হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

রাষ্ট্র পুনর্গঠন

আবদুল লতিফ মাসুম

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন’ (state reconstruction) ধারণাটি কেবল ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন ইমারত গড়া নয়; এটি একটি জীবন্ত রাজনৈতিক সত্তার প্রাতিষ্ঠানিক, নৈতিক ও সামাজিক ভিত্তিকে পুনর্বিন্যস্ত করার সুচিন্তিত প্রক্রিয়া। ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা তার ‘State-Building : Governance and World Order in the 21st Century’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন, উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রধান সমস্যা রাষ্ট্রের পরিধি (scope) নয়, বরং রাষ্ট্রের সক্ষমতা (strength)। একটি রাষ্ট্র অনেক কিছু করতে চাইতে পারে, কিন্তু যদি তার প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়, আইনের শাসন খণ্ডিত হয় এবং জবাবদিহিতার কাঠামো অনুপস্থিত থাকে, তাহলে সেই রাষ্ট্র কেবল কাগজে-কলমে রাষ্ট্র থাকে—বাস্তবে তা একটি ব্যর্থতার দলিলে পরিণত হয়। বাংলাদেশ আজ ঠিক এই প্রশ্নের মুখোমুখি—আমরা কি কেবল সরকার পরিবর্তন করেছি, নাকি সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের পথে যাত্রা শুরু করেছি?

গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ সমাজের উদ্দেশে যে আহ্বান জানিয়েছেন—‘আসুন, এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি,’ সেটি নিছক একটি আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা নয়। এটি একটি রাজনৈতিক দর্শনের প্রকাশ। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণসমাজ দেখিয়ে দিয়েছে তারা পরিবর্তন আনতে পারে; এখন সেই শক্তিকে ধ্বংসের বদলে গঠনে কাজে লাগাতে হবে। প্রায় ২৩ লাখ স্কাউট, ২২ হাজার বিএনসিসি সদস্য এবং প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এতগুলো মানুষ যদি একসঙ্গে দেশ গড়তে চায়, কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। এই বক্তব্যে কেবল আবেগ নয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি মৌলিক সত্য প্রতিধ্বনিত হয়েছে—রাষ্ট্র পুনর্গঠন শুধু সরকারের কাজ নয়, এটি সমাজের সম্মিলিত প্রকল্প।

এই প্রসঙ্গে কার্ল ডয়েচের ‘social mobilization’ তত্ত্ব স্মরণযোগ্য। ডয়েচ দেখিয়েছিলেন, জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে একটি সাধারণ যোগাযোগ-কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, যেখানে তারা শুধু রাষ্ট্রের নাগরিক নয়, রাষ্ট্রের অংশীদার। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই তত্ত্বের প্রায়োগিক তাৎপর্য অপরিসীম। ৫৫ বছরের ইতিহাসে আমরা বারবার সরকার পরিবর্তন করেছি, কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো—আমলাতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার, নির্বাচন কমিশন, শিক্ষাব্যবস্থা—এগুলোর গুণগত রূপান্তর ঘটেনি। প্রতিটি সরকার এসে আগের সরকারের কাজ বাতিল করেছে, নিজের লোক বসিয়েছে; কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করেনি। ফলে আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি ‘ব্যক্তিনির্ভর শাসনের’ (personalized governance) ফাঁদে আটকে আছে, যেখানে ব্যক্তি বদলালে নীতি বদলায়, প্রতিষ্ঠান বদলায়, এমনকি রাষ্ট্রের চরিত্রও বদলায়।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এই চক্র ভাঙার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলো যে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করেছে এবং ২৪টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা দিয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, নির্বাচন কমিশনের প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন, নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি—এগুলো কেবল সাংবিধানিক সংশোধনী নয়, এগুলো রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড পুনর্নির্মাণের নকশা। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার এই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছেন, যা একটি অভূতপূর্ব জনরায়।

