আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) এমনিতেই সাধারণ ছুটি থাকে। ভোটের পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এবার নির্বাচন ঘিরে টানা চার দিন ছুটি থাকছে।
এই চার দিনের ছুটিকে ঘিরে অনেকেই নানান রকম পরিকল্পনা করেন। তবে ভোট উপলক্ষে সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকলেও গণপরিবহন চলাচলে নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞা থাকে। ফলে ভোটের ছুটিতে কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন থাকে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা জেসমিন টুলি বিবিসিকে বলেছেন, আমাদের দেশে ভোট বাধ্যতামূলক না। কেউ যদি পরিকল্পনা করে যে, এই ছুটিতে তিনি কোথাও ঘুরতে যাবেন তাহলে এতে কোনো বাধা নেই। তবে যেসব এলাকায় ভোট হয়, অনেক সময় ওসব এলাকায় বহিরাগত প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। কারণ তারা বাইরে থেকে এসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে, ভোট নষ্ট করার চেষ্টা করে।
ভোটের দিনের প্রধান দায়িত্ব হলো নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা। সাধারণত ভোটকেন্দ্র ভোটারের নিজ এলাকার ভেতরে থাকায় হেঁটে, রিকশা কিংবা ব্যক্তিগত যানবাহনে যাতায়াত করা সম্ভব।
নিরাপত্তার স্বার্থে ভোটের দিন ব্যক্তিগত গাড়ি, দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ ও ট্রেন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকে। এতে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। বিগত নির্বাচনগুলোতে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভিন্ন হোটেলে গিয়ে অভিযান চালাতে দেখা গেছে। ফলে ভোটের ছুটিতে ভ্রমণ বা বেড়ানোর পরিকল্পনা সাধারণত কার্যকর হয় না।
এই দিনে নাগরিকরা পরিবার নিয়ে ঘরে সময় কাটাতে পারেন, স্থানীয় সামাজিক বা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে পারেন। তবে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে অকারণে ভিড় করা, মিছিল বা রাজনৈতিক জমায়েতে অংশ নেওয়া আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
জরুরি সেবার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ–পানি–গ্যাসসহ জরুরি পরিষেবাগুলো ভোটের দিনও সচল থাকে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে ভোটের ছুটি মূলত নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করার দিন। আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে চললে ভোটের দিনটি নির্বিঘ্ন ও নিরাপদভাবেই কাটানো সম্ভব।