হোম > সাহিত্য সাময়িকী > মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস

সেনাপতি খালিদের শাম আগমন

সাইয়েদ মুহাম্মদ ওয়াকিল

আজনাদাইন যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে খলিফা আবু বকর (রা.) বিজ্ঞ সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। বড় পরিসরে রোমান বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার বিষয়ে তাদের মতামত চাইলেন। খলিফার সামনে স্পষ্ট ছিল, দুর্বল নেতৃত্বের কারণে মুসলিম বাহিনীর মধ্যে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়ছে। সে সময় সেনাবাহিনীর দায়িত্ব দিয়ে আবু বকর (রা.) যাদের শামে পাঠিয়েছিলেন, (আজনাদাইন বা ইয়ারমুকের মতো) বড় যুদ্ধ পরিচালনা করার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তাদের কারো ছিল না। এছাড়া এককভাবে সেনাবাহিনী পরিচালনার ক্ষেত্রে খলিফা আবু বকর (রা.) শামে পাঠানো চার সেনাপতির মধ্যে সমতা রক্ষা করতে চাইছিলেন। তাদের কোনো একজনকে প্রাধান্য দেওয়ার পক্ষপাতী তিনি ছিলেন না।

অনেক ভেবেচিন্তে খলিফা একটি সমাধান খুঁজে পেলেন। তিনি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বললেন, খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে আমি শামের সেনাবাহিনী পরিচালনার দায়িত্বে নিযুক্ত করতে চাই।

ইরাক ফ্রন্টে যুদ্ধরত খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের কাছে খলিফা চিঠি পাঠালেন। চিঠিতে তিনি নির্দেশ দিলেন, ‘আপনি কাউকে ইরাকে আপনার স্থলাভিষিক্ত করুন। এরপর আপনার অধীন বাহিনীর শ্রেষ্ঠাংশ নিয়ে শামের উদ্দেশে রওনা হয়ে যান।’ খলিফার নির্দেশ পেয়ে খালিদ (রা.) মুসান্না ইবনে হারিসাকে স্থলবর্তী সেনাপতি নিযুক্ত করলেন। শাম গমনের জন্য বাহিনীর মধ্যে থাকা সব সাহাবিসহ ৯ হাজার সৈনিককে বাছাই করলেন। তাদের সবার ছিলেন যুদ্ধের ময়দানে নিবেদিতপ্রাণ।

ইরাক থেকে শাম গমনের জন্য খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ সামাওয়া মরুভূমির পথ ধরলেন। কিন্তু এই মরুভূমি অতিক্রম করা মোটেই সহজ কাজ ছিল না। এই পথ ছিল অত্যন্ত দুর্গম এবং সেখানে পানির উপস্থিতি ছিল অতিমাত্রায় সীমিত। এই মরুভূমি অতিক্রম করতে গিয়ে পিপাসায় কাতর হয়ে কত মানুষের প্রাণ গেছে, তার কোনো হিসাব নেই। এর আগে এত বড় সেনাবাহিনী নিয়ে এই দুর্গম মরুভূমি অতিক্রম করে শামে পৌঁছাতে পেরেছে, এমন নজির খুব একটা নেই। সেনাপতি খালিদ এই অসাধ্যসাধন করার অভিপ্রায়ে গ্রহণ করলেন। এই পথে উপস্থিত অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিজ্ঞদের কোনো ওজর আপত্তিই তিনি কানে তুলল না। কারণ তিনি চাইছিলেন, অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি শত্রুবাহিনীর সামনে উপস্থিত হবেন এবং মুসলিম বাহিনীকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ তিনি তাদের দেবেন না।

অন্তরের গভীরে স্থিত দৃঢ় ঈমানের শক্তিতে বাহিনী নিয়ে সামাওয়া মরুভূমি অতিক্রম করে ইরাক থেকে শাম পৌঁছে গেলেন। আল্লাহর অনুগ্রহে তিনি পাঁচ দিনে অসাধ্যসাধন করতে সমর্থ হলেন। চলতি পথে শত্রুদের যতগুলো দলের মুখোমুখি তিনি হলেন, সবাইকে তিনি দমন করলেন। তাদের রসদপত্র কেড়ে নিলেন। তিনি হিজরি ১৩ সনের রবিউস সানি মাসের শেষদিকে ইয়ারমুক প্রান্তরে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন।

(অনুবাদ : আহমাদ ফাহমি)

খেলাফত রাষ্ট্রে ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধ যুদ্ধ (শেষ পর্ব)

খেলাফত রাষ্ট্রে ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধ যুদ্ধ (চতুর্থ পর্ব)

খলিফার পরিকল্পনা ও চার সেনাপতির অগ্রযাত্রা

ওয়ালাজার প্রান্তরে সেনাপতি খালিদের ভাষণ

খেলাফত রাষ্ট্রে ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধ যুদ্ধ (তৃতীয় পর্ব)

শামের ভূমিতে খেলাফত রাষ্ট্রের বিজয়যাত্রা

বিদ্রোহ মোকাবিলার দায়িত্বরত সেনাপতিদের কাছে খলিফার চিঠিপত্র

খেলাফত রাষ্ট্রে ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধ যুদ্ধ (দ্বিতীয় পর্ব)

খলিফা আবু বকরের ইরাক জয়ের পরিকল্পনা

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট