আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য অনিবার্য এবং অবশ্যপালনীয় নীতি হচ্ছে ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ‘ডিসিপ্লিন’ মেনে চলা। এ দুটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা হলে কোনো একটি বাহিনী সুশৃঙ্খল বাহিনী হয়ে উঠতে পারে না।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের সফিপুরের আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে জাতীয় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের গভীরভাবে মনে রাখা দরকার, কোনো বাহিনীর মধ্যে ডিসিপ্লিনের অভাব পরিলক্ষিত হলে তাদের সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখা জরুরি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর গৌরবজনক ভূমিকা রয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর ৬৭০ জন শহীদ হয়েছেন। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ থেকে আমি তাদের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি।’
তিনি বলেন, স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছিল।দেশে এক অস্থিতিশীল এবং অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এরই অংশ হিসেবে গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী-ভিডিপি ও আনসার বাহিনী একীভূত হয়ে এই বাহিনীর কাঠামো আরও শক্তিশালী, দক্ষ ও কার্যকর করে তোলা হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষকের এই দূরদর্শী পদক্ষেপই আনসার ও ভিডিপিকে আজকের বহুমাত্রিক, জনসম্পৃক্ত ও গণপ্রতিরক্ষায় সক্ষম বাহিনীতে পরিণত করার ভিত্তি স্থাপন করেছে।
সরকারপ্রধান বলেন, খালেদা জিয়া সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে আনসার-ভিডিপি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই বাহিনীকে স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো থেকে একটি স্বতন্ত্র শৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যা এই বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলেই আজকের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি গণমুখী প্রতিরক্ষা শক্তি এবং প্রান্তিক সক্ষমতার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন পরিস্থিতিতেও আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যূত্থান-পরবর্তী সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের সব থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা সহায়তা প্রদানেও এই বাহিনী ভূমিকা রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সক্রিয় অবদান রাখছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা রক্ষায় আনসার-ভিডিপির যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই বিশালসংখ্যক কর্মকর্তা এবং সদস্যদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের আলোকে আপনাদের ‘ভিশন এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা’ আমি মনে করি, এই বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরো দক্ষ ও গতিশীল করতে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’