হোম > পাঠকমেলা

অদম্য কুড়িগ্রাম গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

কুড়িগ্রামে আলো ছড়াচ্ছে

সাজ্জাদুর রহমান শিহাব

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মনোরম গ্রাম রণজিতেশ্বর। কৃষকের হাসিতে ভরা গ্রামের পরিবেশ। চারপাশে সবুজ মাঠ, বিল আর গ্রামীণ জীবনের সহজ সারল্য। এর মাঝেই জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ‘অদম্য কুড়িগ্রাম গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’।

প্রতিদিন সকাল কিংবা বিকালবেলায় একদল খুদে পাঠক আসে। টেবিলে সাজানো গল্পের বই, দেয়ালে দেয়ালে সারি সারি গল্প-উপন্যাস, জীবনী ও কবিতার বই। পাঠাগারে ঢুকলেই চোখে পড়ে বই হাতে কিছু তরুণ, যারা ছোটদের বই বাছাইয়ে সাহায্য করে। কেউ মজার গল্প পড়ে, কেউ রঙিন ছবিতে ডুবে থাকে, কেউ আবার নতুন শব্দ শেখার চেষ্টা করে।

স্থানীয় তরুণরা এখানে নিয়মিত আয়োজন করেন নানা ধরনের সৃজনশীল প্রতিযোগিতা ও পাঠচক্র। শিশুরা বইয়ের গল্পে নিজেরা অভিনয় করে আনন্দ পায়। এতে যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়ে, তেমনি গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক চেতনা।

পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন আমার দেশ পাঠকমেলা কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুবিন এবং ‘অদম্য কুড়িগ্রাম’-এর সভাপতি শাহ মো. সাকিফুজ্জামান সাকিফ (শাহ সাকিব)। তারা মনে করেন, জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে হলে বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে শিশু-কিশোরদের মধ্যে। সেই লক্ষ্যেই তারা অদম্য কুড়িগ্রাম পাঠাগার ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের সূচনা করেন।

‘অদম্য কুড়িগ্রাম’-এর সভাপতি শাহ মো. সাকিফুজ্জামান সাকিফ বলেন, ‘অদম্য কুড়িগ্রামের এই উদ্যোগ তরুণদের চিন্তা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের বাহক হবে। সেজন্যই আমরা এই পাঠাগার স্থাপন করেছি, যাতে তারা পড়ালেখা ও সাংস্কৃতিক চর্চার দিকে ঝোঁকে। এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের মধ্যে এমন মনোভাবই দেখছি। তাতে আমরা উৎসাহ পাচ্ছি। গৌরব অনুভব করছি।’

আমার দেশ পাঠকমেলা কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুবিন বলেন, ‘দেশের সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে পাঠচর্চায় গ্রন্থাগার সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আমাদের এই পাঠাগারও তেমন ভূমিকা পালন করছে। আমাদের স্থানীয় তরুণদের নিরলস পরিশ্রম, ইচ্ছাশক্তি ও স্বপ্নবাজ মনোভাবের ফলেই এই উদ্যোগ আজ বাস্তব রূপ পেয়েছে। স্থানীয় জনগণও এতে যুক্ত হয়েছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে—ঘরের শিশুদের তারা পাঠাগারে আসতে উৎসাহ দিচ্ছেন।’

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-ইমরান জানান, ‘এটি অবশ্যই একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এমন ইতিবাচক কাজে প্রশাসন সবসময় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায়।’

পাঠাগারে নিয়মিত আসেন শিশু থেকে প্রবীণ সবাই। কেউ গল্প পড়ে আনন্দ পান, কেউ পড়তে চান ইতিহাস, কারোবা পছন্দ বিজ্ঞান-ধর্ম প্রভৃতি।

আগে গ্রামের বাচ্চারা অবসর কাটাত মোবাইল বা টিভির সামনে, এখন তারা বইয়ের টানে আসে পাঠাগারে। এই পরিবর্তনই ‘অদম্য কুড়িগ্রাম’-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য।

উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন—কুড়িগ্রাম জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এমন পাঠাগার গড়ে তোলা। সেটা সম্ভব হলে এই উদ্যোগ কুড়িগ্রামের শিশুদের নতুন ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে, যেখানে অজ্ঞানতার অন্ধকার নয়, জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হবে পুরো জনপদ।

পাঠকমেলার সঙ্গে দেড় যুগ

ইতিহাসের ছায়ায় তরুণ লেখকদের ইফতার

গবিতে পাঠকমেলার যাত্রা শুরু

হাদির স্মরণে গ্রাফিতি

ইডেন কলেজে শাখা কমিটি গঠনের প্রস্তুতি

রাবি পাঠকমেলার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হই

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভাবনা

হাদির জন্য ভালোবাসা

বিজয় দিবসে ঢাকা আলিয়ায় পাঠচক্র ও দোয়া মাহফিল