নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এই আগ্রহ ও উদ্দীপনায় পিছিয়ে নেই নারীরাও। তারা পুরুষের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। জনগণ তাদের উৎসবমুখর পরিবেশে সাদরে গ্রহণ করেছেন।
নারীর অংশগ্রহণ রূপ নিক নেতৃত্বে, সিদ্ধান্তে ও পরিবর্তনের শক্তিতে
গণতন্ত্র তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সমাজের প্রতিটি শ্রেণি ও লিঙ্গ সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব পায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীরা ভোটাধিকার অর্জন করলেও নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ এখনো সীমিত। নির্বাচন নারীদের জন্য কেবল ভোট দেওয়ার সুযোগ নয়; এটি নেতৃত্ব গঠনের একটি পথ। নারী নেতৃত্ব মানেই কেবল নারী প্রতিনিধিত্ব নয়—এর অর্থ আরো মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংবেদনশীল রাষ্ট্রনীতি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় নারী নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আসন্ন নির্বাচনে নারীদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া, নারী প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি পরিবেশে নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র ও উন্নত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। গণতন্ত্রে নারীর অংশগ্রহণ যেন অধিকারেই সীমাবদ্ধ না থাকে—তা রূপ নিক নেতৃত্বে, সিদ্ধান্তে ও পরিবর্তনের শক্তিতে।
জোলেখা আক্তার জিনিয়া
অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ
নিরাপদ ভোটাধিকার : নারীর ন্যায্য দাবি
নির্বাচন একটি দেশের গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একজন নারী হিসেবে আমি এমন একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করি, যেখানে সব নাগরিকের, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত থাকবে। নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, এটি নিজের মতামত প্রকাশ ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আমি চাই, নারীরা যেন কোনো প্রকার ভয়, বাধা কিংবা হয়রানি ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে। পাশাপাশি এমন প্রার্থী নির্বাচিত হোক, যারা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। বর্তমানে অনেক নারী রাজনীতিতে আগ্রহী হলেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তারা পিছিয়ে পড়ছে, যা দূর করা জরুরি। নারীরা যদি নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, তবে সমাজে ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তন আসবে। একটি স্বচ্ছ, অবাধ ও ন্যায়ভিত্তিক নির্বাচনই পারে দেশের গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করতে এবং সব নাগরিকের সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে।
সুমাইয়া আক্তার সুইটি
গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ
নির্বাচনে চাই নারীবান্ধব রাষ্ট্রনীতি
সামনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। সংখ্যার বিচারে নারী ভোটার অর্ধেকেরও বেশি হলেও রাষ্ট্রীয় নীতি, বাজেট বণ্টন, আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে নারীর বাস্তব অভিজ্ঞতা এখনো প্রান্তিক, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীরা কেবল ক্ষমতার প্রশ্নেই নয়, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক সম্মান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই অবহেলার শিকার। একজন নারী যেমন ঘরের বাইরে তেমনি ঘরের ভেতরেও ন্যূনতম সম্মান ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক—সব ক্ষেত্রেই নারীর অবদান অনস্বীকার্য। একজন নারী হিসেবে আমি প্রত্যাশা করি, নির্বাচনে নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা, কুসংস্কারমুক্ত সমাজ ও নারী-পুরুষের সমতা বাস্তব অর্থেই কার্যকর হবে। কেবল ক্ষমতার হাতবদল নয়, কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক শাসনই হোক মূল লক্ষ্য। নারীবান্ধব সমাজ গঠনে রাষ্ট্র ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যৎ শাসনামলে নারীর অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে নারী-পুরুষের যৌথ প্রচেষ্টায় উন্নয়নশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
ফারজানা আক্তার
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ
নারীর ভোট : সংখ্যা নয়, পরিবর্তনের শক্তি
নির্বাচন জনগণের মৌলিক অধিকার। নারীদের জন্য এটি কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; বরং নিরাপত্তা, অধিকার ও ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নারীর ভোট শুধু সংখ্যা নয়—এটি নীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে পরিবর্তনের হাতিয়ার। একজন নারী হিসেবে আমি এমন নেতৃত্ব দেখতে চাই, যারা নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে। বাস্তবতা হলো, নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে অনেক নারী এখনো শঙ্কিত। নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক চাপ ও অবহেলা তাদের অংশগ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে নারীরা এখন আর নীরব নয়। সচেতন নারীরা প্রশ্ন করছে—‘কারা আমাদের কথা বলবে, কারা সত্যিকারের প্রতিনিধি হবে?’ কেবল ভোট প্রদান নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই আজকের মূল দাবি। একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন তখনই সার্থক হবে, যখন নারীরা ভয়মুক্ত পরিবেশে মত প্রকাশ করতে পারবে এবং তাদের ভোট রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে বাস্তব প্রভাব ফেলবে।
শাহতাজ জাহান সাদীয়া
অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ
নির্বাচনে নারীর সচেতন অংশগ্রহণই পারে পরিবর্তন আনতে
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এই আগ্রহ ও উদ্দীপনায় পিছিয়ে নেই নারীরাও। বরং সব বৈষম্যমূলক প্রথা ভেঙে সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে নারীরা এখন আরো সচেতন। এই সচেতনতার ফলে নির্বাচনি প্রার্থীদের নারীর প্রশ্ন ও জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নারীরা এমন প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যারা নারীর অধিকার রক্ষা, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে নারীর ভূমিকা অসামান্য। তাই নারী ভোটারদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ এবং সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ের মাধ্যমেই নারীরা তাদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। একই সঙ্গে সবাই একটি সহিংসতামুক্ত, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। নতুন বাংলাদেশ গঠনে নির্বাচন নিয়ে নারীদের এই ইতিবাচক মনোভাব দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এটাই সাধারণ মানুষের বিশ্বাস।
ইংরেজি বিভাগ
ইডেন মহিলা কলেজ