বন্যা পরিস্থিতি আগের কয়েকদিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও ভারী বর্ষণের প্রভাবে পুনরায় অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বুধবার সন্ধ্যায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্তব্যরত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, কয়েকদিনে হাওর অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও ভারী থেকে অতিভারীর বৃষ্টি এবং ভারতীয় ঢলে আবার অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মেঘনা অববাহিকায় নেত্রকোণা, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার সমূহের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে ।
এদিকে বুধবার বিকালে সংস্থাটির দেওয়া সতর্ক বাতায় বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, অপরদিকে যমুনা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে এবং উভয়ই বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীসমূহের মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে অতি-ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে এবং উজানে ভারতের মেঘালয় ও সিকিম (গ্যাংটক) প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ বিভাগে ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আসাম ও অরুণাচল, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে আগামী ৩ দিন ভারি থেকে অতি-ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ১ দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী ২ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।
নেত্রকোণা জেলার ভুগাই-কংস নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ ঘন্টা ভুগাই-কংস, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা নদীসমূহের পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ভুগাই-কংস নদী নাকুয়াগাঁও পয়েন্টে সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।
নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ১ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী ২ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।
এএস