাপন করতে সক্ষম হচ্ছেন। ব্রেইন টিউমার পুরোপুরি প্রতিরোধের নির্দিষ্ট উপায় না থাকলেও সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং উপসর্গ সম্পর্কে সঠিক ধারণা রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রুত শনাক্তকরণ রোগীর চিকিৎসা ও জীবনমান উন্নত করতে সহায়ক।
বিশ্ব ব্রেইন টিউমার সচেতনতা দিবসে আসুন—আমরা সবাই এ রোগ সম্পর্কে সচেতন হই এবং অন্যদেরও সচেতন করি। কারণ সময়মতো চিকিৎসাই হতে পারে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক (অনকোলজিস্ট), ক্যানসার বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (পিজি হাসপাতাল)