হোম > জুলাই বিপ্লব

গুলিবিদ্ধ কাউসারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার

সাইফুল ইসলাম ফারহান, শরীয়তপুর

কাউসার আহমাদের বয়স ২০। শরীয়তপুরের একটি মাদরাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি মুয়াজ্জিনের চাকরি করতেন তিনি। গত বছরের ৫ আগস্ট ‘লংমার্চ টু ঢাকা’য় অংশ নিতে ফজরের নামাজ পড়ে কাউকে না জানিয়ে হেঁটে শরীয়তপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

মাঝে মাঝে গাড়ি পেলেও বেশিরভাগ পথ হেঁটেই আসতে হয় তাকে। আন্দোলনে শহীদ হলে মানুষ তার পরিবারের কাছে যেন লাশটা পৌঁছে দিতে পারে, সেজন্য ছোট একটি কাগজে নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে পকেটে রেখেছিলেন।

ঢাকায় পৌঁছে যাত্রাবাড়ী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজলা টোলপ্লাজার সামনে আন্দোলনে অংশ নেন কাউসার। দুপুর ১টার দিকে পুলিশের ছোড়া একটি গুলি তার পিঠ দিয়ে ঢুকে বুকের বাম পাঁজরের নিচ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গুলি লাগার পর মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আহতাবস্থায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন । দীর্ঘ দুই মাস চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে হাঁটাচলা করতে পারলেও ভারী জিনিস তুলতে ও নিশ্বাস নিতে সমস্যা হয় তার। অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠেন। এ অবস্থায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার।

কাউসার শরীয়তপুরের পালং থানার চিকন্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ শৌলা গ্রামের আব্দুল মান্নান মাদবর ও আসমা আক্তার দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিনি কওমি মাদরাসার মিজান জামাতের শিক্ষার্থী। এখন পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা হিসেবে জেলা প্রশাসন থেকে ২০ হাজার, উপজেলা পরিষদ থেকে ২০ হাজার এবং শহীদ জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে এক লাখ টাকা পেয়েছে বলে জানায় তার পরিবার।

আহত কাউসারের সঙ্গে কথা হয় আমার দেশ-এর। তিনি বলেন, আন্দোলন নিয়ে আমার মধ্যে একটা জিনিসই কাজ করেছেÑ যদি মরে যাই তাহলে শহীদ হয়ে যাব। তাই পকেটে নাম-ঠিকানা লিখে রেখেছিলাম, যাতে পরিবার লাশটি খুঁজে পায়। ওই দিন যাওয়ার সময় মাদরাসার শিক্ষার্থী হয়েও জুব্বা, পাঞ্জাবি কিছুই পরিনি আমি। শুধু পাজামা ও একটি গেঞ্জি পরেই রওনা দিই।

আন্দোলনে গুলি খাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে কী ঘটেছিল তা জানতে চাইলে কাউসার বলে, আমরা যখন আন্দোলন করছিলাম তখন হঠাৎ পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে। তখন ১৪-১৫ জন লোক শহীদ হন। আমার পাশেই একজনের মাথায় গুলি লেগে মারা যান। আমি তখন সামনের দিকে দৌড়াচ্ছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে একটি গুলি আমার পিঠ দিয়ে ঢুকে বুকের নিচ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গুলি লাগার পর মাটিতে পড়ে গেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারা হাসপাতালে না নিয়ে গেলে আমিও হয়তো মারা যেতাম তখন। রোগীর চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে বাসায় গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তখন ঢাকায় খালার বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করি আমি। এরপর ধীরে ধীরে সুস্থ হলেও বুকের পাঁজরে গুলি লাগায় এখনো কোনো ভারী জিনিস তুলতে পারি না। নিশ্বাস নিতেও অনেক কষ্ট হয়। যারা আমাকে আহত করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

কাউসারের মা আখি আক্তার বলেন, যখন শুনতে পাই আন্দোলনে কাউসার গুলি খেয়েছে, আমাদের বাড়িতে মানুষজন এসে ভরে যায়। সবাই কান্না করেছে তার জন্য। আমরা ভাবিনি কাউসার বেঁচে আছে। সবার দোয়ায় হয়তো এখনো বেঁচে আছে, এটাই অনেক কিছু। শিক্ষার্থীদের গুলি করে যারা এভাবে হত্যা করেছে, আহত করেছে যারা, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

কাউসারের বাবা আব্দুল মান্নান বলেন, আমার ছেলে মারা যেতে পারত। কিন্তু আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছে। সে ভারী কোনো কাজ করতে পারে না। নিশ্বাস নিতেও খুব কষ্ট হয়। আমরা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। এখন সরকারের কাছে দাবিÑ সরকার যেন তাকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে, যাতে ভবিষ্যতে ভালোভাবে বাঁচতে পারে।

বিকেএসপিতে জুলাই বিপ্লবে আহত যোদ্ধাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সনদ প্রদান

দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর চায় শহীদ শিশুদের পরিবার

বাবুগঞ্জে ৩ শহীদ পরিবারের প্রতিক্রিয়া, ‘রায় ঘোষণা নয়, দ্রুত কার্যকর চাই’

জুলাই যোদ্ধাকে বাদী সাজিয়ে বানোয়াট মামলা

অর্থাভাবে অপারেশন করাতে পারছেন না জসিম

মাদরাসা ও সংসার হারিয়ে দিশেহারা জুলাইযোদ্ধা শফিকুর

গুলি খেয়ে কাতরাচ্ছিলেন তাইম, দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিল পুলিশ

স্বামী হত্যাকারীদের ফাঁসি চান শহীদ মিজানুর রহমানের স্ত্রী

টিয়ারশেলের স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন রাফি

অবহেলার শিকার শহীদ নুরুল মোস্তফার পরিবার