কিন্তু জনরায় পাওয়া আর তা বাস্তবায়ন করা এক কথা নয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটন তার ‘Political Order in Changing Societies’ গ্রন্থে সতর্ক করেছিলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেয়ে ভাঙা সহজ; আর প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়লে সামাজিক গতিশীলতা (social mobilization) নৈরাজ্যে পরিণত হয়। এই সতর্কবাণী বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়, কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের পর গণতান্ত্রিক রূপান্তর তখনই সফল হয় যখন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দ্রুত, সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় আকারে গৃহীত হয়। জুলাই সনদের অনেক প্রতিশ্রুতি এখনো কাগজে রয়ে গেছে। সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠিত হলেও তার কাজের গতি প্রশ্নবিদ্ধ। বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের অভিযোগ রয়েছে যে, সনদ বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগে শ্লথতা আছে। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য একটি ইতিবাচক সংকেত, কিন্তু সংকেতকে কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করতে না পারলে তা রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরে পর্যবসিত হবে।

রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রথম শর্ত হলো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। এর অর্থ কেবল নতুন আইন প্রণয়ন নয়, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি বদলানো। আমলাতন্ত্রকে দলীয় আনুগত্যের বদলে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পুনর্গঠন করতে হবে। ম্যাক্স ওয়েবারের ‘rational-legal bureaucracy’ ধারণা—‘যেখানে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়’—আমাদের জন্য এখনো একটি অধরা লক্ষ্য। সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ বা মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ যে ‘উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র’ (developmental state) গড়ে তুলেছিলেন, তার মূলে ছিল একটি দক্ষ, পেশাদার ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্র। বিগত দেড় দশকে আমলাতন্ত্রের যে রাজনৈতিকীকরণ ঘটেছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে যেকোনো সংস্কার কাগুজে থাকবে।

দ্বিতীয় শর্ত বিকেন্দ্রীকরণ। পৃথিবীর যেসব রাষ্ট্র সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছে, তাদের সাফল্যের মূলে রয়েছে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকারের শক্তিশালীকরণ। জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে গ্রাম সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে এই বিকেন্দ্রীকরণের একটি দার্শনিক ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সেই দর্শনকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে পুনরুজ্জীবিত করা এখন সময়ের দাবি। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা, বাজেট ও জবাবদিহিতা হস্তান্তর না করলে ঢাকাকেন্দ্রিক ক্ষমতা-কাঠামোর রূপান্তর অসম্ভব।

তৃতীয় শর্ত শিক্ষা ও মূল্যবোধের সংস্কার। রাষ্ট্র পুনর্গঠন কেবল কাঠামোগত বিষয় নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক প্রকল্পও। এমিল ডুরখেইম বলেছিলেন, সামাজিক সংহতি (social solidarity) ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই টেকসই হয় না। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা আজ প্রশ্নফাঁস, সনদসর্বস্বতা ও মানহীনতায় জর্জরিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিক তৈরি করছে না, সনদধারী তৈরি করছে। একটি জাতি যদি তার পরবর্তী প্রজন্মকে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে না পারে, তাহলে সাংবিধানিক সংস্কার যতই নিখুঁত হোক রাষ্ট্র পুনর্গঠন অসম্পূর্ণ থাকবে। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি—নিয়োগে অর্থ লেনদেন, এমপিওভুক্তিতে ঘুষ, পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস—এগুলো কেবল প্রশাসনিক সমস্যা নয়, জাতির নৈতিক কাঠামোর ক্ষয়ের লক্ষণ। বর্তমান সরকার মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত টিউশন ফি-মুক্ত শিক্ষার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়; তবে পরিমাণগত সম্প্রসারণের সঙ্গে গুণগত রূপান্তরও অপরিহার্য।

চতুর্থ শর্ত অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত শাসন প্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আলোচনায় অর্থনৈতিক মাত্রাটি প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। কিন্তু একটি রাষ্ট্র যেখানে সম্পদের বণ্টন চরম বৈষম্যমূলক, যেখানে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ দেশের উন্নয়ন বাজেটকেও ছাড়িয়ে যায়, সেখানে রাজনৈতিক সংস্কার একা কাজ করবে না। বিগত সরকারের আমলে যে পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ফিরিয়ে আনতে পারলে তা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য একটি বিশাল সম্পদে পরিণত হতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে ফ্রিজ অ্যাকাউন্টের বিষয়ে কমিটি গঠন করেছে—এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা জরুরি।

