হোম > জাতীয়

তিন মাসে আসাম থেকে দুই হাজার ভারতীয়কে বাংলাদেশে পুশ ইন

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা

আসাম থেকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যাদের, তাদেরই অন্যতম সাকিনা বেগম। ছবি: বিবিসি বাংলা

ভারতের আসাম রাজ্যে বিদেশি শনাক্তকরণের নামে গত তিন মাসে প্রায় দুই হাজার ভারতীয়কে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করা হয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ তথ্য জানিয়েছেন। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রায়ে কাউকে অবৈধ বিদেশি ঘোষণা করা হলে দ্রুত সীমান্ত পার করে দেওয়ার নতুন নীতির ফলেই এই বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার হয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে আসামে বিদেশি শনাক্তে ১০০টি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল কার্যকর রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ট্রাইব্যুনাল বহু ক্ষেত্রে একতরফাভাবে সন্দেহভাজনদের অবৈধ বিদেশি ঘোষণা করছে। যারা হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ পাচ্ছেন, তাদের বড় অংশই পরে রেহাই পাচ্ছেন। তবে অধিকাংশের পক্ষে উচ্চ আদালতে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় তাদের স্থান হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্পে।

সম্প্রতি আসাম সরকার জেলা প্রশাসনকে ক্ষমতা দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে, ট্রাইব্যুনাল কাউকে বিদেশি ঘোষণা করলে সাতদিনের মধ্যে তাকে আসাম তথা ভারত ছাড়ার নোটিস দিতে হবে। এরপরই শুরু হয়েছে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়া। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের ফেরত পাঠালেও অনেককে বাংলাদেশের কারাগারে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, ১৯৫০ সালের একটি আইন ব্যবহার করেই এই বহিষ্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তার দাবি, উচ্চ আদালতে আপিল করে যাতে কেউ এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে না পারেন, সেজন্য দ্রুত পুশ ইন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, শুধু ৩১ ডিসেম্বর একদিনেই ১৮ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভাষ্য অনুযায়ী, এতদিন ঘোষিত বিদেশিদের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হলেও অনেকেই জামিনে মুক্ত হয়ে যেতেন। তার মতে, প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রয়োজন ছাড়াই ‘পুশ ব্যাক’ পদ্ধতি অনুপ্রবেশ মোকাবিলার কার্যকর উপায়।

তবে যে আইনটির কথা বলা হচ্ছে—‘অভিবাসী (আসাম থেকে বহিষ্কার) নির্দেশ, ১৯৫০’ তা নিয়ে উঠেছে তীব্র বিতর্ক।

আইনটি প্রণয়ন হয়েছিল পাকিস্তান আমলে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বহু আগে। আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এটি একটি বিশেষ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তৈরি এবং বর্তমান বাস্তবতায় এর প্রয়োগ অসাংবিধানিক।

গুয়াহাটি হাইকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমদ চৌধুরী বলেন, এই পুরোনো আইনের মাধ্যমে নির্বাহী আদেশে ‘পুশ ইন’ করা আইনগতভাবে টেকসই নয়। তার অভিযোগ, এতে বিচারিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানো হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠন সিটিজেন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিসের আসাম ইনচার্জ পারিজাত নন্দ ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, পুশ ইন করা ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো ভারতীয় নাগরিক নেই—এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো তথ্য সরকার প্রকাশ করছে না কেন। অতীতে বাংলাদেশে পাঠানোর পর আবার ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ফিরিয়ে আনার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

যাত্রাবাড়ীতে ভবন থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু

এমপি হওয়ার প্রস্তাব পেয়ে যা বলেছিলেন তাসনিম জারা

সংসদের কেনাকাটায় অনিয়ম তদন্তে হাসনাতসহ ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লটের বিষয়ে যা বললেন চিফ হুইপ

সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ি চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

চীনের ‘ওয়ান চায়না পলিসি’তে মির্জা ফখরুলের সমর্থন

টেন্ডার বিরোধের জেরে ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালকের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৫

উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ

সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন ৫৩ জন

চিফ হুইপকে ব্ল্যাকমেইল: জামিন পেলেন অভিযুক্ত হাসান নাসিম