জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। অথচ শিল্পায়ন ও কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয় বললেই চলে। উন্নত ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, বন উজাড় এবং অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সবচেয়ে বড় ক্ষতি বহন করছে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো।
শনিবার নারী উন্নয়ন শক্তির ট্রেনিং সেন্টারে ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট র নুসরাত সুলতানা আফরোজ এক কর্মশালায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
কর্মশালায় বলা হয়েছে, , সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ, খরা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন হ্রাসের কারণে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ জীবিকা হারাচ্ছে।
প্রতিবছর অসংখ্য পরিবার নদীভাঙনে গৃহহীন হচ্ছে এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা জনস্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট (ওয়াই ডব্লিউ ডি আর সি) এবং নারী উন্নয়ন শক্তি এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকার বনশ্রীতে নারী উন্নয়ন শক্তির ট্রেনিং সেন্টারে ছাদ বাগান প্রচার ও হিট স্ট্রোক সচেতনতা কর্মশালা" অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় সহযোগিতা করে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম এবং ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট-এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন নুসরাত সুলতানা আফরোজ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট এর সভাপতি সাহিদা ওয়াহাব, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী পরিচালক মো. খাইরুজ্জামান কামাল, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল নাসিমা হক, বিকল্প উন্নয়ন কর্মসূচির নির্বাহী প্রধান নাজমিন বানু, অ্যাডভোকেট সিরাতুল জান্নাত স্বপ্না, নাস এর সমন্বয়ক আব্দুল মোমিন, শিলিড-এর প্রচার সম্পাদক সেলিনা খাতুন, নার্গিস বেগম, খাদিজা খাতুনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউ এন এফ সি সি সি) এবং বিভিন্ন কপ (সি ও পি) সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য অধিক দায়ী উন্নত দেশগুলোর নৈতিক ও আর্থিক দায়িত্ব রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর। বিশেষ করে সিওপি ২৭ -এ গৃহীত লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড কার্যকর করে বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশকে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এনজিওদের প্রতিনিধি বক্তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার যেন জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থা (ইউ এন এফ সি সি সি), জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউ এন ই পি), গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য অধিকতর জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ও অভিযোজন তহবিল দাবি করে।
এনজিও নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করেন, উন্নত ও উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ আদায়ে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ। জাতিসংঘের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে বাংলাদেশের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা। নদীভাঙন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা ও তাপপ্রবাহে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল সংগ্রহ করা। জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য নিরাপদ আবাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা বৃদ্ধি করা। চরম তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় জনসচেতনতা, স্বাস্থ্যসেবা এবং হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি ।
এমই