দিনাজপুর শহরে রেল স্টেশন স্থাপন করা হয় নব্বইয়ের দশকে। সেই থেকে হরদম আসা-যাওয়া করছে ট্রেন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই বিরতি কেন্দ্র থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। তারা দীর্ঘদিন প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করার সময় শুধু গাড়ির হর্নই শুনেছেন। সেই অনুভূতি বদলে দিয়েছে চড়ুই পাখির ঝাঁক। বেশ কয়েক বছর ধরে এখানে সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় কিচিরমিচির, মেঘের ঢেউয়ের মতো উড়ে পাখি। আশপাশের গাছগুলোতে রাত্রিযাপন করে, আবার ভোরে চলে যায় খাবার অন্বেষণে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশন চত্বরের শোভা বাড়িয়েছে একটি বরই, আম ও ডেউয়া গাছ। বৃক্ষগুলো ফলদ হওয়ায় প্রতি মৌসুমে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও স্থানীয়দের নজর থাকে ডালে ডালে। দিনের বেলা অনেকেই সেখানে ছায়ায় বসে বিশ্রামও নেন। তবে সন্ধ্যায় গাছগুলো পুরোপুরি দখলে নেয় চড়ুই। রাতে নীরব পরিবেশে নিদ্রা শেষে পরদিন সূর্য ওঠার আগেই আহারের সন্ধানে বেরিয়ে যায়। বিকেলে আবার ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই পাখি ফিরে আসে নিজ স্টেশনে। গাছ ছাড়াও সন্ধ্যা পর্যন্ত আশপাশের বিদ্যুতের তারে অবস্থান করায় কিচিরমিচির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে এলাকাটি। কিছু কিছু আবার ছুটোছুটি করে রেল স্টেশনের ভবনগুলোয় ।
মনোমুগ্ধকর এমন দৃশ্য দেখতে সন্ধ্যায় পথচারীসহ উৎসুক মানুষের ভিড় জমে স্টেশন চত্বর এলাকায়। অনেক অভিভাবক তাদের ছোট্ট সোনামনি ও শিশুদের নিয়ে চড়ুই পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে ও তাদের খেলাধুলা দেখতে ছুটে আসেন। স্টেশন রোড আহলে হাদিস মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন চালকরা তাদের গাড়ি থামিয়ে চড়ুই পাখির ছুটাছুটির দৃশ্য উপভোগ করেন।
দিনাজপুর রেল স্টেশন চত্বরে কাঁঠালের পাতা বিক্রেতা মো. শামীম বলেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে এখানে কাঁঠাল পাতা বিক্রি করেন। তখন থেকে চড়ুই পাখিগুলো এখানে থাকে। সারা বছর এরা গাছগুলোতে অবস্থান করে। তবে ডিম পাড়ার সময় পাখিগুলো অন্যত্র চলে যায়। ডিম পাড়া শেষে বাচ্চা দেওয়ার পর আবারো তারা ফিরে আসে। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে চড়ুই পাখির ছুটাছুটি ও খেলা দেখতে ভিড় করেন বহু মানুষ।
রেল স্টেশন চত্বরে পুরাতন জামা-কাপড় বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, চড়ুই পাখিগুলো দিনে স্টেশন এলাকায় গাছের ডালে থাকে। সকাল হলে সব পাখি মাঠে খাবারের সন্ধানে চলে যায়। সন্ধ্যা হলে আবার ফিরে আসে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে পাখিগুলো স্থানীয়দের আনন্দ দিচ্ছে।
দিনাজপুর রেল স্টেশনের সুপার জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘আমি ৫-৬ বছর ধরে এখানে কর্মরত। তখন থেকে পাখিগুলোকে এখানে দেখতে পাচ্ছি। সন্ধ্যায় ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই পাখি স্টেশন চত্বরে এসে আশ্রয় নেয়। সকালে আবার তারা আহারের সন্ধানে মাঠে-ময়দানে যায়। সন্ধ্যায় চড়ুই পাখির ছুটাছুটি ও খেলা করার দৃশ্য দেখে নিয়মিতই মুগ্ধ হই।’