প্রফেসর মুহাম্মদ মোহর আলীর বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনাকে নিছক বিংশ শতাব্দীর এক বাঙালি ইতিহাসবিদের কর্মতৎপরতা হিসেবে দেখলে তার প্রতিভার প্রতি অবিচার করা হবে; মূলত তার কাজ ছিল প্রাচ্যতত্ত্বের (Orientalism) পদ্ধতিগত ব্যবচ্ছেদ এবং দক্ষিণ এশীয় মুসলিম ইতিহাসের পুনর্গঠন প্রচেষ্টা।
১৯২৯ সালে তিনি খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবনের শুরু হয় স্থানীয় স্কুলে, তবে ১৯৪৪-৪৫ সালে হুগলি মাদরাসায় যোগদানের মাধ্যমে তার জ্ঞানতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক সত্তার প্রকৃত বিকাশ ঘটে। হুগলি মহসিন কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি অল বেঙ্গল মুসলিম স্টুডেন্টস লীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং ১৯৪৬ সালে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ পরবর্তী জীবনে তার ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিম এবং শাহ আজিজুর রহমানের মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাহচর্যে রাজনৈতিক পরিপক্বতা অর্জন করেন।
দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন।
তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ এবং রাজশাহী সরকারি কলেজে শিক্ষকতার মাধ্যমে। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং সেখানেই তার গবেষক-জীবনের সূচনা হয়।
মোহর আলীর বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার ‘এভিডেন্স-ড্রিভেন’ বা তথ্যপ্রমাণনির্ভর পদ্ধতি, যার মাধ্যমে তিনি বাংলার মুসলিম ইতিহাস এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সিরাত ও কোরআনের অলঙ্ঘনীয়তাকে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করেছেন।
লন্ডন থেকে মদিনা
মোহর আলীর পাণ্ডিত্যের ব্যাপ্তি ছিল আন্তর্জাতিক। লন্ডনের সোয়াস (SOAS) থেকে পিএইচডি এবং লিংকন’স ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জন তার বিশ্লেষণ ক্ষমতাকে অনন্য করে তুলেছিল। একজন ইতিহাসবিদের বিবরণ ও বিশ্লেষণ এবং একজন ব্যারিস্টারের বিচারিক মেধা—এই দুয়ের মিশেলে তিনি ইতিহাসের প্রচলিত অনেক ভুল বয়ানকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অধ্যাপনা করেন। সেখানে তিনি বাংলার ইতিহাস, সিরাত এবং কোরআন গবেষণা-সংক্রান্ত কালজয়ী গ্রন্থগুলো রচনা করেন।
বাংলার ‘মুসলমানি’ ইতিহাস পুনর্গঠন
মুহাম্মদ মোহর আলীর বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানের শ্রেষ্ঠ স্মারক তার চার খণ্ডে রচিত আকর গ্রন্থ— ‘History of the Muslims of Bengal’। রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন রচিত এই গ্রন্থটি বাংলার ইতিহাসের প্রচলিত ঔপনিবেশিক ও সাম্প্রদায়িক বয়ানকে আমূল বদলে দিয়েছে। তার আগে স্যার যদুনাথ সরকারের মতো ইতিহাসবিদরা বাংলার মুসলিম আমলকে এক প্রকার ‘বহিরাগত শাসন’ হিসেবে দেখার যে ধারা তৈরি করেছিলেন, মোহর আলী তা অকাট্য তথ্যপ্রমাণের মাধ্যমে খণ্ডন করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস কেবল রাজবংশ পরিবর্তন বা সুলতানদের ক্ষমতার লড়াই নয়; বরং এটি একটি সুসংহত জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও সমাজকাঠামো নির্মাণের সুদীর্ঘ প্রক্রিয়া।
ধর্মান্তর বিতর্ক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
বাংলার মুসলিম জনমিতি নিয়ে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এইচ এইচ রিসলির মতো ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানীরা নেতিবাচক তত্ত্ব প্রচার করেছিলেন—‘বাংলার মুসলমানরা মূলত নিম্নবর্ণের হিন্দুদের মধ্য থেকে ধর্মান্তরিত জনসমষ্টি।’ মোহর আলী তার গবেষণায় এই ‘একপক্ষীয়’ তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি দেওয়ান ফজলী রাব্বীর (১৮৯৩) ঐতিহাসিক গবেষণাকে আরো বিস্তৃত ও আধুনিক তথ্যপ্রমাণে সমৃদ্ধ করেন, যার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়—
