হোম > সাহিত্য সাময়িকী > সাক্ষাৎকার

খারাপ বই নিয়ে কথা বলা ভালো বইগুলোর মতোই আকর্ষণীয়

ডেভিড সালাইয়ের সাক্ষাৎকার

গুলজার গালিব খান

লাজলো ক্রাসনোহোরকাইয়ের পর ডেভিড সালাই দ্বিতীয় হাঙ্গেরীয়-ব্রিটিশ লেখক যিনি বুকার পুরস্কার জিতেছেন তার ‘ফ্লেশ’ উপন্যাসের জন্য। কানাডায় জন্মগ্রহণকারী সালাই লেবানন, যুক্তরাজ্য ও হাঙ্গেরির পর এখন ভিয়েনায় বসবাস করছেন।

ফ্লেস তার ষষ্ঠ উপন্যাস। তিনি মোট ছয়টি উপন্যাস লিখেছেন। তার বইগুলো ২০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিবিসি রেডিও নাটকও রচিত হয়েছে।

২০১০ সালে সালাই টেলিগ্রাফের ৪০ বছরের কম বয়সি শীর্ষ ২০ ব্রিটিশ লেখকের তালিকায় স্থান পান এবং ২০১৩ সালে তিনি গ্রান্টা কর্তৃক প্রকাশিত সেরা তরুণ ব্রিটিশ ঔপন্যাসিকদের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। বুকার পুরস্কার কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট থেকে তার সাক্ষাৎকারটি বাংলা করেছেন

যে বইটি দুনিয়া সম্পর্কে আমার চিন্তা বদলে দিয়েছে

ছোটবেলাতেই এই ঘটনাটি সবচেয়ে নাটকীয়ভাবে সম্ভব। আমার মনে হয়, আমি ১১ বছর বয়সে প্রথম জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ পড়ি । ভণ্ডামি ও অবিচারের বাস্তবতা দেখি। মানুষ (অথবা প্রাণী) সবসময় একে অপরের প্রতি খুব একটা ভালো হয় না এবং সবসময় তাদের প্রাপ্য জিনিসটি পায় না, ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে। এই কঠিন সত্য দেখে আমি ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম।

যে বইটি উপন্যাস সম্পর্কে আমার ভাবনা বদলে দিয়েছে

আমার কিশোর বয়সে এবং বিশের দশকের গোড়ার দিকে এমনটি একাধিকবার ঘটেছিল। হয়তো কয়েক সপ্তাহে একবার করেই এমনটা ঘটত। কিন্তু আমি সেই উদাহরণগুলোর মধ্যে একটির কথা বলব; সেটি হচ্ছে জন আপডাইকের Rabbit, Run উপন্যাস। আমার ধারণা এটি আমাকে যা দেখতে সাহায্য করেছিল তা হলো, সমসাময়িক বাস্তবতার প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি। তার সমস্ত নোংরা নির্দিষ্টতা সত্ত্বেও এটি মানুষের অস্তিত্বের প্রকৃতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করার ভিত্তি হতে পারে এবং যার ফলাফল আনন্দদায়ক।

আমি এখন যে বইটি পড়ছি

এই মুহূর্তে আমি ক্রোয়েশিয়ান লেখক রবার্ট পেরিসিকের লেখা ‘আ ক্যাট অ্যাট দ্য অ্যান্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ পড়ছি। এটি প্রায় ২ হাজার ৫০০ বছর আগে বর্তমান ক্রোয়েশিয়ান দ্বীপ ভিসে একটি গ্রিক উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার গল্প এবং উপনিবেশবাদীদের সঙ্গে রহস্যময় বর্বর মরুভূমিতে এতদূর উত্তরে ভ্রমণকারী প্রথম বিড়ালদের সেখানে আগমনের গল্প। কেন্দ্রীয় মানবচরিত্রটি একজন পালিয়ে যাওয়া দাস। তিনি প্রতিটি দ্বিতীয় অধ্যায় বর্ণনা করেন। এর মধ্যের অধ্যায়গুলো এমন একটি ব্যক্তিত্বপূর্ণ বাতাস (বা শরীরবিহীন আত্মা) দ্বারা বর্ণনা করা হয়েছে, যে সহস্রাব্দ ধরে দ্বীপে বসবাস করেছে এবং আজও সেখানে রয়েছে। এটি একটি অদ্ভুত, মানবিক ও সুন্দর বই।

আমি কোথায় এবং কখন লিখতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি এবং আমার দরকারি জিনিসগুলো কী

আমি লেখার জন্য সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি আমার ডেস্ক। সময় সকাল ৬টা। আমার লেখার দরকারি জিনিস হলো আমার ল্যাপটপ, নীরবতা এবং এক কাপ কফি।

যখন আমি বুঝতে পারি, আমি কফি শেষ করিনি এবং যা অবশিষ্ট আছে তা এক ঘণ্টা আগে ঠান্ডা হয়ে গেছে, তখন আমি বুঝতে পারি সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।

আমার স্বপ্নের বইয়ের ক্লাব, আমরা কী পড়তাম এবং কোথায় দেখা করতাম

আমরা একটা পাব-এ দেখা করতাম। আমরা কী পড়ি তাতে আমার আসলে কিছু আসে-যায় না। খারাপ বইগুলো নিয়ে কথা বলা ভালো বইগুলোর মতোই আকর্ষণীয়। সবচেয়ে ভালো হবে এমন পরিস্থিতি যেখানে কিছু লোক মনে করে এটি একটি খারাপ বই এবং অন্যরা তীব্রভাবে দ্বিমত পোষণ করে। মানুষের নিজের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের পূর্বাভাসযোগ্য হওয়া উচিত নয়। তাদের মতামত শুনে আমার অবাক হওয়া উচিত যেন তারা আমাকে ভাবতে বাধ্য করবে।

যে বইটি অন্যদের পড়া উচিত

প্রশ্নটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে আসে, বইয়ের নাম সেটি হলো অ্যালান হলিংহার্স্টের দ্য লাইন অব বিউটি। এটিতে সম্পূর্ণভাবে সেই গুণাবলি আছে, যা আমি আমার আগের উত্তরে র‍্যাবিট, রান প্রসঙ্গে বলেছিলাম। এটিও আশ্চর্যজনকভাবে মজার।

আমার লেখা প্রতিটি বই-ই ছিল একটি নিরীক্ষা

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম একটি নির্মোহ মূল্যায়ন

মানুষ ক্ষমতায় থাকলে আর হুঁশ থাকে না: আহমদ রফিক

মল্লিকের সাক্ষাৎকার

জুলাই-উত্তর বাংলাদেশের সাহিত্যচিন্তা

আওয়ামী রেজিমকে যারা সার্ভ করছে, তাদের গুণ্ডামি স্বভাবটা যাবে না: হাসান রোবায়েত