হোম > ফিচার > নারী

বাবাকে মনে পড়ে…

বিশ্ব বাবা দিবস

নবণীতা রহমান

বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রথম বাবা দিবস পালন শুরু হয়। মা এবং বাবা দুজনেই একে অন্যের পরিপূরক। মূলত মায়ের পাশাপাশি বাবাও যে সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল, এটি বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে এবং পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা প্রকাশের জন্য এই দিনটি পালন করা শুরু হয়।

প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালন করা হয়। বাবার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাতেই এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়। বিশ্ব বাবা দিবস ২১ জুন, ২০২৬ তারিখে উদযাপিত হবে।

দিনটি কীভাবে আরো সুন্দর ও অর্থপূর্ণ করা যায়

বাবার পছন্দের ঘড়ি, কাপড় কিংবা দরকারি কোনো গ্যাজেট উপহার দিতে পারেন। বাবাকে নিয়ে বাইরে খেতে যেতে পারেন অথবা তার পছন্দের খাবার নিজ হাতে রান্না করে চমকে দিতে পারেন।

বাবার সঙ্গে বসে পুরোনো দিনের গল্প করুন, তার পছন্দের মুভি দেখুন কিংবা একসঙ্গে ঘুরতে যেতে পারেন।

বাবা ছাড়া জীবন চলার পথ কন্টকময়

প্রতিটি সন্তানের কাছে বাবা জীবনের সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ। বাবা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেউ বাবাকে তুলনা করে বটবৃক্ষের সঙ্গে, কেউবা আবার আকাশের বিশালতার সঙ্গে, কেউবা সমুদ্রের গভীরতার সঙ্গে। আস্থা, ভরসা আর পরম নির্ভরতার নাম বাবা। বাবা এমন এক বৃক্ষ, যে বৃক্ষ ছায়া দেয়, আত্মবিশ্বাসী করে এবং মনে শক্তি ও সাহস জোগায়।

সন্তানের কাছে বাবা মানে শক্তি আর সাহস। বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। এই ভালোবাসা কোনো বিশেষ দিনে সীমাবদ্ধ নয়; বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রতিটি দিন ও প্রতিটি ক্ষণের। যদিও বাবা-মায়ের জন্য বিশেষ দিন হিসেবে প্রতি বছর নির্দিষ্ট করে একটি দিন পালিত হয়ে আসছে। সন্তানের জন্য প্রতিদিনই বাবা দিবস এবং মা দিবস।

বাবার স্মৃতি নিয়ে অনেকেই মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখে। আমারও কত টুকরো টুকরো স্মৃতি, না বলা কথা লিখতে ইচ্ছে করে। তবে সে কথাগুলো একটু ব্যতিক্রম। তবে তাকে হারিয়ে বুঝেছি শূন্যতা কী। তাই প্রতিটি বাবা দিবস আমার সামনে ব্যথার পাহাড় হয়ে উপস্থিত হয়। আমার মাথার ওপর কোনো বটবৃক্ষ নেই! আকাশের বিশালতাও অনুভব করতে পারি না। অনুভূতির দরজায় বাবা শুধু কড়া নেড়ে যান। নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়। যত দিন যাচ্ছে, তত বাবার শূন্যতা অনুভব করছি।

মনের চাপা কষ্ট কারো কাছে ব্যক্ত করা হয়নি। ভয় হয় যদি মা কষ্ট পান। শুধু নীরবে বয়ে চলেছি এ ব্যথাভার। প্রতিটি মুহূর্তে উপলব্ধি করি বাবা ছাড়া একটা মেয়ে কতটা অসহায়! বাবার কাছে মেয়েরা নাকি সবসময় রাজকন্যা! বাবাহীন আমাকে সাধারণ মেয়ে হয়েই বাঁচতে হবে আমরণ।

ছোটবেলায় আমার বাবা নাকি গৃহকর্মীদের কোলে আমাকে দিয়ে বলতেন, ‘আমার মেয়ে যেন ব্যথা না পায়, এটা আমার জান!’ এ রকম কত কথা লিখতে গেলে মনে পড়ে যায়। সেসব দুর্লভ স্মৃতি আমার বুকেই সংরক্ষিত থাকুক।

যাদের বাবা বেঁচে নেই, তারা দিবসটিতে স্মৃতিকাতর হয়ে যান।

প্রতিটি মানুষের জীবনে বাবা ছাদ হয়ে থাকেন। আবার কারো কারো জীবনে বাবা নামক বৃক্ষটি কালবৈশাখী ঝড়ে হঠাৎ ভেঙে যাওয়া বটবৃক্ষের মতো হারিয়ে যায়। তখন বটবৃক্ষের নিচে থাকা গাছগুলোর মতো বাবাহারা সন্তানদের সমস্ত ঝড়-বৃষ্টি-রোদ মোকাবিলা করে পৃথিবীতে টিকে থাকতে হয়। অনেকের হয়তো ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত জীবনযাপন করতে হয়।

বাবা, সুখে-দুঃখে সবসময় তোমাকে মনে পড়ে। তোমাকে মিস করি প্রতিনিয়ত। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। যে যেখানেই থাকুন, সবার বাবা যেন ভালো থাকেন।

বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায়

নির্ভরতা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল বাবা

সংগ্রাম, সাহস ও সাফল্যের সাতকাহন

আলোকিত শিক্ষক তাহমিনা পারভীন

মা, বোন ও কন্যার জীবনের নিরাপত্তা কোথায়?

বিশ্বজুড়ে মুসলিম নারীদের মধ্যে ‘মডেস্ট’ ফ্যাশনের উত্থান

ঈদ-পরবর্তী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা জরুরি

প্রকৃতি রক্ষায় সংগ্রামী ফাহমিদা

কাজকে ভালোবাসুন, সহমর্মী হোন

ত্যাগের মহিমায় শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা