হোম > সাহিত্য সাময়িকী > প্রবন্ধ

ফররুখ কেন পড়ব

শামশাম তাজিল

১০ জুন, ১৯১৮ - ১৯ অক্টোবর, ১৯৭৪

১.

তৌহিদী মশাল বহি চলে গেছে যারা যাত্রীদল

—পাথর চাপানো ভার, আঘাতের ভারী বোঝা টেনে,

অবিশ্বাসী শর্বরীর শিলা-বক্ষে সূর্য তীর হেনে

অগণ্য মৃত্যুর মাঝে নিষ্কম্প, নির্ভীক-অচঞ্চল;

তাদের কাফেলা মাঝে নিঃসংশয় অভিযাত্রী জেনে

মানুষের মুক্ত স্বপ্ন রেখে যাই অশ্রু সমুজ্জ্বল।

ফররুখ আহমদ ‘সিরাজাম মুনীরা’ মৌলানা আবদুল খালেককে উৎসর্গ করতে গিয়ে যে সনেট লিখেছেন, তার ষষ্ঠকে নিজের কাব্যচর্চার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে গিয়েছেন। যে তাগিদ থেকে তিনি কবিতা লিখেছেন তার মর্মবাণী পাঠকমাত্র উপলব্ধি করতে পারবেন। রাজনীতি, সাংস্কৃতিক বোধ আর ধর্মচেতনা তার কাব্যে একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে। ধর্মের সঙ্গে নন্দনতত্ত্বও তার কাব্যে সমানভাবে কার্যকর। সেটা আমরা কথা বলতে বলতে দেখতে পাব। ধর্ম, রাজনীতিকতা, নন্দনতত্ত্ব আর কবিতার সম্পর্ক এই কালে বিপ্লবী কর্মকাণ্ড ও পরিবর্তনকামিতার শর্ত হয়ে উঠেছে; এইটা ফররুখ আহমেদের আমলেও তা-ই ছিল! তার কবিতার ভেতর দিয়ে তা দেখার প্রয়াস চালাব।

২.

তার কবিতার কথা বলতে গেলে কবিতা রচনার কালের দিকেও তাকানো দরকার। কিছুই কাল বিচ্ছিন্ন নয়। তিনি গত শতাব্দীর চল্লিশের দশক থেকে শুরু করে তা প্রায় ১৯৭০ অবধি নিরবচ্ছিন্নভাবে কবিতা লিখে গিয়েছেন। তার সৃষ্টিকালের প্রায় শুরু থেকেই তিনি পাঠক-সমালোচকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার সম্পর্কে বিতর্ক রয়েছে প্রচুর। তার জীবদ্দশায় সে বিতর্ক তাকে আলোচিত-সমালোচিত করেছে। কিন্তু কখনো উপেক্ষিত ছিলেন না।

১৯৪৩ সালে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সম্মেলনের মূল সভাপতির ভাষণে ‘নবনূর’ সম্পাদক সৈয়দ এমদাদ আলী বলেন, “আমাদের নবীন কবিদের মধ্যে ফররুখ আহমদ পথের সন্ধান পাইয়াছেন বলিয়া মনে হয়। তাহার ‘নিশানবাহী’ এবং ‘সাত সাগরের মাঝি’ কবিতা ভবিষ্যতের দিক দিয়া শুভসূচনা।”

সেই বছরই ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তার কবিতা সম্পর্কে লেখা হয়: 

অগ্রহায়ণের ‘মাসিক মোহাম্মদী’র মুখপাত্রের কবিতা ‘মজলুম’ যেন সমস্ত মুসলমান সমাজের গভীর আর্তনাদের মতন শুনাইতেছে; তোমরা তো এতদিন মুক্ত ছিলে ভাই, শেষ পর্যন্ত তোমরাও মজিলে?

এই উৎপীড়িত হাড়, বুভুক্ষু জিন্দিগী আর পদপিষ্ট ছিনা

আজ শুধু তোমাদের করে যাবে ঘৃণা;

উত্তপ্ত লেলিহ ধোঁয়া বুকে তার উৎপীড়িত রাত্রি হবে ভোর

সে আগুন জ্বালানোর দুর্বার জেহাদে।

এ অভিশাপ যে আধুনিক কবিতাপীড়িত আমাদেরই উচ্চার্য্য। 

(শনিবারের চিঠি, পৌষ ১৩৫০)

সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার তিনি পেয়েছেন, তার জীবদ্দশাতেই পাঠ্যপুস্তকে গৃহীত হয়েছেন। তার গ্রন্থ কলেজ পর্যায়ে পাঠ্য ছিল। সেটা কেবল রাজনীতিক কারণে ছিল না; ছিল কবিতার উৎকর্ষের কারণেই। তবে বিতর্ক কখনো তাকে ত্যাগ করেনি। দেখেছি তিনি তার আদর্শে সবসময় দৃঢ় ও সোচ্চার ছিলেন। যদিও তার কারণে তাকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে, কিন্তু তিনি তা থেকে বিচ্যুত হননি। তার সেই আদর্শ ছিল ইসলাম।

৩.

ইসলামের প্রতি অনুগত ছিলেন বলেই তিনি মুসলমানদের জন্য রাষ্ট্র নির্মাণে আগ্রহী ছিলেন। তার সেই আগ্রহের মাত্রা নির্মাণের কোনো মানদণ্ড আমাদের কাছে নেই। কিন্তু একজন কবির প্রধান চিন্তা থাকে কবিতা নির্মাণ করা। সেদিকে তাকালে দেখি ১৯৪৬ সালে ফররুখ আহমদের কাব্য-পুস্তিকা ‘আজাদ করো পাকিস্তান’ প্রকাশিত হয়। তাতেই উপলব্ধি করতে পারি মুসলমানদের স্বাধীন রাষ্ট্র নির্মাণে তিনি কতটা উদগ্রীব। 

তার এই কবিতা গ্রন্থ সম্পর্কে বসুধা চক্রবর্তী লিখছেন: 

মুসলিম ভারতের বাঞ্ছিত পাকিস্তান আজও অলব্ধ, আজও তা বন্ধনমুক্ত নয়। কবি ফররুখ আহমদের কণ্ঠ তারই মুক্তি আনবার আহ্বানে মুখর হয়ে উঠেছে। এই বইয়ে রয়েছে তার পরিচয়। বাহ্যত একে রাজনৈতিক প্রচারবাণী বলে মনে হবে, কিন্তু রাজনৈতিক আন্দোলনের পিছনে মানুষের যে আত্মোদ্বোধনের ব্যাকুলতা কবির মারফত, তারই প্রকাশ যখন আমরা উপলব্ধি করতে পারব, তখন আর এ-কাব্যকে প্রোপাগান্ডা মনে হবে না। 

(মৃত্তিকা, আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৫৩)

ইংরেজদের শাসন-শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে সৃষ্ট মুসলমানদের রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি ছিল তার আনুগত্য।

ইসলামে বিশ্বাস কীভাবে তার কবিতার অনুষঙ্গ হয়েছে, আর সেই সব কবিতা—কবিতার দাবি পূরণের সঙ্গে সঙ্গে—আজও পাঠককে আদর্শায়িত করতে উদ্বুদ্ধকরণ করছে, (যদিও কবিতার কাজ সেটা নয়, এমন কথাও কেউ কেউ বলেন। তবে কবিতার কাজ কী, সেটাও সব সময় স্পষ্ট নয়!)। ইসলাম কীভাবে কাব্যে উপস্থিত থেকে চিন্তাকে পরিশীলিত করে, রাজনীতি আর পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে, সেই পরিচয়ও আমরা তার কবিতা থেকে অন্বেষণ করব।

ভারত ভাগের যুগসন্ধিক্ষণে (!) বাংলার মুসলিম যখন জীবনমরণ সংগ্রাম আর লড়াইয়ে লিপ্ত, সে সময় মুসলিম জনসাধারণকে মুসলিম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিধন্য রাষ্ট্র নির্মাণের আহ্বান জানান ফররুখ আহমদ। যে সুর আর ব্যঞ্জনা নিয়ে হাজির হন তিনি, তা পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র নির্মাণে বিভোর। তিনি লেখেন:

