বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং এখন আর নতুন কোনো বিষয় নয়। ঘরে বসে বৈদেশিক ক্লায়েন্টের কাজ করে দেশকে বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিচ্ছেন লাখো তরুণ। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত ফ্রিল্যান্সারদের পেশাগত পরিচয় বলতে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি স্বীকৃতি ছিল না। সেই অভাব পূরণ করতেই সরকার চালু করেছে ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড, যা এবার পাওয়া যাচ্ছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এই আইডি কার্ডের জন্য আবেদন ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে সরকারি ওয়েবসাইট freelancers.gov.bd-এর মাধ্যমে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের আওতায় গড়ে তোলা এই প্ল্যাটফর্মের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রকৃত ফ্রিল্যান্সারদের একটি জাতীয় ডেটাবেস তৈরি করা এবং তাদের পেশাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আওতায় আনা।
কেন এই আইডি কার্ড দরকার
ফ্রিল্যান্সারদের বড় একটি সমস্যা ছিলÑনিজেদের পেশা প্রমাণ করা। ব্যাংকিং সেবা, আয়কর-সংক্রান্ত বিষয় কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচয় দিতে গিয়ে অনেক সময় জটিলতার মুখে পড়তে হতো। সরকারি এই ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড সেই জায়গায় একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিচয় হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
এই আইডি কার্ড সবার জন্য নয়। আবেদন করতে হলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।
* আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
* জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে।
* আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা বিদেশি ক্লায়েন্টের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং আয় থাকতে হবে।
* নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করা কাজ ও আয়ের প্রমাণ দেখাতে হবে।
আবেদন করার নিয়ম
আবেদন প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক।
প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে ব্যক্তিগত তথ্য, কাজের ধরন, দক্ষতা এবং অনলাইন আয়ের তথ্য দিতে হবে। আবেদনকারীর কাছ থেকে সাধারণত যেসব ডকুমেন্ট চাওয়া হয়Ñ
* জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
* পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
* ফ্রিল্যান্সিং আয়ের প্রমাণ (পেমেন্ট স্ক্রিনশট বা স্টেটমেন্ট)।
সব তথ্য জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই-বাছাই করে। যাচাই সফল হলে আবেদনকারীর নামে ইস্যু করা হয় ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড।
ফ্রি হলেও সতর্কতা জরুরি
সরকারি এই আইডি কার্ড পেতে কোনো ফি লাগছে না। তাই কোথাও টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুয়া তথ্য দিয়ে আবেদন করলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে প্রকৃত ফ্রিল্যান্সারদেরই সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার জানতে পারবে দেশে কতজন সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার আছেন এবং তারা কোন কোন খাতে কাজ করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা কিংবা বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ফ্রি ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়Ñএটি বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন প্রয়োজন সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন এবং এই সুযোগের সঠিক ব্যবহার।