বাঙালি সংস্কৃতির লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে পিঠা। গ্রামাঞ্চলে নতুন ধান ওঠার পর থেকেই পিঠা তৈরি করা হয়ে থাকে। শহরের মানুষদের সেসব পিঠার স্বাদ গ্রহণ এবং তাদের নানারকম পিঠাপুলির সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে জাতীয়ভাবে বিভিন্ন উপলক্ষে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
আমাদের গ্রামগঞ্জের হারিয়ে যাওয়া সেই পিঠাপুলি এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। আমাদের নানির হাতে তৈরি করা বিভিন্ন স্বাদের পিঠা একসময় খুব মজা করে খেতাম। এখন নতুন প্রজন্ম দোকানে ফাস্ট ফুডের দৌরাত্ম্যে সেসব ঐতিহ্যবাহী মজাদার পিঠার স্বাদ হারাতে বসেছে। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং নতুন প্রজন্মকে প্রায় বিলুপ্ত বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই হচ্ছে পিঠা উৎসবের মূল উদ্দেশ্য।
ঢাকার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৩ মে পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী ১৯তম জাতীয় পিঠা উৎসব ও বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে । প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পিঠার সমাহার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন রয়েছে। আজ ৩ মে রোববার বৈশাখী পিঠামেলার শেষ দিন।
শিল্পকলা একাডেমিতে ১০ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসব ও বৈশাখী মেলা আজ রাতে শেষ হবে। জাতীয় পিঠা উৎসব উদ্যাপন পরিষদ এবং শিল্পকলা একাডেমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ২৪ এপ্রিল বিকাল ৩টায় এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সব তথ্য জানান পিঠা উৎসব উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম।
এবার উৎসবে বৈচিত্র্যময় পিঠার পাশাপাশি রয়েছে চারু ও কারুপণ্যের বিভিন্ন স্টল। এসব স্টলে সুস্বাদু মনকাড়া নকশার পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রন্ধনশিল্পীরা নানারকম ঐতিহ্যবাহী পিঠা নিয়ে এসেছেন; কুড়িগ্রাম, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এসে পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এছাড়া শুকনো খাবার খই, মোয়া, সাজ, মুরালি, বাতাসা-সহ নানারকম খাবারের স্টলও রয়েছে। কারুশিল্পের শৌখিন পণ্যের কিছু স্টলও মেলায় বসেছে। তবে এ মেলার বিশেষ আকর্ষণ দেশীয় ও বিলুপ্তপ্রায় পিঠার বিপুল সমাহার। এসব পিঠার মূল্য ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ টাকা পর্যন্ত। তবে বেশির ভাগ পিঠার মূল্যই ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও লোকসংগীত তো আছেই। প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে লোকনৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও নাটকসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এছাড়া শিশুদের জন্য রয়েছে নাগরদোলাসহ আরো খেলার ব্যবস্থা।
প্রতি বছর সব বিভাগে এ উৎসব আয়োজন করে জাতীয় পিঠা উৎসব উদ্যাপন পরিষদ। এটি একটি নিয়মিত বার্ষিক আয়োজন, যা সাধারণত শীতকালে হলেও ২০২৬ সালের ১৯তম আসরটি এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নিজেদের গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতে এবং সুস্বাদু পিঠাপুলির স্বাদ নিতে আপনার পরিবার, সহকর্মী কিংবা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে একবার ঘুরে আসতে পারেন পিঠামেলায়। মেলাটি স্বল্প পরিসরে হলেও ভালো সময় কাটবে।