হোম > পাঠকমেলা

জগন্নাথে ফুল ফুটল

নাজমুল হুসাইন

১১ জানুয়ারি শনিবারের স্নিগ্ধ দুপুর। আকাশ ভেঙে রোদ নেমেছে। এই সুন্দর সময়ে একে একে আসতে শুরু করলেন তারা। বসলেন গোল হয়ে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে, শহীদ মিনার চত্বরে। মোট ১৪ জন। তারা হলেন—নাজমুল হুসাইন, পারভেজ রানা, নাইমুর রহমান, আয়াতুল্লাহ আল মাহমুদ, মেজবাহ আহমেদ মারুফ, কাইয়ুম শরীফ, কামরুল হাসান, ফাহিম হাসনাত, হাবিবুল বাশার সুমন, তাসমিয়া রশিদ মালা, আকরাম খান, রিয়ন খান, রাকিব শেখ ও জিহাদ ইসলাম শাওন।

প্রত্যেকেই তারা সৃজনশীল, কোনো না কোনো কাজের কাজি। শুরুতেই যখন জানিয়ে দেওয়া হলো—পাঠকমেলা তাদের ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু করেছে, খুব খুশি হলেন তারা সবাই। আরও অনেককে জড়ো করবেন স্বাভাবিকভাবেই। আবার আমার দেশ পাঠক মেলা এসেছে—নিজেরা লিখবেন, নানা ধরনের কাজ করবেন বললেন। বলেছেন আলাপের মাঝখানে। লেখক, পাঠক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করবে পাঠকমেলা। অনেক কাজ করবেন মানুষের কল্যাণে, তাও বলতে ও প্রতিশ্রুতি দিতে ভুললেন না কেউই। উদ্যমী এই ছেলেমেয়েদের কথায় বোঝা গেল, একটি নতুন জাগরণের সূচনা হয়েছে তাদের ক্যাম্পাসে। লেখালেখির নতুন একটি বড় জায়গা তৈরি হয়েছে।

তারা কথা দিলেন নানা রকমের লেখা দেবেন। কখনও গল্প লিখবেন, কখনও কবিতা। আবার কখনওবা অন্য ধরনের লেখা দিয়ে চমকে দেবেন বাকিদের। সমাজের উন্নতিতে কাজ করবেন, গরিবের পাশে দাঁড়াবেন বন্ধু হয়ে, অসহায়ের জন্য কাজ করবেন বিনা স্বার্থে। পরিবেশের জন্য খাটবেন, মানবতার জন্য লড়বেন।

পরামর্শ দিয়েছেন তারা, প্রতি মাসে একটি পাঠচক্র করলে কেমন হয়? এরপর নিজেরাই সায় দিয়েছেন আপনা থেকে, দারুণ হয়। ফলে পাঠচক্রের আইডিয়াটি কনফার্ম হয়ে গেল। পত্রিকা পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পাঠকমেলা কাজ করবে। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতেও কাজ করবে সংগঠনটি। এর বাইরে ভ্রমণগল্প, ফিচারে লেখা প্রকাশ, নিজেদের আঁকা ছবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিনলিপি প্রভৃতি বিষয়ে যেহেতু তারা নিয়মিত লেখালেখি করেন, তাই সেগুলো আমার দেশ পাঠকমেলা পাতায় প্রকাশের আগ্রহ জানালেন।

এই আলাপে অংশ নিয়ে পাঠকমেলার বন্ধু তাসমিয়া রশিদ মালা বলেন, “দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ‘পাঠকমেলা’ পাতায় লেখার মাধ্যমে আমরা নিজেদের মনের গভীর অনুভূতি প্রকাশ করতে পারব। আমি ছবিও আঁকি, নানারকম জল্পনা-কল্পনার মাধ্যমে নানা দৃশ্য কেবল মনের মাঝে রয়ে যায়। লেখার সঙ্গে, একই সঙ্গে ছবির মাধ্যমে মনের ওই কথাগুলো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে। তাতে সব পাঠকের লেখার প্রতি মনোযোগ বাড়বে আর পাঠক লেখাটি পড়ার প্রতি আগ্রহ অনুভব করবেন। লেখাটি বুঝতে ও পাতার সৌন্দর্য বাড়াতে আঁকা ছবি দারুণ ভূমিকা রাখবে।” আরেকটি পরামর্শ দিয়েছেন ফাহিম হাসনাত—‘আমরা পাঠক মেলায় পড়া বইগুলোর রিভিউ করতে পারি। এমনকি কারও মৃত্যুবার্ষিকী বা জন্মদিনের খবরও দিতে পারি অবলীলায়। এর ফলে আমাদের জানার পরিধিই বাড়বে। আয়াতুল্লাহ আল মাহমুদের পরামর্শ ছিল—‘স্মৃতিচারণের কথাও আমরা বলতে পারি তার এলাকায় গিয়ে। আর আমাদের কাজ ও ভাবনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র-ছাত্রী ধীরে ধীরে জানাতে পারবে। তাতে তারা যেমন আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ বোধ করবে, তেমনি জানাও হবে তাদের অনেককিছু। এছাড়া নিজেদের মধ্যে সৃজনশীলতার চর্চা পাঠকমেলার মাধ্যমে করা যেতে পারে। সেগুলোর মধ্যে ছবি আঁকা, সাহিত্য করা ও গানের আসর থাকতে পারে।’

এই আলোচনায় বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনের নামে নাম একজন ছাত্র অংশ নিয়েছেন। হাবিবুল বাশার সুমন বলেছেন, ‘এই উদ্যোগের মূল কাজ হলো পাঠকদের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটানো, তাদের মেধাকে বিকশিত করা ও ভালো কাজগুলো পত্রিকার মাধ্যমে চালিয়ে যাওয়া। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও আসতে পারে এখানে। সুন্দর স্মৃতিগুলোকে তুলে ধরতে হবে আমাদের সবাইকে। ফলে পাঠকমেলা একটি বিশেষ পাতা হিসেবে মানুষের সামনে চলে আসবে। এলাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে লেখা যেতে পারে। এর ফলে পাঠকের মাধ্যমেই কোনো এলাকার ভালো দিকগুলো তুলে নিয়ে আসতে পারবে পাঠকমেলা।’ তারা জানালেন, প্রিয় বই, ছবি ও স্মৃতি তুলে ধরে পাঠকের পছন্দের ভুবনগুলো নিয়ে কাজের শুরু হতে পারে। পাঠকে এবং মানুষের সঙ্গে কাজের সূত্রধরও হতে পারে এই পাতাটি। নতুন একটি ভুবনের শুরু করতে পারি সবাই।

রাবি পাঠকমেলার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হই

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভাবনা

হাদির জন্য ভালোবাসা

বিজয় দিবসে ঢাকা আলিয়ায় পাঠচক্র ও দোয়া মাহফিল

হাদির সুস্থতা কামনায় রাজারহাটে ‘আমার দেশ পাঠক মেলা’র দোয়া

কবি নজরুল সরকারি কলেজের নতুন কমিটির পরিচিতি সভা

আমার দেশ পাঠক মেলার রংপুর মহানগর, জেলা ও বিভাগীয় কমিটি গঠন

সমাজের উন্নয়নে তোমাদের কাজ করতে হবে

ফররুখ উৎসব চলছে