হোম > প্রকৃতি ও পরিবেশ

৪৮ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, থাকবে আরো কয়েকদিন

স্টাফ রিপোর্টার

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তাপপ্রবাহ। বুধবার দেশের ৪৮ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে বাতাসে আর্দ্রতা পরিমাণ বেড়ে সারা দেশে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস এপ্রিল-মে মাসে এবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি এবং তাপমাত্রাও বেশ কম ছিল। অন্যদিকে ১ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল গণ্য হলেও এবার জুন-জুলাইয়ে স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি তাপমাত্রা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহ আরো কয়েকদিন থাকতে পারে। ৫ কিংবা ৬ জুনে থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি শুরু হলেও আগামী ৮ কিংবা ৯ জুন থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে তাপপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।

দেশের কোথাও তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে সেটিকে ‘মৃদু তাপপ্রবাহ’ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে বলা হয় ‘মাঝারি’ এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে ‘তীব্র তাপপ্রবাহ’ বলা হয়। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে সেটিকে ধরা হয় ‘অতি তীব্র তাপপ্রবাহ’।

চলতি মাসের শুরু থেকে বয়ে চলা তাপপ্রবাহ ক্রমেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। বুধবার দেশের ৪৮ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। যা আগের দিন ছিল ৪১ জেলায়। এ অবস্থা আরো কয়েকদিন থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা আগের দিনও একই ধরনের তাপমাত্রা ছিল নীলফামারী সৈয়দপুরে। এর আগে ১ জুন খুলনায় ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস । সারাদেশের ন্যায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজধানীর তাপমাত্রাও। বুধবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা আগের দিন ছিল ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি। এর আগে গত সোমবার রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি। অর্থাৎ সারাদেশেই তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।

অন্যদিকে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে বৃষ্টি হয়নি। দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা সিলেটে বুধবার সর্বোচ্চ ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বগুড়ায় ৮, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ৫, চট্টগ্রামে ৩ এবং পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে অধিকাংশ এলাকাজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

তাপপ্রবাহের সঙ্গে বাতাসে বেশি আর্দ্রতার কারণে সারা দেশে অসহনীয় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় গরমে ছটফট করছে সারাদেশের মানুষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আগেই জানানো হয়েছিল এবার বর্ষা মৌসুম জুন-জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। জুনের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও বলছে, চলতি মাসে দুই থেকে তিনটি ‘মৃদু’ থেকে ‘মাঝারি’ তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তাপপ্রবাহ চলাকালে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, জুন মাসে দুই থেকে তিনটি তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহ অন্তর্ভুক্ত আছে। এ মাসে দেশে বিছিন্নভাবে একাধিক তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে এ মাসে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থেকে বেশি থাকতে পারে।

এএস

কবে থেকে বৃষ্টি, কোন কোন বিভাগে—জানাল আবহাওয়া অফিস

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের পূর্বাভাস, ৫ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা

হেমন্তেই শীতের আগমনী বার্তা, এবার শীত কেমন হবে?

শীতের স্থায়িত্ব কমার শঙ্কা, বাড়তে পারে উষ্ণতা

তাপমাত্রা কমার আভাস

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

সদাজাগ্রত উপকূলের সৌন্দর্যঘেরা নিদ্রার চর

ধারণার চেয়ে দ্রুত গলছে ডুমসডে গ্লেসিয়ার, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির শঙ্কা

শীতের কামড় কখন টের পাবেন, জানাল আবহাওয়া অফিস

বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণে কে কতটা দায়ী