হোম > জাতীয়

কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে পারেনি সব মন্ত্রণালয়

গাজী শাহনেওয়াজ

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাত্র তিনদিন সময় দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। গত ৭ মার্চ পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তড়িঘড়ি প্রস্তুতি নিতে গিয়ে কর্মকর্তাদের দৈনিক টানা ১০-১২ ঘণ্টা শ্রম দিতে হয়েছে। এরপরও সব মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরিকল্পনা জমা দিতে পারেনি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করে।

মন্ত্রণালয়গুলোর তথ্যমতে, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বড় কর্মযজ্ঞ। এর মধ্যে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু এর জন্য যে সময় দেওয়া হয়েছে, কর্মের পরিধি অনুযায়ী তা খুবই কম। ফলে তথ্য যথাযথভাবে যাচাই ও বিশ্লেষণ করে যেভাবে কর্মপরিকল্পনা তৈরির দরকার ছিল, তা সম্ভব হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির আলোকে প্রথম ১৮০ দিনের কর্মসূচি, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করে পাঠাতে বলা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, চলতি অর্থবছরের শেষ চার মাস এবং আগামী অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কোন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেজন্য পৃথক তালিকা প্রণয়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অভিন্ন মতামত দেন। তারা জানান, মাত্র তিনদিনের মধ্যে এতবড় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা বাস্তবে কঠিন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, অনেক মন্ত্রণালয় শেষদিন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কিছু পরিকল্পনা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অন্তত এক মাস সময় প্রয়োজন ছিল। কর্মশালা, তথ্য যাচাই ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ছাড়া পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা করা কঠিন। তিনি জানান, নৌপরিবহন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় শেষ সময় পর্যন্ত সব সংস্থার তথ্য না পাওয়ায় কর্মপরিকল্পনা পাঠাতে পারেনি। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং শ্রম মন্ত্রণালয় তাদের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে।

কর্মকর্তাদের কেউ কেউ অতীতের কিছু প্রকল্পের উদাহরণ টেনে সতর্ক থাকার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়া তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিলে বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এক কর্মকর্তা বলেন, আগেও অনেক সময় বাস্তবতা বিবেচনা না করে প্রকল্প নেওয়ায় মাঠপর্যায়ে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তাই পরিকল্পনা তৈরিতে পর্যাপ্ত সময় ও বিশ্লেষণ জরুরি।

ভারতে পলাতক শেখ হাসিনা সরকারকে তুষ্ট করতে আশ্রয়ণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তৎকালীন একজন ডিসি গৃহহীনদের জন্য পাকাঘর নির্মাণে দুই লাখ টাকার বেশি লাগবে নাÑএ প্রস্তাব করেছিল। তার এ প্রস্তাবটি তৎকালীন সরকার যাচাই ছাড়াই গ্রহণ করে। যার ফলে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মিত ঘরটি উদ্বোধনের আগেই খসে পড়েছিল। সরেজমিন যাচাই করেও এ সত্যতা পেয়েছিলেন দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তড়িঘড়ি প্রকল্প নেওয়ার ফলে কী রকমের বিব্রত হতে হয়েছিল তখনকার সরকারকে, সে সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা আমার দেশকে তুলে ধরেন দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, উদ্বোধনের আগে নির্মিত ঘর ধসে পড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেক সরকারি কর্মকর্তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।

এতকিছুর পর বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নে সময় স্বল্পতার মধ্যেও মন্ত্রণালয়গুলো পরিকল্পনা তৈরিতে তৎপরতা দেখিয়েছেন স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সচিবরা দফায় দফায় বৈঠক করে খসড়া কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।

একাধিক সূত্র জানায়, অনেক মন্ত্রণালয় তাদের অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রস্তাব একত্র করে ২০টির বেশি উপখাত বা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মধ্যে কিছু নতুন উদ্যোগও রয়েছে, আবার অনেক পরিকল্পনা চলমান কর্মসূচির সম্প্রসারণ হিসেবেও যুক্ত হয়েছে।

শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার এবং শ্রমিক-মালিক-সরকারের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করার মতো প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে বিস্তারিত কর্মশালা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তাই প্রাথমিকভাবে পাঠানো পরিকল্পনাগুলো পরবর্তীতে পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সংশোধন করা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে জরুরিভিত্তিতে পাঠাতে হবে এবং প্রয়োজনে চলমান প্রকল্প পুনর্বিন্যাস করে বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

দেশের নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না

ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধের নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

ঈদযাত্রা সামনে রেখে নতুন রঙে নামানো হচ্ছে পুরোনো লক্কড়ঝক্কড় লঞ্চ

বিপ্লবী হাদিকে হারিয়ে লেখক হাদির বইয়ের চাহিদা তুঙ্গে

ঈদে মহাসড়কে ৭ দিন বন্ধ থাকবে যেসব যানবাহন

যে কারণে রাজধানীতে লোডশেডিং

বাংলাদেশকে সুখবর দিলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত

শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে অতিথিকে শুভেচ্ছা জানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা বেগম খালেদা জিয়া