ছাত্রদল নেতা বাসিত
সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময় মিথ্যা মামলার হাজিরা দিতে আদালতের বারান্দায় উপস্থিত হতে হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতকে।
মঙ্গলবার ঈদের চতুর্থ দিনে তিনি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে হাজিরা দেন। সআদালত থেকে বের হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “আমাদের জীবনে ঈদ নেই, ঈদের আনন্দও কেড়ে নিয়েছে পতিত স্বৈরাচার সরকার।
ঈদের দিনেও মিথ্যা মামলার হাজিরা দিতে জজ কোর্টে যেতে হয়েছে। এখনো আমাদের মতো রাজপথের কর্মীদের মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।”
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ অক্টোবর অস্ত্র, বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে ১৭ অক্টোবর রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকা থেকে তৎকালীন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে। অভিযোগ রয়েছে, আটক করার পর দুই দিন তাকে গোপন স্থানে রেখে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ক্রসফায়ারের চেষ্টা চালানো হয়। পরে তৃতীয় দিনে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
এসব মামলায় তিনি প্রায় ১১ মাস কারাগারে ছিলেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল আহমেদ রাহাত বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা মামলা হয়েছে। বিরোধী দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণেই তাকে অস্ত্র মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে জড়ানো হয়েছে।”
আদালতে হাজিরা দিতে হওয়ায় ঈদের সময়ে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে থাকতে পারেননি তিনি। বিষয়টি সহকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।