হোম > জাতীয়

এনসিপি থেকে পদত্যাগের কারণ জানালেন সামান্তা শারমিন

আমার দেশ অনলাইন

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ বিসর্জন দিয়ে নীতিহীনভাবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন এবং শীর্ষ পর্যায়ে পুরুষতান্ত্রিক কর্তৃত্ববাদী সিদ্ধান্তের কারণেই দল থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।

শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এনসিপির আদর্শিক বিচ্যুতি এবং নিজের পদত্যাগের পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণসমূহ খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন।

সামান্তা শারমিন জানান, তার এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কোনো আবেগ বা অভিমান থেকে হুট করে নেওয়া নয়; বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক পর্যালোচনার ফসল। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে মানুষের চরম আত্মত্যাগ ও রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছিল। শুরুতে দলে মুক্ত আলোচনা ও দীর্ঘ বিতর্ক হলেও ধীরে ধীরে তা স্তিমিত হয়ে পড়ে। দলটিতে গণতান্ত্রিক চর্চা বন্ধ হয়ে এটি একটি ‘মনোলিথিক’ বা এককেন্দ্রিক কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর দিকে হাঁটতে শুরু করে।’

দলের মূল আদর্শিক বিচ্যুতির বড় কারণ হিসেবে তিনি জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটে যাওয়াকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, সংস্কার, নির্বাচন ও নিরাপত্তা—এই তিন অজুহাতে জামায়াতের সঙ্গে জোট করা হলেও জামায়াত কখনোই সংস্কারের অর্গানিক শক্তি নয়; বরং তারা অভ্যুত্থান-পরবর্তী মানুষের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে ক্যাপচার করতে সংস্কারের মুখোশ পরেছে। এনসিপির নিজস্ব স্বকীয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান বিসর্জন দিয়ে কেবল ক্ষমতার সমীকরণে সংসদে যাওয়ার মোহে এই সমঝোতা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় চরম অস্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি কিংবা জামায়াতের সঙ্গে আলোচনার কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত তথ্য তাদের জানানো হতো না। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি এসব বৈঠকের খবর পেতেন। তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ যে সভায় জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিন ইচ্ছাকৃতভাবেই তাকে ঢাকার বাইরে সাংগঠনিক দায়িত্বে পাঠিয়ে আকস্মিকভাবে সভা ডাকা হয়েছিল।

দলের নীতি নির্ধারণে নারীদের প্রান্তিকীকরণ ও পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পর্ষদের মাত্র তিনজন নারী সদস্য—তিনি নিজে, ডা. তাসনিম জারা এবং নাহিদা সারোয়ার নিভা এই নীতিহীন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। বিপরীতে সাতজন পুরুষ সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা চাপিয়ে দেন। ভিন্নমত প্রকাশ বা খোলামেলা আলোচনার কোনো সুযোগ সেখানে রাখা হয়নি।

সামান্তা শারমিন আরো বলেন, দেশে মৌলিক সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল—আইন-আদালত, স্বাস্থ্য বা জীবনযাত্রার মতো ক্ষেত্রগুলোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নেতাদের সাধারণ জামাকাপড় পরা বা ১০০ টাকার খাবার খাওয়ার লোকদেখানো বিষয়গুলোকে সংস্কার বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে তিনি রাজনীতি ছাড়ছেন না; বরং অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও জনগণের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নিতে অচিরেই সমমনাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন।

সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী

পোশাকশ্রমিকদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাকশ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশিদের বেতন কত

ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম মুসলিম নারী ভিপি নাশরাকে সাদিক কায়েমের অভিনন্দন

তাপমাত্রা ও শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে যে দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

প্রযুক্তির সংখ্যা নয়, নাগরিকসেবার মান দিয়ে ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য মাপতে হবে

জুমার নামাজ শেষে শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময়

কোস্ট গার্ডের জাহাজ থেকে বাদ পড়ল ‘জয় বাংলা’ নাম

আইন পেশায় সফল হতে হলে মানবিক মূল্যবোধ ও সততা জরুরি: আইনমন্ত্রী

কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীকে আদর্শ উপজেলায় রূপান্তর করতে চাই