অভিবাসন ও সংমিশ্রণ : গত ৬০০ বছর ধরে আরব, তুর্কি, পারস্য এবং মধ্য এশিয়া থেকে আসা বিপুলসংখ্যক সুফি, সৈনিক ও বণিক বাংলায় স্থায়ী বসতি গড়েছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের বৈবাহিক ও সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ এক সমৃদ্ধ মুসলিম ঐতিহ্যের জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক মুক্তি বনাম বলপ্রয়োগ : ইসলামের প্রসারে ‘তরবারি’র চেয়ে তিনি ‘মাশায়েখ’ বা মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক প্রভাবকে মুখ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, বর্ণপ্রথার নিগড়ে পিষ্ট সাধারণ মানুষের কাছে ইসলামের ‘সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী’ কেবল ধর্মীয় রূপান্তর ছিল না, বরং ছিল একটি সামাজিক মুক্তি। তিনি সুফিদের পত্রাবলি (মাকতুবাত) বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেনÑকীভাবে এই নীরব বিপ্লব বাংলার মানচিত্র বদলে দিয়েছিল।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও মুসলিম প্রতিরোধ
মোহর আলীর গবেষণার আরেকটি উজ্জ্বল দিক হলো, ১৮ শতকের শেষার্ধ থেকে ১৯ শতক পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাংলার মুসলমানদের প্রতিরোধ আন্দোলনের নির্মোহ বিশ্লেষণ। লন্ডনের ‘ইন্ডিয়া অফিস’ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত হাজার হাজার অপ্রকাশিত নথিপত্র ঘেঁটে তিনি তথাকথিত ‘জিহাদ আন্দোলন’-এর এক প্রামাণ্য বিবরণ তুলে ধরেন।
এখানে তিনি ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘The Indian Musalmans (1871)’-এর ওপর সবচেয়ে বড় বুদ্ধিবৃত্তিক আঘাত করেছিলেন। সাধারণ চোখে হান্টারের বইটিকে মুসলমানদের প্রতি সিমপ্যাথেটিক মনে হলেও মোহর আলী প্রমাণ করেছেন, হান্টারের বয়ান ছিল মূলত ব্রিটিশদের ‘শাসন কৌশল’ পরিবর্তনের এক সূক্ষ্ম চাল। তিনি দেখিয়েছেন, বাংলার মুসলমানরা হান্টারের ‘সহানুভূতি’ লাভের অনেক আগেই তাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিরোধ চেতনা গড়ে তুলেছিল। বিশেষ করে ‘স্টেট ট্রায়াল’ বা রাষ্ট্রীয় মামলাগুলোর নথি ব্যবহার করে তিনি প্রমাণ করেছেন, এই আন্দোলনগুলো কেবল ধর্মীয় ইস্যুভিত্তিক ছিল না, বরং তা ছিল বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধ।
প্রাচ্যতত্ত্বের ব্যবচ্ছেদ
সত্তর ও আশির দশকে সৌদি আরবে অবস্থানের সময় তার গবেষণা নতুন বাঁক নেয়। তিনি উপলব্ধি করেন, প্রাচ্যবিদরা (Orientalists) অত্যন্ত সূক্ষ্ম জ্ঞানতাত্ত্বিক আবরণে সিরাত ও কোরআনের অলৌকিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। উইলিয়াম মুর কিংবা মন্টগোমারি ওয়াটের মতো তাত্ত্বিকরা যখন সিরাতকে ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছিলেন, মোহর আলী তখন প্রচলিত ‘রক্ষণশীল’ পদ্ধতি পরিহার করে কঠোর যৌক্তিক ও ঐতিহাসিক পদ্ধতিতে তাদের মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেন।
তার কালজয়ী গ্রন্থ ‘Sirat al-Nabi and the Orientalists’ প্রাচ্যতত্ত্বের পদ্ধতিগত ভ্রান্তিগুলোকে ধরিয়ে দেওয়ার এক প্রামাণ্য দলিল। পশ্চিমা গবেষকরা প্রায়ই মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনা থেকে খণ্ডিত অংশ নিয়ে নিজেদের তত্ত্ব সাজাতেন। মোহর আলী একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞের মতো এই ‘সাক্ষ্য-প্রমাণ’গুলো ব্যবচ্ছেদ করেছেন।
২০০৪ সালে প্রকাশিত ‘The Qur’an and the Orientalists’ গ্রন্থে মোহর আলী পাণ্ডিত্যের আরেক রূপ দেখিয়েছেন। প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের দাবি ছিল—কোরআনে ‘বিদেশি শব্দ’ থাকা প্রমাণ করে যে, এটি মানব-সংকলিত গ্রন্থ। মোহর আলী এখানে ভাষাতাত্ত্বিক যুক্তির এক দেয়াল তুলে ধরেন। তিনি দেখান যে আরবি, ইথিওপিক ও সিরিয়াক ভাষাগুলো একই ভাষাগোষ্ঠীর (Cognate Languages), ফলে এদের মধ্যে সাধারণ মূল শব্দ থাকাটা স্বাভাবিক। এছাড়া আরবরা দীর্ঘকাল বাণিজ্যের সূত্রে অনেক শব্দ নিজেদের ভাষায় আত্তীকরণ (Naturalization) করে ফেলেছিল, যা তৎকালীন জীবন্ত আরবি ভাষারই অংশ ছিল।
লিংকন’স ইন-এর আইনি প্রশিক্ষণ মোহর আলীর গবেষণায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল। তিনি ইতিহাসকে দেখেছেন প্রমাণের নিক্তিতে। একজন ব্যারিস্টারের বিশ্লেষণী ক্ষমতা দিয়ে তিনি তথ্যের অপব্যাখ্যাগুলোকে ব্যবচ্ছেদ করেছেন। তার প্রতিটি পাদটীকা ও নির্ঘণ্ট ছিল এক একটি গবেষণার আকর। তিনি প্রাচ্যতত্ত্বের মোকাবিলা করেছেন তাদেরই শেখানো ‘ক্রিটিকাল মেথডোলজি’ ব্যবহার করে। তিনি প্রমাণ করেছেন, ঐতিহাসিক তথ্যের সামনে কোনো সূক্ষ্ম অপপ্রচারই দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
প্রফেসর মুহাম্মদ মোহর আলী নিগূঢ় শাস্ত্রীয় জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। এই দায়বদ্ধতা থেকেই উৎসারিত হয়েছে তার অনুবাদ কর্মগুলো। তার রচিত ‘A Word for Word Meaning of the Qur’an’ বিশ্বজুড়ে ইংরেজিভাষী গবেষকদের কাছে আজ এক অপরিহার্য গ্রন্থ। তিনি কোরআনের প্রতিটি শব্দের নিচে তার আক্ষরিক ইংরেজি অর্থ প্রদান করেছেন, যা আরবি ব্যাকরণ ও শব্দতাত্ত্বিক বিন্যাস বোঝার এক অভূতপূর্ব সোপান। এছাড়া ইমাম বুখারির ‘তাজরিদুল বুখারি’র সাবলীল বাংলা অনুবাদ ছিল মাতৃভাষার প্রতি তার মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ।
শিক্ষাদর্শন ও শিক্ষকতা
মোহর আলী কেবল তথ্য বিতরণকারী শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ‘মেন্টর’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পদচারণা ছিল প্রবাদপ্রতিম। শিক্ষক হিসেবে তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল ছাত্রদের মধ্যে একটি অনুসন্ধিৎসু ও বিশ্লেষণী মন (Analytical Mind) তৈরি করা। তিনি ইতিহাসের ‘রেডিমেড’ বয়ান গেলানোর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের শিখিয়েছেন—কীভাবে তথ্যের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হয়। আজকের বৈশ্বিক ইসলামি স্কলারশিপের এক বিরাট অংশ তারই হাতে গড়া।
কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি
২০০০ সালে মোহর আলীকে প্রদত্ত ‘কিং ফয়সাল ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ’ ছিল তার দীর্ঘমেয়াদি শাস্ত্রীয় জ্ঞানচর্চার বিশ্বজনীন স্বীকৃতি। আরব বিশ্বের বাইরে ইসলামের প্রসার ও সাংস্কৃতিক প্রভাব ক্যাটাগরিতে তিনি এই গৌরব অর্জন করেন। তিনি কিং ফয়সাল ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পাওয়া এ যাবৎকালের একমাত্র বাঙালি। তার এই অর্জন প্রমাণ করে, বাংলার মুসলিম ইতিহাস মুসলমানদের বৈশ্বিক ঐতিহ্যের মূলধারার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার ও প্রভাব
মুহাম্মদ মোহর আলীর উত্তরাধিকার কেবল তার বইপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী গবেষণা পদ্ধতির মধ্যে বেঁচে আছে। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, কীভাবে পাশ্চাত্য গবেষণার পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করেই প্রাচ্যতত্ত্বের অসারতা প্রমাণ করা যায়। বর্তমান যুগে যখন মুসলিম পরিচয়ের সংকট প্রকট, তখন মোহর আলীর গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বাংলার মুসলমানদের একটি সমৃদ্ধ অতীত আছে। তার সিরাত ও কোরআন-বিষয়ক কাজগুলো আজও পশ্চিমা বিশ্বে ইসলামোফোবিয়া ও নাস্তিক্যবাদের তাত্ত্বিক মোকাবিলায় অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রফেসর মুহাম্মদ মোহর আলী ছিলেন একাধারে ইতিহাস সচেতন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন সৎ একজন মানুষ। সত্যের সন্ধানে তিনি ছিলেন আপসহীন। তিনি বাংলার মুসলিম জনপদকে কেবল একটি ভূখণ্ড হিসেবে দেখেননি, বরং একে দেখেছেন এক বিশাল জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হিসেবে। ২০০৭ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। তবে তিনি যে ‘জ্ঞানতাত্ত্বিক বাতিঘর’ তৈরি করে গেছেন, তা অনাগত কালের গবেষক ও সত্যানুসন্ধানীদের জন্য এক শাশ্বত আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।