হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি ও বেকারত্ব

ছাদেকুর রহমান

চার থেকে ছয় বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, পরিবারের বিপুল ব্যয়, তারপর হাতে সনদ। কিন্তু চাকরির ইন্টারভিউতে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, ‘গুগল অ্যানালিটিকস ব্যবহার করতে পারেন?’—উত্তর ছিল নীরবতা। সেই নীরবতা আসলে একটি পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিধ্বনি।

প্রতিবছর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে লাখ লাখ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ বলছে, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ১২ শতাংশ, যা অষ্টম শ্রেণি পাস শ্রমিকদের বেকারত্বের হারের চেয়েও বেশি। এই বিচিত্র বাস্তবতার কারণ খুঁজতে দূরে যেতে হয় না—সমস্যাটা পাঠ্যক্রমের ভেতরেই গেঁথে আছে।

‘নিয়োগকর্তা এখন জিজ্ঞেস করেন না, কী পড়েছো; তিনি জানতে চান, কী করতে পারো।’

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রম এখনো বহু দশক আগের ছাঁচে ঢালা। ক্লাসরুমে মুখস্থ, পরীক্ষায় নম্বর—এটুকুই শিক্ষার সংজ্ঞা হয়ে গেছে। অথচ বাইরের দুনিয়া কবেই বদলে গেছে। একজন মার্কেটিংয়ের স্নাতক ফেসবুক ক্যাম্পেইন চালাতে জানেন না, কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র একটি অ্যাপ ডিপ্লয় করতে পারেন না—এটা ব্যক্তির দোষ নয়, এটা ব্যবস্থার দেউলিয়াপনা।

বিশ্বব্যাংকের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় শিল্পের চাহিদার সঙ্গে পাঠ্যক্রমের ব্যবধান একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকট।

কর্মবাজার এখন এসইও, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডেটা অ্যানালিটিক্স চায়; আমাদের ক্লাসরুম দেয় তত্ত্ব আর পুরোনো কেস স্টাডি। ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ফলে ডিগ্রিধারী তরুণ ইন্টারভিউ বোর্ডে বসে থাকেন আর পাশের চেয়ারে বসা যে ছেলেটির প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং করে দক্ষতা গড়ে তুলেছেন, তিনি চাকরিটি পেয়ে যান। ঢাকায় একজন সদ্য স্নাতকের গড় শুরুর বেতন ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা, যা দিয়ে বাসাভাড়া, যাতায়াত ও খাবার চালানো কার্যত অসম্ভব। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, এই সামান্য বেতনের চাকরিটুকুও অনেকে পাচ্ছেন না। পরিবারের স্বপ্ন, সন্তানের বছরের পর বছরের পরিশ্রম—সব মিলিয়ে যে হতাশা জমে, সেটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, গভীরভাবে মানবিকও।

পথ আছে, কিন্তু ইচ্ছা চাই। প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক প্র্যাকটিক্যাল কোর্স বাধ্যতামূলক করতে হবে। ইন্টার্নশিপকে কাগুজে আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মূল্যায়নের অংশ করতে হবে। সরকার ও বেসরকারি খাত মিলে একটি জাতীয় দক্ষতা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আর শিক্ষার্থীদেরও বুঝতে হবে—ডিগ্রি একটি দরজা মাত্র; সেই দরজা পেরোনোর চাবিকাঠি হলো দক্ষতা। আজ থেকেই অনলাইন কোর্স, পোর্টফোলিও ও প্রজেক্টে বিনিয়োগ শুরু করতে হবে।

জ্বালানি কূটনীতির রোডম্যাপ

উচ্চশিক্ষায় সংস্কার ও শিক্ষক নিয়োগের রাজনীতি

যুদ্ধবিরতির আড়ালে কি সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে আস্থা ও বাস্তবতা

ইরান যুদ্ধ : অর্থনীতি ও কূটনীতির নতুন সমীকরণ

হামের প্রকোপ : সতর্কবার্তা

সংকটের পুনরাবৃত্তি না স্থিতিশীলতার পথ

বিজেপির কোপানলে মুসলিম ভোটার

বিএনপি কখনোই আওয়ামী লীগ হবে না

সরকারের মধুচন্দ্রিমায় গ্রহণ লাগার শঙ্কা