শুনবো-না আর পিছন টান

মানব-না আর বান তুফান

ডাকছে খুন রক্তারুণ

পাকিস্তানের পথ উজল

সামনে চল : সামনে চল।

কিন্তু কেন তিনি পাকিস্তান রাষ্ট্র নির্মাণে উৎসাহী—এমন প্রশ্ন যখন আমাদের বিচলিত করে (পাকিস্তান রাষ্ট্র নির্মাণের ৭০ বছর পরেও কেন আমরা বিচলিত হই, তার কারণ অন্বেষণ কঠিন নয়, তবে সেইসব কথা আজ আলোচ্য নয়।) তখন আমরা দেখি তিনি ‘নতুন মোহাররাম’ কবিতায় লিখছেন:

আজিকে জেহাদ এজিদের সাথে,

দল বেঁধে এসে খুনেরা-প্রভাতে

ভাঙো জুলুমের জুলমাত; হোক

জালিমের শিরে বজ্রপাত।।

আমরা উপলব্ধি করতে সক্ষম হই, ফররুখ আহমদ মূলত শোষণমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে উৎসাহী। জনগণের অধিকার হরণকারী এজিদীয় রাষ্ট্রিক জুলুম-নির্যাতন থেকে মুক্ত হতে গেলে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র গঠন করা আবশ্যক। সেই আবশ্যিকতাকে তিনি বাস্তবায়িত করতে চান। কবি হিসেবে তার যা করণীয়, তিনি তা তখন পালন করে চলেছেন । ফররুখ আহমদের ওপর কবি ইকবাল ও কাজী নজরুল ইসলামের প্রভাবের কথা অনেকে বলে থাকেন। ব্যক্তি ফররুখ আহমদের ওপর যদি কারো প্রভাব প্রকটভাবে ধরা পড়ে থাকে, তবে তিনি আবু জর গিফারি (রা.), নিজের আদর্শকে আঁকড়ে ধরে থাকতে যিনি বদ্ধপরিকর। ব্যক্তি ফররুখ আহমদের জীবনের দিকে তাকালেও সেটা স্পষ্ট হয়। যেখানে দেখি আবু জরের মতো তিনিও একা, দুর্বল কিন্তু অনমনীয়। কবি আবদুল কাদির তাকে নিয়ে একবার লিখেছিলেন: ‘...নজরুল জাতীয় গণতান্ত্রিক কবি, আর ফররুখ ধর্মবাদী (পাকিস্তানবাদী?) সমাজতান্ত্রিক।’

৫.

যদিও সজ্ঞান, সচেতন মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বৈষয়িক স্বার্থ দ্বারা চালিত হয়। উৎপাদন, ভোগ ও বিনিময় সম্পর্ক মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নির্ণয় করে। এই সম্পর্ক বিচার করেই রাজনীতি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ঐতিহ্য ও জাতীয়তাবাদ তথা আত্মপরিচয় অভিব্যক্তি লাভ করে। মুসলিম জনগণের ক্ষেত্রেও বিষয়টা তার ব্যতিক্রম নয়, কিন্তু নানাভাবে সেটা ভিন্ন। এই ভিন্নতাও ইনক্লুসিভ। ইসলাম একত্ববাদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়—এমন সবকিছুই আত্তীকৃত করতে পারে। আর এই কারণেই ইসলামি বা মুসলিম জাতীয়তাবোধ বৈশ্বিক। 

ফররুখ আহমদ তাহলে নিজেদের জন্য কেন রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চান, সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তার কবিতার থেকে কী জবাব মেলে খুঁজে দেখি:

পৃথিবীকে কখন জ্বালাবে?

যে-পৃথিবী জালিমের কঠিন মুঠিতে

সে-পৃথিবী জ্বালাবে কখন?

................................

আজ তুমি চিনে নাও আপন পৃথ্বীরে

গড়ে তোলো পৃথিবী আপন,

নিজের আত্মাকে আজ চিনে নাও তুমি

গড়ে নাও পৃথিবী নিজের

জাগো জনতার আত্মা। ওঠো, কথা কও।

৬.

