হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

‘একজন যক্ষ্মা রোগী কফের মাধ্যমে ১০ জনকে আক্রান্ত করতে পারে’

এন আই মানিক

যক্ষ্মা, হাঁপানি, ফুসফুস সংক্রমণ ইত্যাদি রোগ আমাদের দেশে খুব কমন। এই রোগে অনেক বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু কী কী কারণে মানুষ এতে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আজ আমরা হ্যালো ডাক্তার বিভাগে কথা বলব বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. আসিফ মুজতবা মাহমুদ-এর সঙ্গে।

প্রশ্ন : বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বক্ষব্যাধির মধ্যে কোন কোন রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে?

উত্তর : পাঁচটি বড় রোগ দেশে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে অ্যাজমা, সিওপিডি, যক্ষ্মা, লাং ক্যানসার এবং ফুসফুসে সংক্রমণ।

প্রশ্ন : দীর্ঘদিনের কাশি কখন বক্ষব্যাধির লক্ষণ হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত?

উত্তর : আমরা সাধারণত যে কথাটি বলে থাকি, আপনার যদি দুই সপ্তাহের বেশি কাশি থাকে তাহলে এটা কিন্তু যক্ষ্মার লক্ষণ হতে পারে। এটা জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের একটি স্লোগান। ক্ষেত্রবিশেষে যারা ধূমপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে কাশিটা অনেক দিন ধরে বিস্তার করে। তবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে কারো কাশি যদি একাধারে চলতে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসা নেওয়া দরকার।

প্রশ্ন : আপনি তো বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব। তাই লাং ফাউন্ডেশন নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী?

উত্তর : লাং ফাউন্ডেশন নিয়ে আমাদের ভাবনা হলো, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যেন সুস্থ ফুসফুস নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে—এমন স্বপ্নই আমরা দেখি। এটাই আমাদের মিশন। আমরা এই লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কাজ করছি। চিকিৎসকদের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাই বিভিন্ন দিবসে। নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও বক্ষব্যাধি-সংক্রান্ত যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সেসব বিষয়ে আমরা সক্রিয় রয়েছি। এছাড়া উন্নত বিশ্বের বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের নিবিড় একটা সম্পর্ক রয়েছে। তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে রোগীদের উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা আমরা রাখি।

প্রশ্ন : বায়ুদূষণ ফুসফুসের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে?

উত্তর : বায়ুদূষণ মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। কারণ বায়ুর সঙ্গে ফুসফুসের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। এ জন্য ফুসফুস সরাসরি আক্রান্ত হয়। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। আতঙ্কের বিষয় হলো, বায়ুদূষণের যে পদার্থগুলো রয়েছে, সেগুলো অনেক সময় ফুসফুসের ভেতর দিয়ে রক্তনালিতেও চলে যেতে পারে।

প্রশ্ন : আমাদের দেশে যক্ষ্মা (TB) কতটা নিয়ন্ত্রণে আছে এবং মানুষকে কী বিষয়ে সচেতন হতে হবে?

উত্তর : খুব ভালো প্রশ্ন করেছেন। বিশ্বের মধ্যে যক্ষ্মার দিকে দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৬ বা ৭। তাই বলা যায়, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই আছি। আমরা জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আসছি। তাতেও কিন্তু আমরা যক্ষ্মাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি। বর্তমানে এক লাখের মধ্যে প্রায় ২২১ জন মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। সুতরাং, এই যে নতুন রোগী সৃষ্টি হচ্ছে, এতে আমরা যে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছি, তাতে ৬০-৭০ ভাগ রোগী আমাদের নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীনে আসছে। বাকি ৩০ শতাংশ কিন্তু নিয়ন্ত্রণে আসছে না। তাছাড়া একজন যক্ষ্মা রোগী কফের মাধ্যমে আরো ১০ জনকে আক্রান্ত করতে পারে। আমরা আশা করি, ২০৩৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূল হবে, তবে সেই পথ পাড়ি দেওয়াটা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

প্রশ্ন : কোভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে ফুসফুসজনিত জটিলতা সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা কী?

উত্তর : কোভিড-১৯ পরবর্তী আমাদের কিছু সাফল্য রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে কোভিড চলে যাওয়ার পর ফুসফুসে জটিলতার কিছু রোগী পাই। যেটিকে বলা হয়, পোস্ট কোভিড পালমোনারি ফ্রাইব্রোসিস। আমরা বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিদেশিদের কাছ‌ থেকে যে তথ্য পেয়েছি, তা সারা বাংলাদেশে আমাদের সহকর্মীদের মাধ্যমে প্রচার করি এবং কিছু ওষুধের মাধ্যমে পোস্ট কোভিড পালমোনারি ফ্রাইব্রোসিসকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। তারপরও যারা ধূমপান করছেন, বায়ুদূষণের বেশি ঝুঁকিতে আছেন, তাদের ক্ষেত্রে পোস্ট কোভিড পালমোনারি ফ্রাইব্রোসিস ফুসফুসের কার্যক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

শীতে নিউমোনিয়া বাড়ার কারণ

নাক কান গলার সুস্থতায় ১০ পরামর্শ

স্লিমিং ইনজেকশনে বাড়ছে ঝুঁকি

মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে আহত শিশুটিকে নিউরোসায়েন্সে ভর্তি

যেসব কারণে থাইরয়েড রোগে ভোগে শিশু

প্লান্টার ফ্যাসাইটিস কেন হয়

শীতে গলার স্বরে সমস্যা

শীতকালীন রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যেসব নির্দেশনা

দেশের সব হাসপাতালে সরকারের ৭ জরুরি নির্দেশনা

শীতে শিশুদের দরকার একটু বেশিই যত্ন