হোম > ফিচার > নারী

আঁকাআঁকিতে সুমিতার সফলতা

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

চারুকলায় পড়বেন, এমন কোনো কথা ছিল না। ভেবেছিলেন কমার্সের কোনো বিষয়ে পড়ে হয়তো ব্যাংকে চাকরি করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ভাস্কর্য বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন। বর্তমানে আঁকাআঁকিসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে কোনো মাসে লাখ টাকারও বেশি আয় করছেন। ফেসবুকে ছবি আঁকা বা আলপনা নিয়ে তার কনটেন্ট বেশ জনপ্রিয়। হাজার হাজার মানুষ তার আঁকার ভক্ত। সেসব কনটেন্ট থেকেই কতজন যে আলপনা আঁকা শিখেছে, তার ইয়ত্তা নেই। সফল এই শিল্পীর নাম সুমিতা হালদার শ্বেতা ।

মা, বাবা ও ছোট ভাই নিয়ে তার পরিবার। পরিবারে আর কেউ ছবি আঁকেন না। তবে তার মাসতুতো বোন ছবি আঁকতেন। তাকে দেখে সুমিতা ছবি আঁকা শিখেছেন। চারুকলায় ভর্তি হওয়ার পর মানুষ নানা রকম কথা বলেছেন, চারুকলা ভালো না, এখানে কোনো ভবিষ্যৎ নেই, চাকরি পাবে না, আরো কত কিছু। কিন্তু অদম্য সুমিতার ভাবনা ছিল অন্যরকম। তিনি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়ায়, কাউকে ঘরে এনে চাকরি তুলে দেয় না। চাকরি বা ভবিষ্যৎ নিজের পরিশ্রমে গড়ে নিতে হয়।

কাজের গল্প

সুমিতার কাজের পরিধি ব্যাপক। তিনি শুধু আঁকাআঁকি, আলপনা নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে ক্ষান্ত নন। পাশাপাশি বিয়ের মৌসুমে বিয়ের পিঁড়ি, কুলা ও গাছকৌটো তৈরি করেন। পূজার মৌসুমে তার কাছে হ্যান্ডপেইন্ট শাড়ি, পাঞ্জাবির প্রচুর অর্ডার থাকে। কেউ কেউ তার থেকে ডুডল পোর্ট্রেটও বানিয়ে নেন। ছবি আঁকা বা আলপনার কনটেন্টগুলোয় এত সহজভাবে বর্ণনা দেন সুমিতা, যা দেখে নতুনরাও শিখতে পারেন। তার ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘হালদার ডট সুমিতা টেন’। সাবস্ক্রাইবার প্রায় ২২ হাজার। আর ফেসবুক পেজের নাম ‘হালদার সুমিতা’, ১ লাখ ৪৬ হাজারেরও বেশি অনুসরণকারী সেখানে ।

আয়ের গল্প

মৌসুমের সময় ব্যবসা, ইউটিউব, ফেসবুক সব মিলিয়ে মাসে আয় লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। আবার মে, জুনে কাজ খুবই কম থাকে। তখন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো আয় হয়। আয়ের চেয়ে কাজের গুণগতমানের ওপর সুমিতার মনোযোগ বেশি। এ কারণে তার রিপিট কাস্টমারের সংখ্যাও কম নয়। অনেকেই একবার কাজ করিয়ে, পরে আবার তার থেকে কাজ করান, অন্যদের করাতে বলেন। সুমিতা জানান, এখন ফেসবুক থেকে কাজের অর্ডার সবচেয়ে বেশি পান।

অন্যদের জন্য সুযোগ আছে

পড়াশোনার পাশাপাশি সুমিতার মতো সৃজনশীল কাজ করে টুকটাক আয় অন্যরাও করতে পারেন। কোনো বাধা নেই। তবে এ বিষয়ে তার পরামর্শ হলো, অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত পড়াশোনার যেন ক্ষতি না হয়। হ্যান্ডপেইন্ট কাজে বেশ ভালো টাকা আয় করা সম্ভব। এখন সব ধরনের কাজেরই মার্কেট-ভ্যালু আছে । ছাত্র অবস্থায় আয় করলে নিজের খরচ মেটানো যায়। আবার সাধ্যমতো পরিবারের পাশে থাকাও সম্ভব।

পরিবারও খুশি

সুমিতার আঁকাআঁকিসহ সব ধরনের কাজে বাবা, মা ও ভাই সবাই খুব খুশি। এ ধরনের কাজে পরিবারের সমর্থন খুব গুরুত্বপূর্ণ এমনটাই মনে করেন সুমিতা।

আগামীর ভাবনা

আগামীর জন্য পরিকল্পনা করে রাখলে, সেটা সুমিতার বেলায় হয় উল্টো। যেমনটা করবেন ভেবে রাখেন, তা একদমই নয় না। তাই এখন যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলবে তার কাজ। ব্যর্থ হলে বড়জোর পাঁচ মিনিট মন খারাপ করবেন। তারপর আবার উঠে দাঁড়িয়ে পুরোদমে কাজ শুরু করবেন। কারণ, সুমিতা সব সময় বিকল্প পরিকল্পনা হাতে রেখেই এগিয়ে চলেন।

মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন যারা

সেলিমার ‘হোমমেড’ থেকে ‘হোমব্র্যান্ড’

রমজানে ইবাদত ও সাংসারিক অদৃশ্য শ্রম

নিজের কাজকে ভালোবাসতে হবে: শর্মি

দৃঢ় প্রত্যয় থেকেই বিসিএস ক্যাডার অনন্যা

নারীবান্ধব রাষ্ট্রনীতি ও তাদের সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন চাই

ভোটের মাঠে নারীর পদচারণা

স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও ভালোবাসা পাচ্ছেন নারী প্রার্থীরা

নিরাপদ খাবার নিয়ে সাবিহার পথ চলা

রাজধানীতে শীতকালীন উদ্যোক্তা মেলা