নেপাল সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষীরা একজন নেপালিকে হত্যা করার ঘটনায় পুরো নেপাল প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল। নেপালিদের প্রতিবাদের শক্তির সামনে আত্মসমর্পণ করে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল সে সময়।
অথচ বাংলাদেশ সীমান্তে দশকের পর দশক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা। ভারত-সমর্থিত আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে কার্যত উদাসীন ছিল। সে সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের পক্ষ নিয়ে ব্যাখ্যা করেছিলেন, কেন এটিকে সীমান্ত হত্যা বলা যাবে না।
সম্প্রতি বিএনপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেন একই ভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করলেন, কেন একে বর্ডার কিলিং বলা যাবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন শাস্ত্রের মেধাবী ছাত্র। সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে এরই মধ্যে অনেক ব্যুৎপত্তি প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু সীমান্ত হত্যা নিয়ে যে ব্যাখ্যা ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়ার কথা; তা ওনাকে কেন দিতে হবে, সেটা সত্যিই বোধগম্য নয়। পররাষ্ট্র কৌশলের মৌলনীতি যেখানে সবার আগে বাংলাদেশ; সেখানে আইন শাস্ত্রের ছাত্র হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরং এই প্রশ্ন মনে জাগা উচিত ছিল, নেপাল, চীন ও পাকিস্তান সীমান্তে যেখানে ভারতের সীমান্তরক্ষীরা সীমান্ত হত্যা থেকে বিরত থাকে; সেখানে বাংলাদেশ সীমান্তে কেন তাদের রক্ততৃষ্ণা বেড়ে যায়!
সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সদ্য বিদায়ি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী কালচারাল মুভমেন্টের নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ইঙ্গিত দিয়ে; দিল্লির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্ধৃত করে সাক্ষ্য দিলেন, ‘কাকে দিয়ে হত্যা করিয়েছেন; সবই জানি;’ তখন স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লির কাছে একটা ক্ল্যারিফিকেশন চাওয়া উচিত ছিল। কারণ ভারত তো নানা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ক্ল্যারিফিকেশন চেয়ে থাকে।
অথচ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মমতা ব্যানার্জি নির্বাচনে হেরে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কি মন্তব্য করেছেন, তা বিবেচনার বিষয় নয় বলে বিষয়টিকে উড়িয়ে দিলেন। এ রকম প্রতিক্রিয়া ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আসার কথা।
অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা একটি টকশোতে মমতার সাক্ষ্যমূলক বক্তব্যটিকে একইভাবে উড়িয়ে দিলেন।
অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব প্রশ্নের উত্তর ভারতের স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দিতে হয়; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেসব প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বুদ্ধিজীবীরা দিয়ে দেন কেন, তা সত্যিই এক বিস্ময়কর ব্যাপার।
ভারতের প্রতিটি আগ্রাসনমূলক কাজকে জাস্টিফাই করার জন্য কিছু বাংলাদেশি মিডিয়া টকশো, সংবাদপত্রের উপসম্পাদকীয় ও ফেসবুকের জাস্টিফিকেশনমূলক পোস্ট সক্রিয় থাকে। এ রকম ঘটনার যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার চেয়ে অনেক শক্তিশালী। আশির দশকে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রম দিতে যাওয়ার সুযোগ বিস্তৃত হওয়ার পর আর নব্বই দশকের গোড়ায় গার্মেন্টসশিল্প বিকশিত হওয়ায় বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বাড়তে থাকে। সেই মাথাপিছু আয় ভারতের চেয়ে বেশি। মাথাপিছু আয় যেখানে বেশি, সেখান থেকে মানুষ মাথাপিছু আয় কম যে দেশে সেখানে যাবে; এ রকম ঘটনা পৃথিবীতে বিরল।
কিন্তু ভারতের দাবি, অসংখ্য বাংলাদেশি ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছে। ভারত তার সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সংস্কার করা নাগরিক আইনে ঘোষণা দিয়েছে; প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে যাওয়া হিন্দুদের তারা নাগরিকত্ব দেবে। আর বিদেশি তকমা দিয়ে ‘মুসলমান’দের তারা রাষ্ট্রহীন ঘোষণা করেছে। ভারতের বর্তমান হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনটি ‘অবৈধ বাংলাদেশি মুসলমান’ তকমা দিয়ে ডেমোগ্রাফি বা জনমিতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে; ভারতীয় মুসলমানদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপির নির্বাচনি বিজয় নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন রাজ্যে।
‘অবৈধ বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে মুসলমানদের আসামে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, রাতের আঁধারে তারা মুসলমানদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করেন। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে বিপুলসংখ্যক মুসলমানদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগে বিজেপি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে। আর বিজয়ী হয়েই মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশইনের দক্ষযজ্ঞ বাধিয়েছে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম, পশ্চিম ও দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সীমান্তজুড়ে স্থানে স্থানে মুসলমান পরিবারগুলোয় ‘নো ম্যান’স ল্যান্ডে’ ফেলে যাচ্ছে। রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে আবালবৃদ্ধবনিতা খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার প্রহর কাটাচ্ছে।
বাংলাদেশ ছোট আয়তনের জনবহুল একটি দেশ। ভারতের মুসলমানদের ঠায় দেওয়ার মতো তিল ধারণের জায়গা এখানে নেই। ভারত নিজ দেশের অভ্যন্তরে ইসরাইলের অনুসরণে মুসলমানদের এথনিক ক্লিনজিংয়ের কাজটি নিয়মিতভাবে করে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশকে ‘প্যালেস্টাইন ল্যাবরেটরিতে’ পরিণত করার আকাঙ্ক্ষা তাদের বহু দশকের পরিকল্পনা।
আওয়ামী লীগকে একটি ভারতীয় আধা হিন্দুত্ববাদী দল হিসেবে তিল তিল করে গড়ে তোলা হয়েছিল দিল্লির কল্পিত ‘অখণ্ড ভারত’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কালচারের মেকআপ চড়িয়ে আধা হিন্দুত্ববাদী প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়া গড়ে তুলেছে তারা; সংকটকালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের স্বার্থের পক্ষে কাজ করার জন্য।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ভারত সমর্থিত হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের প্রশাসন, গদি মিডিয়া ও হিন্দুত্ববাদী বুদ্ধিজীবী বলয়কে অপ্রকৃতিস্থ আচরণ করতে দেখা গেছে। ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশে ভারতীয় সেনা অভিযানের হুমকি ও উসকানি দিয়েছে।
ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারটি দ্রুত আমেরিকা-চীন-তুরস্ক ও চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে একটা ডিটারেন্স তৈরি করেছে। ইউনূস ভারতের সঙ্গে একটা ওয়ার্কিং রিলেশন রাখতে চেষ্টা করলেও; হাসিনা হারানোর বেদনায় ভারত একপেশে বৈরিতার নীতি অনুসরণ করে।
এতকাল দিল্লি যে বিএনপিকে অপছন্দের চোখে দেখেছে; তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে ব্রতী হয়। বাংলাদেশে ভারতের যে রাজনৈতিক রেটোরিকের অভিধান, সেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ৭২-এর সংবিধান আর অসাম্প্রদায়িক চেতনা শব্দাবলি নিয়মিত উচ্চারণ করে ‘আপনার এঁকে দেওয়া লক্ষ্মণরেখার মাঝেই আছি’—এমন সিগন্যালিং করতে হয়। বিএনপির ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যরা বাংলাদেশের মানুষকে ‘রাজাকার’ ডেকে ও ‘পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে’ হাসিনার তকমার রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে থাকে। ফলে বিএনপিকে ঘিরে গভীর ভালোবাসায় আলুথালু হতে থাকে দিল্লি।
কিন্তু ক্ষমতায় এসে বিএনপি আমেরিকা-চীন-তুরস্কের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধরে রাখায় দিল্লি অভিমানী হতে থাকে। ভারত-সমর্থিত আওয়ামী লীগের সময় পাকিস্তানের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সম্পর্ককে অন্তর্বর্তী সরকার খানিকটা স্বাভাবিক অবস্থায় এনেছিল। ভারতের আশা ছিল বিএনপি ক্ষমতায় এসে সে সম্পর্ক আবার বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। এ ক্ষেত্রে আশানুরূপ বিচ্ছিন্নতা লক্ষ না করে ভারত ও বাংলাদেশে আধা হিন্দুত্ববাদী কালচারাল প্রতিষ্ঠান এবং গদি মিডিয়া অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েছে।
ভারত চায়, চীন-তুরস্ক এদের কাছ থেকে কোনো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ না করে; বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষার জন্য নির্ভর করবে ভারতের ওপর। দিল্লির আকাঙ্ক্ষা, বাংলাদেশ আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি বন্ধুত্ব করা অনুচিত। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত হবে আমেরিকার মুখপাত্র। আর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি চলবে ভারতের অঙ্গুলি হেলনে। ভারতের চিরশত্রু পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের স্বরে কথা বলতে হবে বাংলাদেশকে।
স্বাধীন বাংলাদেশে সার্বভৌমত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠিত করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি একাত্তরে এই সার্বভৌমত্বের জন্য পাকিস্তানের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়েছেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তাকে লড়তে হয়েছে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। তার মানে আমৃত্যু তিনি মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন; দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই যিনি জাতির কাঙ্ক্ষিত চেতনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবনব্যাপী লড়াইটি ছিল গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই।
তাদের প্রতিষ্ঠিত ও লালিত রাজনৈতিক দল বিএনপি নিজ দেশের সীমান্তের বাইরের প্রভুত্ব মেনে নেবে না, এটাই স্বাভাবিক। সৎ প্রতিবেশীসুলভ আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক আধুনিক পৃথিবীর মৌলনীতি। কিন্তু ভারত বাংলাদেশকে পেতে চায় ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অধীন জমিদারির তালুক হিসেবে। একবিংশ শতকে এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হওয়া অসম্ভব।
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার দিল্লির প্রভুত্ব মেনে নিয়ে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে আওয়ামী লীগের মতো ভারতের সঙ্গে ‘স্বামী-স্ত্রী’-এর সম্পর্কে উপগত না হওয়ায়; ভারত পুশইনের চোখ রাঙানি নিয়ে হাজির হয়েছে। যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থানের আগেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের জন্য বড্ড উতলা হয়েছে সে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আধা হিন্দুত্ববাদী কালচারাল প্রতিষ্ঠান ও গদি মিডিয়া আওয়ামী ভূতটিকে টক অব দ্য কান্ট্রি করে রাখতে চেষ্টা করছে। তারা ভাবছে, ১৯৭৫-এরপর একুশ বছর দুই নয়নের জলে ভিজিয়ে রেখে ১৯৯৬ সালে যেভাবে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ঘটানো গিয়েছিল; এবার দুই বছরের নয়ন জলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে। গ্রিক দার্শনিক হেরাক্লাইটাস বলেছিলেন, কেউ একই স্রোতে দুবার সাঁতার দিতে পারে না। কিন্তু ভারতীয় দার্শনিক চাণক্য বলেছেন, ছলে-বলে-কৌশলে প্রতিবেশী রাজ্যকে পদানত করতে হবে।
আওয়ামী লীগ আমলের লুণ্ঠন ও পাচারে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে আছে। এর শক্তি ফিরিয়ে আনতে বিএনপিকে বেশ বেগ পেতে হবে। বিদ্যুৎ খাতে আওয়ামী লীগের গড়ে তোলা দেশ লুণ্ঠনের আখড়া উচ্ছেদে সরকারকে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাঝ দিয়ে যেতে হবে। হাসিনার দেড় দশকে গুম-খুন-ক্রসফায়ার-জঙ্গি অভিযানের মঞ্চস্থ নাটক-আয়নাঘরে অকথ্য নির্যাতনের মাধ্যমে আইনের শাসন লুপ্ত হয়েছে। ফলে জুলাই বিপ্লবের পর মুক্তি পাওয়া জনমনস্তত্ত্বে আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সঙ্গী হয়ে পুলিশ-প্রশাসন ও বিচার বিভাগ গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাদের ওপর নাগরিক আস্থা ফিরে আসা সময়সাপেক্ষ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী দলের একটি সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সরকারি ও বিরোধী দলের যে প্রতিপক্ষতার সম্পর্ক থাকে; বিশেষ পরিস্থিতিতে সেই প্রতিপক্ষতা অযৌক্তিক দেখায়।
ভারতের চলমান ‘পুশইন আগ্রাসন’-এর মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্বেষ ও মুসলিমবিদ্বেষ এই দুই ধরনের মনস্তত্ত্ব দৃশ্যমান। সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ সীমান্তরক্ষীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই ‘পুশইন’ আগ্রাসন প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকে তাকালে আপনি লক্ষ করবেন, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নির্লিপ্ত একটি জনগোষ্ঠী। এ ধরনের লোক ইরানেও রয়েছে—ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় নির্লিপ্ত থেকে যারা বিশ্বাস করত সাবেক শাসক শাহের ছেলে রেজা শাহ পাহলভি ফিরে আসবেন ক্ষমতায়। ‘হাসিনা ফিরে আসবেন’ আর ‘পাহলভি’ ফিরে আসবেন—একই ধরনের মানসিক রোগের দুটি উদাহরণ মাত্র। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এমন লোকের সংখ্যা অজস্র; আর তারা মিডিয়া ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগৎজুড়ে রয়েছে; এই আত্মবিশ্বাসের কারণে ভারত আরো জোরেশোরে ‘পুশইন’ আগ্রাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আত্মসমর্পণ করা চাইছে; যাতে সে তার কল্পিত ‘ছায়া উপনিবেশ’ আর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমিদারি ফেরত পেতে পারে।
লেখক : এডিটর ইন চিফ, ই-সাউথএশিয়া