পঞ্চম এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো জাতীয় ঐক্য। ইবনে খালদুনের ‘আসাবিয়াহ’ (group solidarity) ধারণা—যা একটি সভ্যতার উত্থান ও পতনের মূল নির্ধারক—বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। একটি জাতি যখন অভ্যন্তরীণ বিভাজনে ক্লান্ত, পারস্পরিক অবিশ্বাসে জর্জরিত, তখন বাইরের কোনো সংস্কারই দীর্ঘমেয়াদি ফল দেয় না। জুলাই অভ্যুত্থান একটি সর্বজনীন আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ছিল; সেই আকাঙ্ক্ষাকে দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণতায় বন্দি করা হলে তা হবে ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই এই সত্য উপলব্ধি করতে হবে যে, রাষ্ট্র পুনর্গঠন কোনো দলীয় প্রকল্প নয়—এটি জাতীয় প্রকল্প।

ষষ্ঠ শর্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কৌশলগত পুনর্বিন্যাস। রাষ্ট্র পুনর্গঠন কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়—আজকের পরস্পরনির্ভরশীল বিশ্বে একটি দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার তার আন্তর্জাতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ, বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আত্মমর্যাদাশীল অবস্থান গ্রহণ—এগুলো রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বৈদেশিক মাত্রা। একটি পুনর্গঠিত রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দৃঢ় ও মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কাজ, কাজ, আর কাজ।’ এই তিন শব্দের মধ্যে একটি সরল কিন্তু গভীর দর্শন আছে। কিন্তু কাজের দিকনির্দেশনা সুস্পষ্ট না হলে শ্রম অপচয় হয়। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য একটি সমন্বিত, সময়নির্ধারিত ও পরিমাপযোগ্য কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন—যেখানে সাংবিধানিক সংস্কারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে, প্রতিষ্ঠান সংস্কারের পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপ থাকবে, বিকেন্দ্রীকরণের রোডম্যাপ থাকবে এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের কংক্রিট পরিকল্পনা থাকবে।

আজকের বাংলাদেশ একটি ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে, যেখানে সুযোগ ও ঝুঁকি সমান মাত্রায় বিরাজমান। ইতিহাস সাক্ষী, বিপ্লবের পর যে জাতি পুনর্গঠনে ব্যর্থ হয়, তার বিপ্লব অর্থহীন হয়ে পড়ে। মিসর ও লিবিয়ার ‘আরব বসন্ত’-পরবর্তী অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিপ্লবোত্তর শূন্যতা পূরণ করতে না পারলে সেই শূন্যতা অরাজকতা ও প্রতিবিপ্লবের জন্ম দেয়। ফরাসি বিপ্লবের পর ফ্রান্সকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে প্রায় এক শতাব্দী লেগেছিল। আমাদের সেই বিলাসিতা নেই। বিশ্বায়নের যুগে, ডিজিটাল রূপান্তরের কালে, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক জটিলতার মধ্যে বাংলাদেশকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পথে হাঁটতে হবে। তরুণসমাজকে এই প্রক্রিয়ায় শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে—তবে কেবল স্লোগানে নয়, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’—সেই রাষ্ট্র গড়তে হলে ভয়মুক্ত প্রতিষ্ঠান, মুক্ত বিচারব্যবস্থা, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম এবং সর্বোপরি একটি জবাবদিহিমূলক শাসনকাঠামো অপরিহার্য। রাষ্ট্র পুনর্গঠন কোনো এক দিনের অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি চলমান, ধারাবাহিক ও অবিচল প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

লেখক : অধ্যাপক (অব.), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

খেলাপি ঋণ এখন রাষ্ট্রের সংকট

সৌদিতে হুতিদের হামলা : কী করবে পাকিস্তান

ঢাবিতে শিক্ষার্থী নিহত ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইল ও তার প্রধানমন্ত্রীদের প্রকৃত পরিচয়

বাংলাদেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিসর নির্মাণের লড়াই

ইরানের দ্বিতীয় যুদ্ধক্ষেত্র

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা

বিদেশি মদতপুষ্ট দলের তৎপরতা

শিক্ষিত? দক্ষ? উচ্চাকাঙ্ক্ষী? পাচারকারীরা আপনাকেই খুঁজছে

নতুন বাংলাদেশ ও শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক পুনর্গঠন