হোম > প্রকৃতি ও পরিবেশ

বৃষ্টিতে সারা দেশে তাপপ্রবাহ প্রশমিত, জনজীবনে স্বস্তি

স্টাফ রিপোর্টার

অসহনীয় তীব্র গরম ও কাঠফাটা রোদের পর বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। এর আগে কয়েকদিন ধরে চলা তাপপ্রবাহে জনজীবন ছিল অতিষ্ঠ।

শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। দুপুরের দিকে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হওয়ায় দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা গরম থেকে কিছুটা মুক্তি মেলে।

শুক্রবার বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি না হলেও মেঘাচ্ছন্ন আকাশে হিমেল হাওয়ায় তাপমাত্রা কমে গরমের তীব্রতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। আগের দিন বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দিনাজপুর ও যশোরে ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও শুক্রবার ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি; যা আগের দিন বৃহস্পতিবার ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় শুক্রবার সারাদেশে তাপমাত্রা কমেছে ২ ডিগ্রিরও বেশি। এছাড়া আগের দিন ৩৮ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও বৃষ্টির কারণে শুক্রবার সারাদেশেই তা প্রশমিত হয়ে যায়।

অন্যদিকে শুক্রবার নরসিংদীতে সর্বোচ্চ ৪৯ এবং রাজধানীতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।এছাড়াও দেশের প্রতিটি বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যা ছয়টার আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যাটলোচনা করে দেখা যায়, সংস্থাটির ৫১টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি কেন্দ্র এলাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির আমার দেশকে বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি খুব বেশি না হলেও সারাদেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। শনিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৃষ্টি কৃষিখাতের জন্য ইতিবাচক। বৃষ্টির অভাবে অনেক ফসলি জমি শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ ব্যয় ও ফসলহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বৃষ্টিতে সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমবে। তবে বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই জানিয়েছিল, শুক্রবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে কমবে তাপপ্রবাহের প্রভাব।

এর আগে আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান আমার দেশকে বলেন, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ক্রমান্বয়ে বাড়বে। এতে তাপপ্রবাহ পুরোপুরি না কমলেও দেশের অধিকাংশ এলাকায় স্বস্তি ফিরবে।

তিনি জানান, আগামী ৭ থেকে ১০ জুনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। মৌসুমি বায়ু প্রবেশের আগে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা দ্রুত কমতে পারে। তবে পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা কমতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে।

এর আগে ঈদের পর থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরম শুরু হয়। জুনের শুরুতে তাপপ্রবাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তীব্র ভ্যাপসা গরমে সারা দেশের মানুষ ছটফট করছিল।

এএস

তীব্র ভ্যাপসা গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি, প্রাণ ফিরল জনজীবনে

অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে ছটফট করছে মানুষ

প্রচণ্ড গরমে সুসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

৪৮ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, থাকবে আরো কয়েকদিন

জুনে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস

দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমে চরম অস্বস্তি

সন্ধ্যার আগে দুই জেলায় ঝড়ের সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

বৃষ্টি কমে ৩৭ জেলায় তাপপ্রবাহ, দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরম

গরম নিয়ে নতুন বার্তা আবহাওয়া অফিসের

বৃষ্টিপাত কমলেও তীব্র ভ্যাপসা গরমের আশঙ্কা নেই