হোম > জাতীয়

নেই বৃষ্টি, ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে নাভিশ্বাস

সরদার আনিছ

সাধারণত পহেলা জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কে বর্ষাকাল ধরা হয়। সেই হিসেবে গতকাল বৃষ্টির মাস শুরু হলেও বৃষ্টি না হয়ে শুরু হয়েছে তাপপ্রবাহ। জুনের শুরু থেকেই বয়ে যাচ্ছে দেশের দুই তৃতীয়াংশ এলাকার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। এ অবস্থা আরো কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে মে মাসের প্রথম দিকেই জানানো হয়েছিল এবার বর্ষা মৌসুম জুন-জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। সেই পূর্বাভাসই যেন সত্যি হতে চলেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি জুন মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

জুনের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, চলতি মাসে দুই থেকে তিনটি ‘মৃদু’ থেকে ‘মাঝারি’ তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তাপপ্রবাহ চলাকালে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। এ সময় বিচ্ছিন্নভাবে একাধিক মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। বর্ষার আগমন ঘটলেও স্বাভাবিকের চেয়ে এবার বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাসের প্রথমার্ধেই সারা দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা বিস্তার লাভ করবে। এ মাসে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় হতে পারে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসময় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তিকর গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।

এদিকে সোমবার দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানের নিমিত্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত সভায় মে মাসের আবহাওয়ার বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, মে মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাত এবং বাকী বিভাগসমূহে স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। পশ্চিমা লঘুচাপের সাথে পূবালী বায়ুপ্রবাহের সংযোগ ঘটায় মে দেশের অধিকাংশ স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং মাসের অনেক দিন দেশের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সেই সাথে বজ্রপাত ও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিসহ দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। ১৩ মে সর্বোচ্চ দিনাজপুরে ১৪৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়। দেশের অনেক অঞ্চলের উপর দিয়ে দুই দফায় ১৬ থেকে ২৬ ও ২৯ থেকে ৩১ মে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। মে মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৮ মে)। এ মাসে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা কম ছিল।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, জুন মাসে দুই থেকে তিনটি তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহ অন্তর্ভুক্ত আছে। এ মাসে দেশে বিচ্ছিন্নভাবে একাধিক তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

দেশের কোথাও তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে সেটিকে ‘মৃদু তাপপ্রবাহ’ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে বলা হয় ‘মাঝারি’ এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে ‘তীব্র তাপপ্রবাহ’ বলা হয়। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে সেটিকে ধরা হয় ‘অতি তীব্র তাপপ্রবাহ’।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে এ মাসে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থেকে বেশি থাকতে পারে।

জুনে বঙ্গোপসাগরে একটি থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এর মধ্যে একটি পরিণত হতে পারে মৌসুমী নিম্নচাপে। মাসের প্রথমার্ধে সারাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষার বিস্তার থাকবে। এ মাসে দেশে ৫-৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়ও হতে পারে।

জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অধিদপ্তর বলছে, এ মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টিপাতের প্রেক্ষিতে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীর পানি সমতল সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এদিকে তাপপ্রবাহ শুরুর তৃতীয় দিনে মঙ্গলবার দেশের ৪১ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। যা আগের দিন ছিল ৪০ জেলায়। এতে তীব্র ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত এই অবস্থা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তাপপ্রবাহের সঙ্গে বাতাসে বেশি আর্দ্রতার কারণে সারা দেশে অসহনীয় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় গরমে ছটফট করছে মানুষ। বুধবার তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারী সৈয়দপুরে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের খুলনায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। মঙ্গলবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিন ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় সারাদেশেই তাপমাত্রা বেড়েছে।

আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, আগামী ৪ জুন থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা প্রশমিত হতে পারে। তিনি বলেন, ৫ জুনের পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমা মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে স্বস্তি দেখা দিতে পারে।

মঙ্গলবার সিলেট, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী জেলা ছাড়া দেশের আর কোথাও বৃষ্টি হয়নি। গতকাল সর্বোচ্চ সিলেটে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালীতে ১০, শ্রীমঙ্গলে ২ ও কুমিল্লায় ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দেশের অধিকাংশ এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।

এএস

খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

সাইপ্রাসকে পরাজিত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশ

আশুরায় ‘অতিরিক্ত ছুটি’ মিলছে না সরকারি চাকরিজীবীদের

আসন্ন বাজেটে কার্ডের পরিধি বৃদ্ধি পাবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

পুশইনের প্রতিবাদে বেনাপোল সীমান্তে যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, সেটা আমাদের প্রয়োজন নেই

গুলশানে পূর্ব শত্রুতার জেরে পিকআপচালককে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক

প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিরসনে বিশেষ সেল গঠন

এসএসসি পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের আভাস শিক্ষামন্ত্রীর