পাকিস্তান আন্দোলনের ভেতর দিয়ে কবি তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে চেয়েছেন। পাকিস্তান তার লক্ষ্য নয়, লক্ষ্যে পৌঁছানোর রাস্তা। মুসলমান তার আত্মনিয়ন্ত্রণ দাবি করেছিল জনতার আত্মাকে জাগ্রত করতেই। কবিতা সবার অলক্ষ্যে বিপ্লবের লক্ষণাশক্তি লাভ করে। সাহিত্যে বিপ্লব আনে রাজনীতিক পরিবর্তন। ফররুখ আহমদের কবিতা তার সাক্ষ্য বহন করে। তার কবিতায় আছে ঐতিহ্যের অনুসরণ, যা নিয়ে আসে নবজাগরণের ব্যঞ্জনা। তার মুক্তির স্বপ্নের আহ্বান শোনা যায় বহুল পঠিত ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে। ক্রমে ‘সিরাজাম মুনীয়া’য় এসে খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শের আলোকে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পথ অন্বেষণ করেন। ধীরে ধীরে ‘নৌফেল ও হাতেম’ কাব্যগ্রন্থের হাতেমের সেবাব্রত, ত্যাগ ও সত্যাদর্শের ভেতর দিয়ে তার বিশ্বাস ও আদর্শের কার্যকারিতার রূপ নিরূপণ করেন। হাতেম মুসলিম আদর্শের কেউ নন; আগেই উল্লেখ করেছি, ইসলাম একত্ববাদকে অস্বীকার করে না—এমন সবকিছু তার নিজের মধ্যে আত্মীকৃত করে নেয়। সে কারণেই হাতেম হয়ে ওঠেন ফররুখ আহমদের মানস-আদর্শের সৈনিক।

৭.

ফররুখ আহমদের কবিতা থেকে বিক্ষিপ্ত কিছু দৃষ্টান্ত নেওয়া যাক, যার মধ্য দিয়ে আমরা তার কবিতার অন্তরকে ধরতে পারব:

পাঞ্জেরী!

জাগো বন্দরে কৈফিয়তের তীব্র ভ্রুকুটি হেরি;

জাগো অগণন ক্ষুধিত মুখের নীরব ভ্রুকুটি হেরি;

দেখ চেয়ে দেখ সূর্য ওঠার কত দেরী, কত দেরী

(পাঞ্জেরী)

মৃত্যু সন্নিবিষ্ট দৃঢ় আজাদীর পথ

আজানা দুর্গম পথ শ্বাপদসংকুল

(পথ)

ইব্রাহিমের পথ বেয়ে যার শুরু হল যাত্রার,

কমলিওয়ালার ডেরায় যে পেল ঠাঁই

সেই কাহফিল-ওয়ারার নিশান শারাবান তহুরার

কাফুর সুবাস ব’য়ে নিয়ে আসে পার হ’য়ে কান্তার

(নিশান-বরদার)

কত যে আঁধার পর্দা পারায়ে ভোর হ’ল জানি না তা।

নারঙ্গী বনে কাঁপছে সবুজ পাতা।

দুয়ারে তোমার সাত-সাগরের জোয়ার এনেছে ফেনা।

তবু জাগলে না? তবু তুমি জাগলে না?

(সাত সাগরের মাঝি)

৮.

ফররুখ আহমদ ইসলাম ধর্মের যে পরিচয় নিয়ে হাজির হয়েছেন, তা যেমন আদর্শিক, তেমনি ব্যবহারিক জগতেও প্রাসঙ্গিক। ইতিহাস তার প্রমাণ। আধুনিক মন ও মনন নিয়ে তিনি ফিরে যেতে চান প্রখরোজ্জ্বল মুসলিম ইতিহাসে। মূলত ফিরে যাওয়া নয়, তার প্রত্যয় ইতিহাসের বিনির্মাণ। স্বধর্মের উপলব্ধিকে তিনি তর্কের অতীত সৌর্ন্দর্যে প্রতিষ্ঠা করতে চান। তার কাব্য নিজের গুণেই বিশেষ এই উদ্দেশ্যকে কোথাও কোথাও ছাড়িয়ে গেছে। 

‘ডাহুক’, ‘মন’, ‘শেষ কথা’, ‘ শিকার’, ‘দরিয়ায় শেষ রাত্রি’—এইসব কবিতা পড়ার নিবিড় কোমল অনুভূতি ভুলতে পারা অসম্ভব।

৯.

