হোম > ফিচার > তথ্য-প্রযুক্তি

ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি

সুমাইয়া ইয়াসমিন সুম্মু

একসময় মানুষের পরিচয় শনাক্ত করতে প্রয়োজন হতো পরিচয়পত্র, স্বাক্ষর কিংবা আঙুলের ছাপ। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন শুধু মুখের ছবি বিশ্লেষণ করেই একজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব। স্মার্টফোন আনলক করা থেকে শুরু করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা। ব্যাংকিং সেবা কিংবা অপরাধী শনাক্তকরণ ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি দ্রুতই আধুনিক জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। তবে এই প্রযুক্তি যত জনপ্রিয় হচ্ছে, ততই বাড়ছে বিতর্ক। এটি কি মানুষের জীবনকে সহজ করছে, নাকি অদৃশ্য নজরদারির এক নতুন যুগের সূচনা করছে?

ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিংয়ের সমন্বয়ে কাজ করে। একটি ক্যামেরা মানুষের মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য। যেমন চোখের দূরত্ব, নাকের গঠন, চোয়ালের আকৃতি এবং মুখের অন্যান্য বিন্যাস বিশ্লেষণ করে একটি ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করে। পরে সেই তথ্যকে সংরক্ষিত ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দ্রুততা ও সহজ ব্যবহার। বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনে পাসওয়ার্ড টাইপ করার প্রয়োজন নেই। শুধু মুখ দেখালেই ফোন আনলক হয়ে যায়। ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবায়ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সময়ও সাশ্রয় হচ্ছে। বিমানবন্দর, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কাছেও এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় জনসমাগম, স্টেডিয়াম, রেলস্টেশন বা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত ক্যামেরার মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা পলাতক অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। অনেক দেশে নিখোঁজ শিশু বা হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতেও এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

তবে সুবিধার পাশাপাশি উদ্বেগও কম নয়। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি গোপনীয়তা নিয়ে। একজন মানুষ কোথায় যাচ্ছেন। কার সঙ্গে দেখা করছেন কিংবা কতক্ষণ কোথা অবস্থান করছেন। এসব তথ্য যদি ক্যামেরা ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়। তাহলে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কতটা নিরাপদ থাকবে? অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, অনিয়ন্ত্রিত ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো ভুল শনাক্তকরণ। প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, এটি শতভাগ নির্ভুল নয়। আলো, ক্যামেরার কোণ, বয়সের পরিবর্তন কিংবা ছবির মান খারাপ হলে ভুল ফল আসতে পারে। এর ফলে নিরপরাধ ব্যক্তি সন্দেহের মুখে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। বিশেষ করে, আইনপ্রয়োগের ক্ষেত্রে এমন ভুল বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নীতিগত বিতর্কও চলছে। অনেক দেশ এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন করেছে, যাতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার না হয়। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও এখন ডেটা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আরো স্বচ্ছতা দেখানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশেও ডিজিটাল সেবা ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় ধীরে ধীরে ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। তবে এর সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্য সুরক্ষা এবং আইনি কাঠামোর বিষয়গুলো সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করতে গিয়ে যেন নাগরিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করাও জরুরি। সব মিলিয়ে বলা যায়, ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি একদিকে যেমন আধুনিক নিরাপত্তা ও সেবার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অন্যদিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা নিয়ে নতুন প্রশ্নও তুলেছে। তাই এটি সুবিধা নাকি নজরদারি? তার উত্তর প্রযুক্তির মধ্যে নয়। বরং প্রযুক্তির ব্যবহার, নীতিমালা এবং মানবিক মূল্যবোধের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

সড়ক থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন

বিশ্বকাপের বলের ভেতর বিস্ময়কর প্রযুক্তি

বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল ক্যামেরা

বাবা দিবসে যেসব গ্যাজেট হতে পারে সেরা উপহার

সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে: প্রযুক্তিমন্ত্রী

ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস

মহাকাশে ঝড় : ১০০ কোটি টনের প্লাজমা মেঘ

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা

প্রযুক্তিনির্ভর ফিফা বিশ্বকাপ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিকল্প নেই: আইসিটি মন্ত্রী