বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুনরায় কমিশন গঠন করে সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এর বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এটা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারেও আছে। আমাদের একটা মেসেজ ক্লিয়ার-চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনের আগে দেশে লটারিতে ওসি-এসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে যার যেখানে যাওয়ার কথা না, সেখানে দেওয়া হয়েছে। যারা যে জেলা সামলাতে পারবেন না, তাকে সেখানে দেওয়া হয়েছে। এগুলো সার্ভিস রেকর্ড দেখে দেওয়া উচিত ছিল। আমরা মনে করি এই লটারির প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ হয়নি। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক, কেউ পুলিশের বৈধ কাজে বাধা দিতে পারবে না। পুলিশের কার্যক্রমও দেখা হবে যেন জনভোগান্তি না হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু— এ কথা আমরা মুখে বলি। তবে বাস্তবে সেই বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠা করতে আমরা কাজ শুরু করেছি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে নানা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে পুলিশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুলিশি ব্যবস্থা ছাড়া সমাজ টিকবে? অতএব আমরা পুলিশকে সংস্কার করতে চাই এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমেই সেই সংস্কার সম্ভব। আমরা সেই কাজটাই করছি।’
সালাহউদ্দিন বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে শুধু পুলিশ নয়, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে। সেই মোটিভেশনাল ওয়ার্কটা আমরা করছি।
তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবে, তাদের সাহস জোগাবে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকনির্দেশনা দেব। পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে লক্ষ্য রেখেই এগিয়ে যেতে চাই।