ফররুখ আহমদ রাজনীতি-সচেতন কবি। রাজনীতিকতা মানে কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুমিত্র ভেদজ্ঞান পরিষ্কার করতে পারা, ফররুখ যা খুব স্পষ্টভাবেই পেরেছিলেন। অনেক রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে স্বাধীন হয়েছে। ফররুখ ইসলামপন্থি ছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরোধী ছিলেন না! একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তবে ইসলামকে পরাজিত করা হয়েছে সাংস্কৃতিকভাবে। সেটা আল মাহমুদের দিকে তাকালে বোঝা যায়। ইসলামি অনুষঙ্গ নিয়ে লেখার কারণে তাকে নানা বঞ্চনা ও হেনস্তার শিকার হয়েছে। তেমনি ফররুখও অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আদর্শচ্যুত হননি। তার আদর্শ ঠিক ছিল না বেঠিক ছিল—এই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। তাদের উদ্দেশ্যে, কারবালার ময়দানে হোসাইন (রা) জীবন দিয়েছেন, তার শত্রুরা ভেবেছিল তিনি পরাজিত হয়েছেন। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, তিনি পরাজিত হননি। মজলুমের হৃদয় মাত্রই কারবালা, যেখানেই হোসাইনের বাস। 

আজও যেখানেই জুলুম-নির্যাতন, সেখানেই প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে হাজির হয় কারবালা। ফররুখ আহমদের ‘শহীদে কারবালা’ কবিতা ফ্যাসিবাদের কালে আমাদের মজলুমের পক্ষে অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করে। তার কবিতা আজও প্রাসঙ্গিক এবং এই সময়ে অবশ্যপাঠ্য:

উতারো সামান, দাঁড়াও সেনানী নির্ভীক-সিনা বাঘের মতো।

আজ এজিদের কঠিন জুলুমে হয়েছে প্রাণ ওষ্ঠাগত,

কওমী ঝাণ্ডা ঢাকা পড়ে গেছে স্বৈরাচারের কালো ছায়ায়,

পাপের নিশানি রাজার নিশান জেগে ওঠে আজ নভঃনীলায়,

মুমিনের দিল জ্বলছে বে-দিল জালিম পাপীর অত্যাচারে

নিহত শান্তি লিষ্কলঙ্ক শান্তিপ্রিয়ের রক্তধারে,

হেরার রশ্মি কেঁপে কেঁপে ওঠে ফারানের রবি অস্ত যায়!

কাঁদে মুখ ঢেকে মানবতা আজ পশুশক্তির রাজসভায়

(শহীদে কারবালা)

ফররুখ আহমদ তার কবিতার কারণেই বেঁচে থাকবেন। তার কবিতা তার বিশ্বাস ও আদর্শের স্বাক্ষর হয়ে থাকবে। তার কবিতায় শুনি:

কিছু লেখা হল আর অলিখিত রয়ে গেল ঢের

কিছু বলা হল আর হয়নি অনেক কিছু বলা;

অনেক দিগন্তে আজও হয় নাই শুরু পথ চলা,

কে জানে সকল কথা? কে পেয়েছে সংজ্ঞা সময়ের?

কোরবান

মোগল স্থাপনায় দাক্ষিণাত্যের ছাপ

ঔপনিবেশিক বাংলার জমিদারপ্রথা ও বাঙালি মুসলমান

যুগে যুগে কাবা আক্রমণ ও হজ কাফেলায় হামলার ইতিহাস

সমকালে কাজী নজরুল

নতুন যুগে কাজী নজরুল

মৃত্যুক্ষুধায় সমাজ ও সংস্কৃতি

ঔপনিবেশিক বাংলার জমিদার ও বাঙালি মুসলমান

মুসলিমদের জ্ঞানচর্চার কাঠামোগত প্রতিষ্ঠা

খালেদ ইবনে ওয়ালিদের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা