বাঙালির রাজনৈতিক ও সামাজিক জাগরণের ইতিহাসে এক অবিসংবাদিত নাম শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২)। আজ যখন আমরা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াই, তখন আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে—এই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তিপ্রস্তরটি স্থাপিত হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে, সেই মানুষটির হাত ধরে, যাকে ভালোবেসে পুরো বাংলা ‘শেরেবাংলা বা বাংলার বাঘ’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। শেরেবাংলার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি ছিলেন মেহনতি মানুষের পরম বন্ধু। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলার কৃষক যখন মহাজনদের চক্রবৃদ্ধি সুদের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিলেন, তখন ফজলুল হক আবির্ভূত হন এক ত্রাণকর্তা হিসেবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বর্তমানে সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তিবন্দনার আতিশয্যে শেরেবাংলার চর্চায় ভাটা পড়েছে। পাঠ্যপুস্তকে তাকে শুধু ‘লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক’ হিসেবে সংক্ষিপ্ত করে ফেলা হয়েছে। তার বৈপ্লবিক অর্থনৈতিক সংস্কারগুলোর গভীর বিশ্লেষণ আজ নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপস্থিত।
বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন (Bengal Tenancy Act) সংশোধন : ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর থেকে কৃষকরা জমির ওপর তাদের অধিকার হারিয়ে ফেলেছিল। জমিদাররা যখন খুশি কৃষককে জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারতেন এবং খাজনা বাড়াতে পারতেন। ১৯৩৭ সালে ক্ষমতায় আসার পর ১৯৩৮ সালে ফজলুল হক প্রজাস্বত্ব আইনের ব্যাপক সংশোধন করেন। খাজনা বাকি থাকলেও আদালত বা যথাযথ কারণ ছাড়া জমিদাররা আর কৃষকদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারতেন না। পরবর্তী ১০ বছরের জন্য খাজনা বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করা হয়। আগে জমি হস্তান্তরের সময় জমিদারকে যে বিশাল অঙ্কের ‘সেলামি’ দিতে হতো, তা বাতিল করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে কৃষকরা প্রথমবারের মতো জমির ওপর অনেকটা স্থায়ী মালিকানা ও দখলিস্বত্ব ফিরে পান।
বাংলার কৃষকদের চূড়ান্ত মুক্তির জন্য ফজলুল হক জানতেন যে, মধ্যস্বত্বভোগী জমিদারি প্রথার বিলোপ অনিবার্য। জমিদারি প্রথা বিলোপের যৌক্তিকতা যাচাই করার জন্য ১৯৩৮ সালে তার সরকার ‘ফ্লাউড কমিশন’ গঠন করে। এই কমিশন সুপারিশ করে, জমিদারি প্রথা সেকেলে হয়ে গেছে এবং এটি বিলুপ্ত করে সরকারের সঙ্গে সরাসরি কৃষকের সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত। ১৯৩৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ‘বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ডেটরস অ্যাক্ট’ কার্যকর করেন। এর মাধ্যমে গঠিত ঋণ সালিশি বোর্ড প্রায় ৮০ কোটি টাকার মহাজনি ঋণ মকুব করে নিঃস্ব কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলার কৃষকরা মূলত মহাজনি ঋণের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিলেন। সুদের হারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ফলে অনেক সময় সুদের টাকা আসলকে ছাড়িয়ে যেত। তিনি বিশ্বাস করতেন, জমির মালিক হবেন তিনিই—যার হাতে লাঙল। তৎকালীন অনগ্রসর, বিশেষ করে মুসলিম সমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে তার অবদান তুলনাহীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান মাওলানা আজাদ কলেজ), লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ এবং ইডেন কলেজের উন্নয়নে তার অগ্রণী ভূমিকা বাঙালির শিক্ষা আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার আমলেই প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার প্রাথমিক ভিত্তি রচিত হয়।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন। লাহোর প্রস্তাবে তিনি যখন উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবি উত্থাপন করেন, তখন তিনি শুধু একটি প্রস্তাবই পড়েননি, বরং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির মানচিত্র বদলে দেওয়ার সূত্রপাত করেছিলেন। এই প্রস্তাবটি ছিল উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমির রূপরেখা। এই প্রস্তাবের মাধ্যমেই তৎকালীন রাজনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন আসে, যা পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সৃষ্টি এবং পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পটভূমি তৈরিতেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তার রাজনীতির মূল সুর ছিল অসাম্প্রদায়িকতা। তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ গঠন করেছিলেন।
ফজলুল হক ছিলেন এক অনন্য রাজনৈতিক জাদুকর। ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক তবে মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এমএজি ওসমানী বা জিয়াউর রহমানের মতো পরবর্তী প্রজন্মের বরেণ্য নেতারা বাঙালির ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। কিন্তু সত্য এই যে, শেরেবাংলার হাত ধরেই বাঙালির যে রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি হয়েছিল, সেই মঞ্চেই পরবর্তী মহানায়করা তাদের সংগ্রামের ফসল ফলিয়েছেন। শেরেবাংলার চর্চায় ভাটা পড়ার কারণগুলো বিশ্লেষণ করার দাবি রাখে—
ক. আমাদের বর্তমান ইতিহাসচর্চায় প্রায়ই ‘গ্রেট ম্যান থিওরি’ (একক কোনো মহামানবের মাধ্যমে ইতিহাস পরিবর্তন) অনুসরণ করা হয়। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট সময়কাল বা একজন নির্দিষ্ট নেতাকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ জাতীয় সত্তাকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা চলে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার নেতৃত্ব যখন পাঠ্যপুস্তকের প্রধান উপজীব্য হয়, তখন তার আগের প্রজন্মের নেতা যেমন শেরেবাংলা বা সোহরাওয়ার্দীর অবদানকে শুধু ‘ভূমিকা’ বা ‘পটভূমি’ হিসেবে দেখা হয়। অথচ শেরেবাংলা না থাকলে বাংলার কৃষক সমাজ শিক্ষিত বা অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হতো না, যা ছাড়া স্বাধীনতার আন্দোলনই সম্ভব ছিল না।
খ. বাংলাদেশে ইতিহাসচর্চা অনেকাংশেই রাজনৈতিক দলগুলোর পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতি প্রধানত বড় দুটি রাজনৈতিক বলয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা জিয়াউর রহমান—তাদের প্রত্যেকের পেছনে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল রয়েছে, যারা তাদের আদর্শ ও স্মৃতিকে প্রতিনিয়ত চর্চায় রাখে। কিন্তু শেরেবাংলার ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ কিংবা ‘যুক্তফ্রন্ট’ বর্তমান রাজনীতিতে সরাসরি কোনো উত্তরাধিকারী দল হিসেবে সক্রিয় নেই। ফলে তার রাজনৈতিক কৃতিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করার মতো লোকবলের অভাব রয়েছে।
গ. বর্তমান পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের পরিধি অনেক বড়। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিককাল পর্যন্ত পড়াতে গিয়ে লেখকরা প্রায়ই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরেন। পাঠ্যপুস্তকে শেরেবাংলাকে প্রায়ই শুধু ‘লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক’ বা ‘শেরেবাংলা’ উপাধিপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি কীভাবে ঋণ সালিশি বোর্ডের মাধ্যমে একটি জাতিকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন কিংবা তার অসাম্প্রদায়িক সংসদীয় রাজনীতি কীভাবে কাজ করত, তার গভীর বিশ্লেষণ পাঠ্যক্রমে অনুপস্থিত।
ঘ. আমাদের বর্তমান জাতীয় চেতনা মূলত ১৯৭১-কেন্দ্রিক। এর ফলে ১৯৪৭-পূর্ববর্তী সময়ের সংগ্রামগুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে কিছুটা ‘দূরের ইতিহাস’ মনে হয়। মওলানা ভাসানী, এমএজি ওসমানী বা শেরেবাংলার মতো নেতারা, যারা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন বা মুসলিম রেনেসাঁয় নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অবদানকে অনেক সময় ‘পুরোনো আমলের’ বলে গুরুত্বহীন ভাবা হয়। এর ফলে পাঠ্যবইয়ে তাদের জন্য বরাদ্দ করা পাতার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমছে। ইতিহাসের এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘ মেয়াদে জাতির জন্য ক্ষতিকর। একজন বা দুজন নেতাকে অত্যধিক চর্চা করলে নতুন প্রজন্ম মনে করতে পারে যে, দেশ বা জাতির উন্নয়ন শুধু একজনের মাধ্যমেই হয়েছে। এটি সমষ্টিগত সংগ্রামের ইতিহাসকে অস্বীকার করে।
ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না—এই অমোঘ সত্য আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো একজন কালজয়ী নেতার আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু ভাবাবেগ যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ। উত্তরণের পথগুলো আমরা কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করে আলোচনা করতে পারি—
১. শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠ্যক্রমের আমূল সংস্কার : নতুন প্রজন্মের মনে শেরেবাংলার বীজ বপন করতে হলে এখান থেকেই শুরু করতে হবে। শুধু সাধারণ জ্ঞান হিসেবে নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ইতিহাস এবং সমাজবিজ্ঞান বইয়ে শেরেবাংলার অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর পৃথক এবং বিস্তারিত অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কেস স্টাডি হিসেবে অন্তর্ভুক্তি : উচ্চশিক্ষায় (বিশেষ করে, রাজনীতি বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও আইন বিভাগে) ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’ এবং ‘প্রজাস্বত্ব আইন’কে দক্ষিণ এশিয়ার সফলতম ভূমি ও কৃষি সংস্কারের মডেল হিসেবে পড়ানো উচিত। গবেষণা ফেলোশিপ : সরকারি উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ‘শেরেবাংলা গবেষণা চেয়ার’ স্থাপন করা এবং তার রাজনৈতিক জীবন ও দর্শন নিয়ে পিএইচডি বা উচ্চতর গবেষণার জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা।
২. রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তি বা দলের ঊর্ধ্বে উঠে শেরেবাংলাকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাভারে বা ঢাকায় তার নামে একটি অত্যাধুনিক এবং সমৃদ্ধ জাদুঘর ও লাইব্রেরি স্থাপন করা প্রয়োজন, যেখানে তার ব্যবহৃত দ্রব্যাদি, দুর্লভ চিঠিপত্র এবং রাজনৈতিক নথি সংরক্ষিত থাকবে। প্রতিবছর তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় শেরেবাংলা স্মারক বক্তৃতা’র আয়োজন করা, যেখানে দেশ-বিদেশের বরেণ্য ইতিহাসবিদরা তার অবদানের ওপর আলোকপাত করবেন। কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার বা অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে বিশেষ অবদানের জন্য শেরেবাংলার নামে জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননা প্রবর্তন করা যেতে পারে।
৩. আধুনিক মাধ্যম ও প্রযুক্তির ব্যবহার : তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে হলে বইয়ের পাতার বাইরেও ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করতে হবে। শেরেবাংলার বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে উচ্চমানের বায়োপিক বা ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করা যেতে পারে। তার বাঘের মতো গর্জনকারী ভাষণগুলোর পুনর্নির্মাণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা জরুরি। একটি সেন্ট্রাল ওয়েব পোর্টাল তৈরি করা, যেখানে শেরেবাংলার যাবতীয় কাজ, ভাষণ এবং সমকালীন সংবাদপত্রের কাটিং ডিজিটাল ফরম্যাটে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ভার্চুয়াল মিউজিয়াম : ভিআর (VR) প্রযুক্তির মাধ্যমে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত বা ১৯৩৭-এর সেই তেজস্বী বক্তৃতার ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরি করা যেতে পারে।
৪. রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিতে রূপান্তর : রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির সংকীর্ণতা কাটিয়ে শেরেবাংলার আদর্শকে ধারণ করা। রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বীকার করতে হবে, আজকের বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের পেছনে শেরেবাংলার কৃষক আন্দোলনের একটি বিশাল অবদান রয়েছে। জাতীয় অনুষ্ঠানে সব বড় নেতার পাশাপাশি তার ছবি ও অবদানের উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা। শেরেবাংলা ছিলেন গ্রামের মানুষের নেতা। তাই জেলা ও উপজেলাপর্যায়ে তার নামে পাঠাগার, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং মেলা আয়োজন করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে তার বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।
৫. অসাম্প্রদায়িকতা ও সমন্বয়ের দর্শনের প্রচার : বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে শেরেবাংলার অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রচার অত্যন্ত জরুরি। তিনি কীভাবে মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের বাইরে গিয়ে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য বজায় রেখে মন্ত্রিসভা চালিয়েছিলেন, সেই ‘সমন্বয়ের রাজনীতি’কে বর্তমান সংঘাতময় রাজনীতির বিকল্প সমাধান হিসেবে তুলে ধরা।
শেরেবাংলাকে বিস্মৃতির অন্তরাল থেকে বের করে আনা শুধু তার প্রতি সম্মান জানানো নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় অস্তিত্বকে রক্ষা করার লড়াই। তিনি যে মেহনতি মানুষের জয়গান গেয়েছিলেন, সেই মানুষকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনাই হবে তার চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করার শ্রেষ্ঠ উপায়। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক শুধু ইতিহাসের কোনো নাম নন; তিনি একটি দর্শন, একটি শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন। তাকে ভুলে যাওয়া মানে হলো বাঙালির নিজের শিকড়কে অস্বীকার করা। আজ সময় এসেছে ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে তার সেই অকুতোভয় নেতৃত্বকে আবার চিনে নেওয়ার। শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে শেরেবাংলা আজও আমাদের শ্রেষ্ঠ আলোকবর্তিকা, যা প্রাপ্য, তাকে সেই মর্যাদা দিয়ে ইতিহাসকে পরিশুদ্ধ করার দায়িত্ব আমাদেরই। বাংলার বাঘকে শুধু সমাধিস্থলে নয়, ফিরিয়ে আনতে হবে জাতীয় চেতনার মজ্জায়।
লেখক : সাবেক উপদেষ্টা, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, অন্তর্বর্তী সরকার
drkhalid09@gmail.com